📄 তালাকের পদ্ধতি
কোন শর্ত ছাড়া তালাক হতে পারে অথবা সংযুক্ত-সম্বন্ধকৃত কিংবা শর্তের সাথে ঝুলন্ত হতে পারে।
১. শর্ত ছাড়া উপস্থিত তালাক : যেমন স্ত্রীকে বলা, 'তুমি তালাক' অথবা 'তোমাকে তালাক দিলাম' ইত্যাদি। এ তালাক সাথে সাথে কার্যকর হবে; কারণ কোন কিছুর সঙ্গে শর্ত বা সংযুক্ত করেনি।
২. সংযুক্ত ও সম্বন্ধকৃত তালাক : যেমন স্ত্রীকে বলা : 'তুমি আগামীকাল তালাক' অথবা 'তুমি মাসের প্রথমে তালাক'। এ তালাক ততক্ষণ কার্যকর হবে না যতক্ষণ তার নির্দিষ্টকৃত সময় অতিক্রম না করবে।
৩. ঝুলন্ত ও শর্তকৃত তালাক : এটি স্বামীর দ্বারা তালাককে কোন শর্তের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া। এটি আবার দু'প্রকার:
ক. যদি তার তালাকের দ্বারা কোন কাজ করতে বা ছাড়তে বাধ্য করা উদ্দেশ্য হয় অথবা উৎসাহ প্রদান কিংবা নিষেধ করা বা সংবাদের তাকিদ ইত্যাদি হয়। যেমন : 'যদি বাজারে গমন কর তবে তুমি তালাক' এর দ্বারা তাকে নিষেধ করাই উদ্দেশ্য করে তবে তালাক কার্যকর হবে না। আর এতে যদি স্ত্রী বিপরীত করে বসে তবে স্বামীর প্রতি 'কাফফারা ইয়ামীন' তথা কসম ভঙ্গের কাফফারা ওয়াজিব হবে।
খ. শর্ত পাওয়া গেলে এবং তালাক উদ্দেশ্য হলে কার্যকর হবে। যেমন : স্বামীর কথা, যদি তুমি আমাকে অমুকটা দাও তবে তুমি তালাক। এ তালাক কার্যকর হবে যখন শর্ত পাওয়া যাবে।
📄 কাফফারা ইয়ামীন
কাফফারা ইয়ামীন : দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো অথবা পোশাক দেয়া কিংবা একটি গোলাম আযাদ করা। আর যদি উক্ত কোন একটি না পারে তবে তিনটি রোযা রাখা।
📄 তালাক প্রসঙ্গে সন্দেহ করার বিধান
আসল হলো যা ছিল তাই থাকা। তাই আসল হলো বিবাহ বন্ধন ঠিক থাকা। এ জন্যে বিশ্বাস ব্যতীত বিবাহ বন্ধন নষ্ট হবে না। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি তালাক কিংবা শর্তে সন্দেহ করে তাহলে তালাক কার্যকর হবে না। আর যদি তালাকের সংখ্যায় সন্দেহ করে তাহলে এক তালাক কার্যকর হবে। আর যে সন্দেহসহ তালাক সাব্যস্ত করবে সে তিনটি ভয়ানক কাজ করবে। ১. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছিন্ন, ২. তার বন্ধনে থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে অন্যের বৈধ করা। ৩. স্বামী মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ ও মিরাস থেকে বঞ্চিত করা।
📄 যার মোহরানা নির্ধারণ করা হয়নি তার তালাকের বিধান
যদি মোহরানা নির্ধারণ করা না হয় এবং সহবাসের আগে তালাক দেয় তবে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর খরচ ওয়াজিব। সামর্থ্যবানের জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানের জন্য তার সাধ্য অনুযায়ী। আর যদি মোহরানা নির্ধারণ করা না হয় এবং সহবাসের পর তালাক দেয় তবে স্ত্রীর জন্য মোহরে মেছাল দিতে হবে এবং তার জন্য কোন খরচ নেই।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে এবং কোন মোহরানা নির্ধারণের পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের ওপর দায়িত্ব।" [সূরা-২ বাকারা: আয়াত- ২৩৬]