📄 কাফফারা ইয়ামীন
কাফফারা ইয়ামীন : দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো অথবা পোশাক দেয়া কিংবা একটি গোলাম আযাদ করা। আর যদি উক্ত কোন একটি না পারে তবে তিনটি রোযা রাখা।
📄 তালাক প্রসঙ্গে সন্দেহ করার বিধান
আসল হলো যা ছিল তাই থাকা। তাই আসল হলো বিবাহ বন্ধন ঠিক থাকা। এ জন্যে বিশ্বাস ব্যতীত বিবাহ বন্ধন নষ্ট হবে না। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি তালাক কিংবা শর্তে সন্দেহ করে তাহলে তালাক কার্যকর হবে না। আর যদি তালাকের সংখ্যায় সন্দেহ করে তাহলে এক তালাক কার্যকর হবে। আর যে সন্দেহসহ তালাক সাব্যস্ত করবে সে তিনটি ভয়ানক কাজ করবে। ১. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছিন্ন, ২. তার বন্ধনে থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে অন্যের বৈধ করা। ৩. স্বামী মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ ও মিরাস থেকে বঞ্চিত করা।
📄 যার মোহরানা নির্ধারণ করা হয়নি তার তালাকের বিধান
যদি মোহরানা নির্ধারণ করা না হয় এবং সহবাসের আগে তালাক দেয় তবে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর খরচ ওয়াজিব। সামর্থ্যবানের জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানের জন্য তার সাধ্য অনুযায়ী। আর যদি মোহরানা নির্ধারণ করা না হয় এবং সহবাসের পর তালাক দেয় তবে স্ত্রীর জন্য মোহরে মেছাল দিতে হবে এবং তার জন্য কোন খরচ নেই।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে এবং কোন মোহরানা নির্ধারণের পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের ওপর দায়িত্ব।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত- ২৩৬]
📄 যার মোহরানা নির্ধারণ করা হয়েছে তার তালাকের বিধান
আর যদি স্পর্শ বা স্ত্রীর সঙ্গে একাকী নির্জনে হওয়ার আগে তালাক দেয় আর মোহরানা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে তবে স্ত্রী অর্ধেক মোহর পাবে। কিন্তু যদি স্ত্রী বা তার অভিভাবক ক্ষমা করে দেয় সেটা পৃথক বিষয়। আর যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিচ্ছেদ ঘটে তবে তার সকল হক রহিত হয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আর যদি মোহরানা নির্ধারণ করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে মোহরানা নির্ধারণ করা হয়েছে তার অর্ধেক দিতে হবে। অবশ্য যদি মহিলা মাফ করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে (অলি) সে যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে মুত্তাকীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা ভুলে যেও না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সে সবই অত্যন্ত ভালো করে দেখেন।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত-২৩৭]
* বাতিল বিবাহের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে স্পর্শের আগে বিচ্ছেদ হলে স্ত্রীর জন্যে মোহরানা ও খরচ কিছুই নেই। আর স্পর্শের পরে হলে ধার্যকৃত মোহরানা স্ত্রীর জন্য ওয়াজিব হবে; কারণ এর দ্বারা পুরুষ তার গুপ্তাঙ্গ হালাল করেছে।