📄 ঈলা জায়েযকরণের রহস্য
ঈলা দ্বারা স্বামীদের নাফরমান ও অবাধ্য স্ত্রীদেরকে শিক্ষা দেয়া উদ্দেশ্য। তাই স্বামীর জন্য প্রয়োজন অনুপাতে তথা চার মাস বা এর কম ঈলা জায়েয করা হয়েছে। আর এর অতিরিক্তকে হারাম ও জুলুম এবং অন্যায় বলে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ এটি স্বামীর প্রতি যা ওয়াজিব তা ছেড়ে দেয়ার ওপর কসম।
📄 ঈলার সময় সীমা নির্ধারণের রহস্য
যদি জাহেলিয়াতের যুগে পুরুষেরা স্ত্রীকে পছন্দ না করত এবং অন্য কেউ যাতে বিবাহ না করতে পারে সে জন্যে স্ত্রীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে শপথ করত যে, সে তার স্ত্রীকে চিরতরে বা এক বছর কিংবা দু'বছর স্পর্শ করবে না। তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখত, না স্ত্রী আর না তালাকপ্রাপ্তা। তাই আল্লাহ তা'আলা এর এক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তা হলো সর্বোচ্চ চার মাস এবং এর অতিরিক্ত ক্ষতিকর যা বাতিল করে দিয়েছেন।
📄 ঈলা করার পদ্ধতি
যদি কসম করে যে, স্ত্রীর নিকটে কখনো বা চার মাসের বেশি যাবে না তাহলে সে ঈলাকারী হয়ে যাবে। যদি চার মাসের মধ্যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তবে ঈলা শেষ হয়ে যাবে এবং তার প্রতি কসম ভঙ্গের কাফফারা দেয়া আবশ্যক হয়ে যাবে।
কাফফারা ইয়ামীন : দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো অথবা তাদেরকে পোশাক পরানো কিংবা একটি দাস-দাসী আযাদ করা। যদি এগুলো না পারে তবে তিন দিন রোযা রাখা।
আর যদি সহবাস ব্যতীতই চার মাস অতিক্রম হয়ে যায়, তবে স্ত্রীর অধিকার আছে স্বামীকে সহবাস করতে বাধ্য করবে। যদি সহবাস করে তবে স্বামীর ওপর কসম ভঙ্গের কাফফারা ব্যতীত আর কিছুই আবশ্যক হবে না। আর যদি সহবাস করতে অস্বীকার করে, তবে স্ত্রী তালাক চাইবে। যদি তালাক দিতে অস্বীকার করে, তবে আদালতের বিচারক সাহেব স্ত্রীকে ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্যে স্বামীর প্রতি এক তালাক দেয়ার জন্য বাধ্য করবে।
আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- "যারা স্বীয় স্ত্রীর নিকট যাবে না বলে কসম খেয়ে বসে তাদের জন্য চার মাসের সুযোগ রয়েছে। অত:পর যদি পারস্পারিক মিল-মিশ করে নেয় তবে আল্লাহ ক্ষমাকারী দয়ালু। আর যদি ত্যাগ করার ইচ্ছা করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।” (সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২৬-২২৭)
* ঈলাকৃতা স্ত্রীর ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তার মতো। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এর বিবরণ আসবে।