📄 ইদ্দত
ইদ্দত: তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধন বিচ্ছিন্ন হওয়া অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর যে নির্দিষ্ট সময়কাল স্ত্রী অপেক্ষা করে এবং অন্যের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকে ঐ সময়কে ইদ্দত বলা হয়।
📄 ইদ্দতের বিধান
বিবাহের পর স্বামীর সাথে নির্জন বাস হলে তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছিন্ন হোক অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর প্রতিটি স্ত্রীর ইদ্দত পালন করা ফরজ। যাতে করে সন্তান প্রসব হওয়া অথবা কয়েক হায়েয অতিক্রম হওয়া অথবা কয়েক মাস অতিক্রম করার মাধ্যমে নিজ জরায়ুর সচ্ছতা প্রসঙ্গে জানতে পারে। আর এ বিবাহ বিচ্ছিন্নতা চাই তালাকের মাধ্যমে অথবা খোলা তালাকের দ্বারা অথবা অন্য যেভাবেই হোক না কেন সকল ক্ষেত্রে ইদ্দত পালন করা প্রযোজ্য।
📄 ইদ্দতের বিধান প্রবর্তনের রহস্য
১. জরায়ুর সচ্ছতা প্রসঙ্গে নিশ্চিত হওয়া, যাতে বংশে কোন রূপ সংমিশ্রণ না ঘটে।
২. তালাকদাতাকে কিছু সুযোগ দেয়া, যাতে অনুতপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে যেমন রাজ'য়ী তালাকে প্রযোজ্য।
৩. বিবাহ পদ্ধতির গুরুত্বারোপ করা হয়; কারণ এটি কতিপয় শর্ত ব্যতীত সংঘটিত হয় না অনুরূপ কিছু অপেক্ষা ও ধৈর্যধারণ ব্যতীত ভঙ্গও হয় না।
৪. স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনকে সম্মান প্রদর্শন করা; কারণ এ জীবন সহজেই অন্যের জন্য হয়ে যায় না, কিছু অপেক্ষা ও অবকাশের দরকার হয়।
৫. স্ত্রী যদি গর্ভবতী হয় তাহলে গর্ভের হেফাজত করা।
অতএব, ইদ্দতে চার প্রকারের হক বা অধিকার রয়েছে: আল্লাহর হক, স্বামীর হক, স্ত্রীর হক ও সন্তানের হক।
📄 ইদ্দতের আহকাম
স্ত্রীর সাথে সহবাসের আগেই যদি তালাক দেয়া হয়, তাহলে তার কোন ইদ্দত নেই। আর যদি মিলনের পরে তালাক দেয়া হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। কিন্তু সহবাসের আগেই বা পরে যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সর্বাবস্থায় স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও সদাচরণের জন্য চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতেই হবে। আর এমতাবস্থায় স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাবে।
১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন ঈমানদার মহিলাদেরকে বিবাহ কর। অত:পর তাদেরকে স্পর্শ করার আগেই তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নেই, তোমরা তাদেরকে কিছু দিয়ে দাও এবং তাদেরকে উত্তম পন্থায় বিদায় দাও।” [সূরা আহযাব: আয়াত-৪৯]
২. আল্লাহ তা'আলা আরো ঘোষণা করেন- "আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তখন তাদের স্ত্রীদের দায়িত্ব হলো, নিজেকে চারমাস দশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা। অত:পর যখন ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন নিজেদের প্রসঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না। আর তোমাদের যাবতীয় কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ ভালো করেই জানেন।" [সূরা বাকারা : ২৩৪]