📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 রাজ‘আত

📄 রাজ‘আত


প্রত্যাহারযোগ্য তালাক তথা বায়েন তালাকপ্রাপ্তা না এমন স্ত্রীকে নতুন বন্ধন ব্যতীতই ইদ্দতের ভেতরে পুনরায় গ্রহণ করা রাজ'আত বলা হয়।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 রাজ‘আত বৈধকরণের রহস্য

📄 রাজ‘আত বৈধকরণের রহস্য


তালাক কোন কোন সময় রাগান্বিত ও তাৎক্ষণিক হয়ে থাকে। আবার কখনো তালাক হয় কোন চিন্তা-ভাবনা ও বিবেচনা ব্যতীতই। আর তালাকের পরে কোন জাতীয় সমস্যা ও ক্ষতি এবং বিপর্যয় সৃষ্টি হবে সে বিষয়ে কোন জ্ঞান থাকে না। তাই আল্লাহ তা'আলা বৈবাহিক জীবনের জন্যে রাজ'আত তথা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেছেন। এটি একমাত্র স্বামীর অধিকার যেমন তালাক দেয়া তারই অধিকার।

* ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে হলো তালাক দেয়া এবং পুনরায় গ্রহণকে জায়েযকরণ। অতএব, যখন আপোষে ঘৃণা জন্মিবে এবং দাম্পত্য জীবন কঠিন হয়ে পড়বে তখন তালাক দেয়া জায়েয। আর যখন আপোষের সম্পর্ক সুন্দর হবে এবং পানির স্রোতধারা যখন তার নিজ গতিতে ফিরে আসবে তখন রাজ'আত তথা পুনরায় গ্রহণ করা জায়েয হবে। আল্লাহরই যাবতীয় প্রশংসা ও ইহসান।

আল্লাহ তা'আলার বাণী- "আর তালাকপ্রাপ্তা মহিলা নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের ওপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েয নয়। আর যদি সম্ভাব রেখে চলতে চায় তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২৮]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 প্রত্যাহারযোগ্য স্ত্রীর বিধান

📄 প্রত্যাহারযোগ্য স্ত্রীর বিধান


প্রত্যাহারযোগ্য তালাকপ্রাপ্তা মহিলা স্বামীর স্ত্রীই থাকে, সে স্বামীর গৃহে ইদ্দত পালন করবে, স্বামীর প্রতি তার ভরণ-পোষণ ওয়াজিব, স্ত্রীকে স্বামীর আনুগত্য করা আবশ্যক। স্বামীর জন্যে তার চেহারা খোলা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, তার সাথে বের হওয়া, পানাহার করা সবকিছুই জায়েয। স্বামীর জন্য স্ত্রীর সঙ্গে যা যা করা জায়েয সবই করতে পারবে। তবে তার জন্যে কোন দিন বণ্টন করা লাগবে না; কারণ সে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর বৈধ কোন কারণ ছাড়া প্রত্যাহারযোগ্য তালাকপ্রাপ্তার জন্য স্বামীর বাড়ি-ঘর ব্যতীত কোথাও ইদ্দত পালন করা জায়েয নেই।

১. আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- “হে নবী; তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি খেয়াল রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এ তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দিবেন।" [সূরা-৯ তালাক: আয়াত-১]

২. আল্লাহ তা'আলা বলেন- "আর তালাকপ্রাপ্তা মহিলা নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের ওপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েয নয়। আর যদি সম্ভাব রেখে চলতে চায় তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর নিয়ম অনুযায়ী আর মহিলাদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২২৮]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 রাজা‘আত (প্রত্যাহার) বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্তসমূহ

📄 রাজা‘আত (প্রত্যাহার) বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্তসমূহ


১. তালাকপ্রাপ্তার সাথে সহবাস হয়েছে।
২. স্বামী যতগুলো তালাকের মালিক তার চেয়ে কম হওয়া। যেমন: তিন তালাকের কম।
৩. তালাক যেন কোন বিনিময়ে না হয়। যদি তালাক বিনিময়ে (খোলা তালাক) হয় তবে বায়েন হয়ে যাবে।
৪. প্রত্যাহার বিশুদ্ধ বিবাহ দ্বারা ইদ্দতের মধ্যেই হতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px