📄 লি‘আন
লি'আন হলো বিচারক বা তাঁর দায়িত্বশীলের নিকট স্বামীর পক্ষ থেকে আল্লাহর অভিশাপের বদদোয়া। আর স্ত্রীর পক্ষ থেকে আল্লাহর গজবের বদ দোয়াসহ কতগুলো সাক্ষ্য ও কসমের নাম।
📄 লি‘আনের বিধান প্রবর্তনের রহস্য
যখন কোন স্বামী নিজ স্ত্রীকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে দেখবে, যার ফলে সমাজে লাঞ্ছিত হচ্ছে অথবা তার পরিবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথবা তার ঔরসে অন্যের সন্তান মিশ্রিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় স্বামী কোন প্রমাণ পেশ করতে না পারলে এবং ব্যভিচারের অপরাধ কার্যকর করতে না পারলে বা স্ত্রী স্বেচ্ছায় স্বীকার না করলে, এ বিপদ থেকে নিষ্কৃতি ও সমস্যা সমাধানের জন্যই আল্লাহ তা'আলা লি'আনের বিধান প্রবর্তন করেছেন। তাই উভয়ে পরস্পরকে লা'নত দেয়ার পূর্বে তাদেরকে আল্লাহর ভীতি প্রদান ও ওয়াজ-নসীহত করা মুস্তাহাব-উত্তম。
* স্বামী (স্ত্রীর অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ) উপস্থাপনের পর যদি আল্লাহর নামে কসম করে বলতে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে মিথ্যা অপবাদের শাস্তি ৮০ বেত্রাঘাত প্রহার করতে হবে। আর স্ত্রী যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে তাহলে তাকে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা) করতে হবে।
📄 অপর ব্যক্তির স্ত্রীকে যেনার অভিযোগের বিধান
কোন ব্যক্তি অপরের স্ত্রী অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে না পারলে তাকে মিথ্যা অপবাদ দানকারী হিসেবে শাস্তি স্বরূপ ৮০ বেত্রাঘাত প্রহার করতে হবে। আর তওবা ও সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সে ফাসেক বলে গণ্য হবে এবং তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "যারা সতী-সাধ্বী মহিলার প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অত:পর স্বপক্ষে চারজন পুরুষ সাক্ষী হাযির করতে পারে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ কর না, এরাই হলো ফাসেক বা নাফরমান। কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ (তাদের জন্য) ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।” [সূরা নূর: ৪-৫]
📄 লি‘আনের শর্তসমূহ
১. রাষ্ট্রপ্রতি বা প্রশাসক কিংবা তাদের প্রতিনিধির সম্মুখে প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এ লি'আন সংঘটিত হতে হবে।
২. লি'আনের আগে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর প্রতি যেনা-ব্যভিচারের অপবাদ থাকতে হবে।
৩. স্বামীর এ অপবাদকে স্ত্রী অস্বীকার এবং লি'আন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিজের মতের ওপর অটল থাকবে।