📄 লি‘আনের পদ্ধতি
যখন কোন স্বামী নিজের স্ত্রীকে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অপবাদ আরোপ করবে এবং কোন প্রমাণ পেশ করতে পারবে না তখন তাকে (স্বামীকে) মিথ্যা অপবাদের শাস্তি প্রয়োগ করা হবে, তবে লি'আনের মাধ্যমে সে শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে।
📄 লি‘আনের পদ্ধতি নিম্নরূপ
১. সর্বপ্রথমে স্বামী চারবার বলবে: "আমি আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার এ স্ত্রীকে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার যে অপবাদ আরোপ করেছি, সে বিষয়ে আমি সত্যবাদী"। স্ত্রী হাযির থাকলে তার দিকে ইঙ্গিত করবে। আর পঞ্চমবার উক্ত সাক্ষ্য এর সাথে আরো বাড়িয়ে বলবে: অন্নাল লা'নাতাল্লাহি 'আলাইহি ইন কানা মিনাল কাযিবীন। "যদি সে (স্বামী) মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হবে।" [সূরা-২৪ নূর: আয়াত-৭]
২. অত:পর স্ত্রী চারবার বলবে: "আমি আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাকে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার যে অপবাদ দিয়েছেন তাতে সে মিথ্যাবাদী"। আর পঞ্চমবার উক্ত সাক্ষ্যের সাথে আরো বাড়িয়ে বলবে: আন্না গাদাবাল্লাহি 'আলাইহা ইন কানা মিনাস স-দিক্বীন। “যদি সে (স্বামী) সত্যবাদী হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) ওপর আল্লাহর তা'আলার গজব আসবে।” [সূরা-২৪ নূর: আয়াত-৯]
📄 সুন্নাতি নিয়ম
লি'আন আরম্ভ করার পূর্বে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রত্যেককে ভয়-ভীতি ও নসীহত মূলক কথা শুনানো, পঞ্চমবার সাক্ষ্য প্রদানের সময় স্বামীর মুখে হাত রেখে তাকে বলতে হবে "আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ দুনিয়ার শাস্তি আখেরাতের শাস্তির চেয়ে অনেক হালকা; কারণ তোমার সাক্ষ্য সত্য না হলে তোমার জন্য পরকালের শাস্তি আবশ্যক। অনুরূপভাবে স্ত্রীকেও বলতে হবে কিন্তু তার মুখে হাত রাখতে হবে না। আরো সুন্নাতী নিয়ম হলো: রাষ্ট্রপতি বা প্রশাসক কিংবা তাঁদের প্রতিনিধি এবং জনসাধারণের উপস্থিতিতে দাঁড়ানো অবস্থায় উভয়ে লি'আন করবে।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আর যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবার বলবে যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে।" [সূরা নূর: আয়াত-৬-৯]
📄 লি‘আন সম্পন্ন হলে পাঁচটি বিধান কার্যকর হবে
১. স্বামীর ওপর মিথ্যা অপবাদের শাস্তি রহিত হবে।
২. স্ত্রী ব্যভিচারের শাস্তি রজম থেকে মুক্তি পাবে।
৩. উভয়ের মাঝে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
৪. উভয়ে পরস্পরের জন্য চিরস্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যাবে।
৫. যদি কোন সন্তান হয় তাহলে সে সন্তান স্বামী পাবে না বরং স্ত্রী পাবে。
* লি'আনের কারণে বিবাহ বন্ধন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইদ্দতে থাকাকালীন সময়ে স্ত্রী কোনরূপ ভরণ-পোষণ ও বাসস্থান পাবে না।