📄 অপর ব্যক্তির স্ত্রীকে যেনার অভিযোগের বিধান
কোন ব্যক্তি অপরের স্ত্রী অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে না পারলে তাকে মিথ্যা অপবাদ দানকারী হিসেবে শাস্তি স্বরূপ ৮০ বেত্রাঘাত প্রহার করতে হবে। আর তওবা ও সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সে ফাসেক বলে গণ্য হবে এবং তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "যারা সতী-সাধ্বী মহিলার প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অত:পর স্বপক্ষে চারজন পুরুষ সাক্ষী হাযির করতে পারে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ কর না, এরাই হলো ফাসেক বা নাফরমান। কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ (তাদের জন্য) ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।” [সূরা নূর: ৪-৫]
📄 লি‘আনের শর্তসমূহ
১. রাষ্ট্রপ্রতি বা প্রশাসক কিংবা তাদের প্রতিনিধির সম্মুখে প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এ লি'আন সংঘটিত হতে হবে।
২. লি'আনের আগে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর প্রতি যেনা-ব্যভিচারের অপবাদ থাকতে হবে।
৩. স্বামীর এ অপবাদকে স্ত্রী অস্বীকার এবং লি'আন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিজের মতের ওপর অটল থাকবে।
📄 লি‘আনের পদ্ধতি
যখন কোন স্বামী নিজের স্ত্রীকে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অপবাদ আরোপ করবে এবং কোন প্রমাণ পেশ করতে পারবে না তখন তাকে (স্বামীকে) মিথ্যা অপবাদের শাস্তি প্রয়োগ করা হবে, তবে লি'আনের মাধ্যমে সে শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে।
📄 লি‘আনের পদ্ধতি নিম্নরূপ
১. সর্বপ্রথমে স্বামী চারবার বলবে: "আমি আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার এ স্ত্রীকে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার যে অপবাদ আরোপ করেছি, সে বিষয়ে আমি সত্যবাদী"। স্ত্রী হাযির থাকলে তার দিকে ইঙ্গিত করবে। আর পঞ্চমবার উক্ত সাক্ষ্য এর সাথে আরো বাড়িয়ে বলবে: অন্নাল লা'নাতাল্লাহি 'আলাইহি ইন কানা মিনাল কাযিবীন। "যদি সে (স্বামী) মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হবে।" [সূরা-২৪ নূর: আয়াত-৭]
২. অত:পর স্ত্রী চারবার বলবে: "আমি আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাকে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার যে অপবাদ দিয়েছেন তাতে সে মিথ্যাবাদী"। আর পঞ্চমবার উক্ত সাক্ষ্যের সাথে আরো বাড়িয়ে বলবে: আন্না গাদাবাল্লাহি 'আলাইহা ইন কানা মিনাস স-দিক্বীন। “যদি সে (স্বামী) সত্যবাদী হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) ওপর আল্লাহর তা'আলার গজব আসবে।” [সূরা-২৪ নূর: আয়াত-৯]