📄 যেসব অবস্থায় তালাক দেয়া হারাম
হায়েয বা ঋতু ও প্রসূতি অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া হারাম। আরো তালাক দেয়া হারাম যে তহুরে তথা পবিত্রতায় সহবাস করেছে ও গর্ভধারণ প্রকাশ পায়নি। এক শব্দে তিন তালাক অথবা এক বৈঠকে তিন তালাক দেয়াও হারাম。
* স্বামী অথবা তার উকিলের পক্ষ থেকে তালাক দেয়া বিশুদ্ধ হবে। উকিলের এক তালাক দেয়ার অধিকার আছে এবং যখন চাইবে তখন দিতে পারবে। কিন্তু যদি তার জন্য সময় ও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় তাহলে সে অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
📄 তালাকের শব্দসমূহ
শব্দের দিক থেকে তালাক দু'প্রকার:
১. 'তালাকে সরীহ' তথা সুস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক: যে সব শব্দ তালাক ব্যতীত অন্য কোন অর্থের সুযোগ থাকে না। যেমন: তোমাকে তালাক দিলাম, তুমি তালাক, তুমি তালাকপ্রাপ্তা, আমার প্রতি তোমাকে তালাক দেয়া ওয়াজিব ইত্যাদি শব্দসমূহ।
২. 'কেনায়া তালাক' তথা পরোক্ষ ও অস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক: ঐ সব শব্দ যা তালাক ও অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: তুমি বায়েন অথবা তোমার পরিবারে চলে যাও ইত্যাদি শব্দ。
* সরীহ তথা স্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হয়ে যাবে; কারণ তার অর্থ পরিষ্কার। আর কেনায়া তথা অস্পষ্ট ও পরোক্ষ শব্দ দ্বারা ততক্ষণ তালাক কার্যকর হবে না যতক্ষণ শব্দের সাথে তালাকের নিয়ত না করা হবে。
* যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে 'তুমি আমার প্রতি হারাম' তাহলে এর দ্বারা তালাক কার্যকর হবে না এবং হারামও হবে না। বরং এটি হলফ-কসম হবে এবং এতে 'কাফফারা ইয়ামীন' তথা কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে。
* তালাক দেয়াতে আগ্রহী ও রসিকের তালাক কার্যকর হবে; কারণ এর দ্বারা বিবাহের বন্ধন খেল-তামাশা ও টালবাহনা থেকে হেফাজতে থাকবে।
📄 তালাকের পদ্ধতি
কোন শর্ত ছাড়া তালাক হতে পারে অথবা সংযুক্ত-সম্বন্ধকৃত কিংবা শর্তের সাথে ঝুলন্ত হতে পারে।
১. শর্ত ছাড়া উপস্থিত তালাক : যেমন স্ত্রীকে বলা, 'তুমি তালাক' অথবা 'তোমাকে তালাক দিলাম' ইত্যাদি। এ তালাক সাথে সাথে কার্যকর হবে; কারণ কোন কিছুর সঙ্গে শর্ত বা সংযুক্ত করেনি।
২. সংযুক্ত ও সম্বন্ধকৃত তালাক : যেমন স্ত্রীকে বলা : 'তুমি আগামীকাল তালাক' অথবা 'তুমি মাসের প্রথমে তালাক'। এ তালাক ততক্ষণ কার্যকর হবে না যতক্ষণ তার নির্দিষ্টকৃত সময় অতিক্রম না করবে।
৩. ঝুলন্ত ও শর্তকৃত তালাক : এটি স্বামীর দ্বারা তালাককে কোন শর্তের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া। এটি আবার দু'প্রকার:
ক. যদি তার তালাকের দ্বারা কোন কাজ করতে বা ছাড়তে বাধ্য করা উদ্দেশ্য হয় অথবা উৎসাহ প্রদান কিংবা নিষেধ করা বা সংবাদের তাকিদ ইত্যাদি হয়। যেমন : 'যদি বাজারে গমন কর তবে তুমি তালাক' এর দ্বারা তাকে নিষেধ করাই উদ্দেশ্য করে তবে তালাক কার্যকর হবে না। আর এতে যদি স্ত্রী বিপরীত করে বসে তবে স্বামীর প্রতি 'কাফফারা ইয়ামীন' তথা কসম ভঙ্গের কাফফারা ওয়াজিব হবে।
খ. শর্ত পাওয়া গেলে এবং তালাক উদ্দেশ্য হলে কার্যকর হবে। যেমন : স্বামীর কথা, যদি তুমি আমাকে অমুকটা দাও তবে তুমি তালাক। এ তালাক কার্যকর হবে যখন শর্ত পাওয়া যাবে।
📄 কাফফারা ইয়ামীন
কাফফারা ইয়ামীন : দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো অথবা পোশাক দেয়া কিংবা একটি গোলাম আযাদ করা। আর যদি উক্ত কোন একটি না পারে তবে তিনটি রোযা রাখা।