📄 খোলা তালাকের প্রয়োজনীয়তা কি?
১. যখন স্ত্রী স্বামীকে ঘৃণা করে তার খারাপ আচরণ বা অসৎ চরিত্র কিংবা চেহারা-সুরত অপছন্দ অথবা তার অধিকার ত্যাগে পাপ হওয়ার ভয় তখন খোলা তালাককে জায়েয করা হয়েছে। আর স্বামীর জন্য উত্তম হলো খোলা গ্রহণ করা; কারণ এটি জায়েয করা হয়েছে।
২. যদি স্ত্রী স্বামীর দ্বীনের ত্রুটির জন্য ঘৃণা করে। যেমন : সালাত ছেড়ে দেয়া অথবা অসৎ চরিত্র। এমন অবস্থায় যদি স্বামীকে ভালো করা সম্ভব না হয় তবে স্ত্রীর জন্য সম্পর্ক ছিন্নের চেষ্টা করা ওয়াজিব। আর যদি স্বামী কোন হারাম কাজ করে এবং স্ত্রীকে করতে বাধ্য না করে, তবে স্ত্রীর ওপর খোলা তালাক নেয়া ওয়াজিব নয়। আর যে কোন নারী কোন সমস্যা ব্যতীতই স্বামীর নিকট তালাক চাইবে সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না।
📄 স্ত্রীকে আটকিয়ে রাখার বিধান
স্ত্রীর নিকট থেকে জোরপূর্বক মোহরানা থেকে কিছু বা পুরোটা নেয়ার উদ্দেশ্যে আটকিয়ে রাখা স্বামীর প্রতি হারাম। কিন্তু যদি স্ত্রী সুস্পষ্ট অশ্লীল কাজ তথা যেনায় লিপ্ত হয় তবে তখন হারাম হবে না।
আল্লাহ তা'আলার ঘোষণা- “হে মু'মিনগণ! বলপূর্বক মহিলাদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটকে রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে। মহিলাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর। অত:পর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।” [সূরা-৪ নিসা: আয়াত-১৯]
📄 খোলা তালাকের বিধান
খোলা এক ধরনের বিচ্ছেদ চাই তা খোলা শব্দ দ্বারা হোক বা বিচ্ছেদ কিংবা বিনিময় অথবা মুক্তিপণ দ্বারা হোক। আর যদি তালাক শব্দ কিংবা পরোক্ষ কোন শব্দ তালাকের নিয়তে হয় তবে তালাক কার্যকর হবে। খোলা তালাকের পর স্বামী স্ত্রীকে ফেরত আনতে পারবে না। কিন্তু যদি আগে তিন তালাক না হয়ে থাকে তবে চাইলে নতুন করে বন্ধন ও মোহরানা দ্বারা বিবাহ করতে পারবে।
📄 খোলা তালাকের সময়
হায়েয ও পবিত্র সর্বাবস্থায় খোলা করা জায়েয আছে। আর খোলা তালাকপ্রাপ্তা এক হায়েয ইদ্দত পালন করবে। স্বামীর জন্য খোলাকৃতা স্ত্রীর অনুমতিক্রমে তাকে নতুন বন্ধন ও নতুন মোহরানা দ্বারা ইদ্দতের পর বিবাহ করতে পারবে।