📄 তালাকের মালিক কে
১. তালাক প্রদান করা একমাত্র স্বামীর অধিকার; কারণ বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য সে ব্যয় করে অনেক সম্পদ। তাই তো সে বিবাহ বন্ধন অটুট রাখতে সর্বদা অধিক আগ্রহী। পুরুষই বেশি দেরী ও ধৈর্যধারণ করতে পারে এবং বিবেক দ্বারা চিন্তা করে আবেগ দ্বারা নয়।
২. মহিলারা অতি তাড়াতাড়ি রাগ করে এবং সহ্য করতে পারে কম। আর তাদের মাঝে দূরদর্শিতার চরম অভাব দেখা যায়। এ ছাড়া তালাকের পরবর্তী পরিণতি স্বামীর মতো স্ত্রীর ওপর আসে না। আর যদি উভয়ের হাতে তালাকের অধিকার দেয়া হতো তবে অতি সামান্য কারণে তালাকের অবস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পেত।
৩. তালাক পুরুষের অধীনে। একজন স্বাধীন পুরুষ তিনটি তালাকের মালিক। চাই স্ত্রী স্বাধীন হোক বা দাসী হোক। আর পরাধীন দাসরা দুই তালাকের মালিক।
📄 কার পক্ষ থেকে তালাক পতিত হবে
প্রত্যেক সাবালক, জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন ও স্বেচ্ছায় তালাকদাতার তালাক পতিত হবে। জোরপূর্বক তালাক নিলে তালাক হবে না। অনুরূপ এমন মাতালের তালাক যে কি বলে তা নিজেই বুঝে না এবং এমন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির তালাক যে কি বলে জানে না। যেমন তালাক পতিত হবে না ভুলকারীর, অন্যমনষ্ক ব্যক্তির, বিস্মৃতি ব্যক্তির, পাগল ইত্যাদির।
📄 তালাকের বিধি-বিধান
প্রয়োজনে যেমন: স্ত্রীর অসদাচরণ ও খারাপ মেলামেশার জন্য তালাক দেয়া জায়েয। আর অপ্রয়োজনে যেমন: দম্পতির স্থির সুখী জীবন তার পরেও তালাক দেয়া হারাম। আর জরুরি কারণে তালাক দেয়া উত্তম। যেমন: যদি স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা স্বামীকে ঘৃণা..... ইত্যাদি করে। স্ত্রী সালাত আদায় না করলে অথবা তার মান-সম্মানের বিষয়ে নিষ্কলুষ না থাকলে এবং তওবা ও সদুপদেশ গ্রহণ না করলে তাকে তালাক দেয়া ওয়াজিব।
📄 যেসব অবস্থায় তালাক দেয়া হারাম
হায়েয বা ঋতু ও প্রসূতি অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া হারাম। আরো তালাক দেয়া হারাম যে তহুরে তথা পবিত্রতায় সহবাস করেছে ও গর্ভধারণ প্রকাশ পায়নি। এক শব্দে তিন তালাক অথবা এক বৈঠকে তিন তালাক দেয়াও হারাম。
* স্বামী অথবা তার উকিলের পক্ষ থেকে তালাক দেয়া বিশুদ্ধ হবে। উকিলের এক তালাক দেয়ার অধিকার আছে এবং যখন চাইবে তখন দিতে পারবে। কিন্তু যদি তার জন্য সময় ও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় তাহলে সে অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।