📄 জিহার বাতিলকরণের রহস্য
জাহেলিয়াতের যুগে স্বামী স্ত্রীর প্রতি যে কোন কারণে গোস্বা হলে বলত: তুমি আমার প্রতি আমার মায়ের পিঠের ন্যায় আর স্ত্রী তালাক হয়ে যেত। অত:পর ইসলাম এসে মহিলাদেরকে এ বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দান এবং সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করল যে, জিহার করা এক নোংরা ও মিথ্যা কথা; কারণ এর কোন ভিত্তি নেই এবং স্ত্রী মা নয়, তাই মায়ের ন্যায় হারাম হবে না। আর ইসলাম এর বিধানকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছে এবং জিহারকৃত স্ত্রীকে ততক্ষণ হারাম করে দিয়েছে যতক্ষণ স্বামী তার ভুলের মাশুল হিসেবে কাফফারা আদায় না করে。
* স্বামী তার স্ত্রীকে জিহার করে তার সাথে সহবাস করতে চাইলে যতক্ষণ জিহারের কাফফারা আদায় না করবে ততক্ষণ সহবাস করা হারাম।
📄 জিহারের হুকুম
১. আল্লাহ তা'আলা জিহারকে হারাম করে দিয়েছেন এবং জিহারকারীদের ভর্ৎসনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তারা জেনে রাখুক তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা শুধু তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসঙ্গত ও অসত্য কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।” [সূরা-৫৮ মুজাদালা: আয়াত-২]
২. কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে জিহার করলে যতক্ষণ জিহারের কাফ্ফারা না আদায় করবে ততক্ষণ তার সাথে সহবাস করা হারাম।
📄 জিহারের কিছু পদ্ধতি
১. বিনা শর্তে জিহার করা যেমন স্বামী তার স্ত্রীকে বলল, তুমি আমার নিকট আমার মার পিঠের মতো।
২. শর্তের সাথে জিহার করা। যেমন বলা, যখন রমযান মাস আসবে তখন তুমি আমার প্রতি আমার মায়ের পিঠের মতো।
৩. কিছু সময়ের জন্য জিহার করা। যেমন: বলা, তুমি আমার প্রতি আমার মায়ের পিঠের মতো শা'বান মাসে। যদি শা'বান মাস শেষ হয়ে যায় আর এর মধ্যে সহবাস না করে তবে জিহার শেষ হয়ে যাবে। আর যদি শা'বান মাসে সহবাস করে তবে তার প্রতি জিহারের কাফ্ফারা ফরজ হয়ে যাবে。
* স্বামী স্ত্রীকে জিহার করলে তার সাথে সহবাসের আগেই কাফ্ফারা আদায় করবে। আর যদি কাফফারা আদায়ের আগে সহবাস করে ফেলে তাহলে পাপী হবে এবং তার প্রতি কাফ্ফারা আদায় করা ফরজ হয়ে যাবে।
📄 জিহারের কাফফারার বিধান
জিহারের কাফ্ফারা নিম্নের ধারাবাহিকভাবে ওয়াজিব:
১. একজন ঈমানদার দাস বা ঈমানদার দাসী আজাদ করা।
২. যদি না পারে তবে একাধারে কোন বিরতি ব্যতিতই দু' মাস রোযা রাখা। আর এর মাঝে যদি দু' ঈদে বা রোগাক্রান্ত ইত্যাদি অবস্থায় রোযা না রাখে তাতে ধারাবাহিকতার বিচ্ছিন্ন ধরা হবে না।
৩. যদি দু' মাস একাধারে রোযা রাখতে অক্ষম হয়, তবে ষাটজন মিসকীনকে দেশের প্রধান খাবার থেকে খাওয়াবে বা দান করবে। প্রতিটি মিসকীনকে আধা সা'আ (প্রায় এক কেজি ২০ গ্রাম) খাদ্য দান করবে। অথবা ষাটজন মিসকীনকে দুপুরে বা রাত্রে একবার খাবার খাওয়াবে।
আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা বলেন- “যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অত:পর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা হলো: একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর। যার এর সামর্থ্য নেই, সে পরস্পরকে স্পর্শ করার আগে একাধিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম, সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এ জন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা মুজাদালা : ৩-৪]
* আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি দয়াশীল তাই তো মিসকীন-ফকীরদেরকে আহার করানকে গুনাহের কাফফারা ও পাপ মিটিয়ে দেয়ার মাধ্যম করে দিয়েছেন。
* স্বামী তার স্ত্রীকে বলে : যদি অমুক স্থানে যাও তবে তুমি আমার প্রতি আমার মায়ের পিঠের ন্যায়। যদি এর দ্বারা স্ত্রী নিজের ওপর হারাম করা উদ্দেশ্যে হয়, তবে জিহারকারী হবে। তাই যতক্ষণ জিহারের কাফফারা আদায় না করবে ততক্ষণ স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে না। আর যদি এর দ্বারা সে কাজটি করতে নিষেধ করা উদ্দেশ্যে হয় হারাম করা না, তবে স্ত্রী হারাম হবে না। কিন্তু স্বামীর প্রতি ওয়াজিব হলো কসম ভঙ্গ করার কাফফারা আদায় করা এবং এরপর তার কসম ভঙ্গ করা。
* যদি সকল স্ত্রীকে এক শব্দ দ্বারা জিহার করে, তবে একটি মাত্র কাফফারা জরুরি হবে। আর যদি একাধিক শব্দ দ্বারা তাদের সাথে জিহার করে, তবে প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক কাফফারা আবশ্যক হবে।