📄 খোলা তালাক
স্বামী স্ত্রী থেকে বিনিময় নিয়ে বিচ্ছেদ করার নাম খোলা তালাক।
খোলা তালাক জায়েযকরণের রহস্য: যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা নিঃশেষ হয়ে পড়ে এবং ঘৃণা ও শত্রুতা ভালোবাসার স্থান দখল করে ফেলে। আর সমস্যা জড়িত হয়ে পড়ে এবং দু'জনের অথবা একজনের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ পায়। এমন অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা নিষ্কৃতির উপায় পথও বের হওয়ার রাস্তা করে দিয়েছেন। যদি নিষ্কৃতি স্বামীর পক্ষ থেকে দরকার হয় তবে আল্লাহ তার হাতে তালাকের ক্ষমতা দিয়েছেন। আর যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে দরকার হয় তবে আল্লাহ তার জন্য খোলা করে নেয়া জায়েয করে দিয়েছেন। স্ত্রী স্বামী থেকে যা গ্রহণ করেছে তার পূর্ণ বা কম কিংবা তার চেয়ে অধিক তাকে ফেরত দিবে যাতে করে সে তাকে বিচ্ছেদ করে দেয়।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "(প্রত্যাহারযোগ্য) তালাক হলো দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সাথে ত্যাগ করবে। আর তাদের থেকে নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয়। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ বিষয়ে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অত:পর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন গোনাহ নেই।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২৯]
২. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, সাবেত ইবনে কাইস (রা)-এর স্ত্রী নবী করীম ﷺ-এর নিকটে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ছাবেত ইবনে কাইসের চরিত্র ও দ্বীন প্রসঙ্গে কোন দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করছি না। কিন্তু আমি ইসলামে কুফরিকে ভয় করছি। রাসূলে করীম বললেন: তুমি কি তার বাগান তাকে ফেরত দিবে? মহিলাটি বলল : হ্যাঁ, তখন রাসূলে করীম বললেন : (সাবেত!) “বাগান গ্রহণ করে তাকে এক তালাক দিয়ে (খোলা করে) দাও।” (বুখারী : হাদীস নং ৫২৭৩)
📄 খোলা তালাকের প্রয়োজনীয়তা কি?
১. যখন স্ত্রী স্বামীকে ঘৃণা করে তার খারাপ আচরণ বা অসৎ চরিত্র কিংবা চেহারা-সুরত অপছন্দ অথবা তার অধিকার ত্যাগে পাপ হওয়ার ভয় তখন খোলা তালাককে জায়েয করা হয়েছে। আর স্বামীর জন্য উত্তম হলো খোলা গ্রহণ করা; কারণ এটি জায়েয করা হয়েছে।
২. যদি স্ত্রী স্বামীর দ্বীনের ত্রুটির জন্য ঘৃণা করে। যেমন : সালাত ছেড়ে দেয়া অথবা অসৎ চরিত্র। এমন অবস্থায় যদি স্বামীকে ভালো করা সম্ভব না হয় তবে স্ত্রীর জন্য সম্পর্ক ছিন্নের চেষ্টা করা ওয়াজিব। আর যদি স্বামী কোন হারাম কাজ করে এবং স্ত্রীকে করতে বাধ্য না করে, তবে স্ত্রীর ওপর খোলা তালাক নেয়া ওয়াজিব নয়। আর যে কোন নারী কোন সমস্যা ব্যতীতই স্বামীর নিকট তালাক চাইবে সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না।
📄 স্ত্রীকে আটকিয়ে রাখার বিধান
স্ত্রীর নিকট থেকে জোরপূর্বক মোহরানা থেকে কিছু বা পুরোটা নেয়ার উদ্দেশ্যে আটকিয়ে রাখা স্বামীর প্রতি হারাম। কিন্তু যদি স্ত্রী সুস্পষ্ট অশ্লীল কাজ তথা যেনায় লিপ্ত হয় তবে তখন হারাম হবে না।
আল্লাহ তা'আলার ঘোষণা- “হে মু'মিনগণ! বলপূর্বক মহিলাদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটকে রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে। মহিলাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর। অত:পর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।” [সূরা-৪ নিসা: আয়াত-১৯]
📄 খোলা তালাকের বিধান
খোলা এক ধরনের বিচ্ছেদ চাই তা খোলা শব্দ দ্বারা হোক বা বিচ্ছেদ কিংবা বিনিময় অথবা মুক্তিপণ দ্বারা হোক। আর যদি তালাক শব্দ কিংবা পরোক্ষ কোন শব্দ তালাকের নিয়তে হয় তবে তালাক কার্যকর হবে। খোলা তালাকের পর স্বামী স্ত্রীকে ফেরত আনতে পারবে না। কিন্তু যদি আগে তিন তালাক না হয়ে থাকে তবে চাইলে নতুন করে বন্ধন ও মোহরানা দ্বারা বিবাহ করতে পারবে।