📄 তালাক হালালকরণের রহস্য
সুখী দাম্পত্য জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহ তা'আলা বিবাহকে বিধান সম্মত করেছেন। দম্পতির জীবনে ভালোবাসা, প্রেম-প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। আর প্রত্যেকে জীবনসঙ্গীকে পূত-পবিত্র থাকার বিষয়ে সাহায্য করবে। এর দ্বারা মিটবে যৌন চাহিদা এবং আসবে নতুন প্রজন্ম। যখন এ সকল উপকারিতার ত্রুটি ঘটবে এবং কোন এক দম্পতির অসদাচরণের ফলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। অথবা একে অপরের বিরোধপূর্ণ মেজাজ কিংবা দু'জনের মধ্যকার জীবন কষ্টকর ইত্যাদি কারণে বিরতিহীন বিরোধ হয়ে পড়বে, যার ফলে বৈবাহিক সম্পর্ক কঠিন অবস্থায় পৌঁছে যায়। যখন পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে নাজাতের উপায় হিসেবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজ দয়ায় তালাকের বিধি-বিধান দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- "হে নবী! তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি খেয়াল রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়, যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এ তালাকের পর কোন নতুন পন্থা করে দিবেন।” [সূরা-৬৫ তালাক: আয়াত-১]
📄 তালাকের মালিক কে
১. তালাক প্রদান করা একমাত্র স্বামীর অধিকার; কারণ বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য সে ব্যয় করে অনেক সম্পদ। তাই তো সে বিবাহ বন্ধন অটুট রাখতে সর্বদা অধিক আগ্রহী। পুরুষই বেশি দেরী ও ধৈর্যধারণ করতে পারে এবং বিবেক দ্বারা চিন্তা করে আবেগ দ্বারা নয়।
২. মহিলারা অতি তাড়াতাড়ি রাগ করে এবং সহ্য করতে পারে কম। আর তাদের মাঝে দূরদর্শিতার চরম অভাব দেখা যায়। এ ছাড়া তালাকের পরবর্তী পরিণতি স্বামীর মতো স্ত্রীর ওপর আসে না। আর যদি উভয়ের হাতে তালাকের অধিকার দেয়া হতো তবে অতি সামান্য কারণে তালাকের অবস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পেত।
৩. তালাক পুরুষের অধীনে। একজন স্বাধীন পুরুষ তিনটি তালাকের মালিক। চাই স্ত্রী স্বাধীন হোক বা দাসী হোক। আর পরাধীন দাসরা দুই তালাকের মালিক।
📄 কার পক্ষ থেকে তালাক পতিত হবে
প্রত্যেক সাবালক, জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন ও স্বেচ্ছায় তালাকদাতার তালাক পতিত হবে। জোরপূর্বক তালাক নিলে তালাক হবে না। অনুরূপ এমন মাতালের তালাক যে কি বলে তা নিজেই বুঝে না এবং এমন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির তালাক যে কি বলে জানে না। যেমন তালাক পতিত হবে না ভুলকারীর, অন্যমনষ্ক ব্যক্তির, বিস্মৃতি ব্যক্তির, পাগল ইত্যাদির।
📄 তালাকের বিধি-বিধান
প্রয়োজনে যেমন: স্ত্রীর অসদাচরণ ও খারাপ মেলামেশার জন্য তালাক দেয়া জায়েয। আর অপ্রয়োজনে যেমন: দম্পতির স্থির সুখী জীবন তার পরেও তালাক দেয়া হারাম। আর জরুরি কারণে তালাক দেয়া উত্তম। যেমন: যদি স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা স্বামীকে ঘৃণা..... ইত্যাদি করে। স্ত্রী সালাত আদায় না করলে অথবা তার মান-সম্মানের বিষয়ে নিষ্কলুষ না থাকলে এবং তওবা ও সদুপদেশ গ্রহণ না করলে তাকে তালাক দেয়া ওয়াজিব।