📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মুহাররামাত দু'প্রকার

📄 মুহাররামাত দু'প্রকার


যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে যেন তার কোন মুহাররামাত মহিলা না হয়। মুহাররামাত দু'প্রকার:

১. চিরস্থায়ী মুহাররামাত। এরা আবার তিন প্রকার:
ক. বংশের দিক থেকে মুহাররামাত এরা হলো: মা, যতই উপরের হোক, মেয়ে যতই নিচের হোক, সকল ধরনের বোন-সহোদর, বৈমাত্রেয়া ও বৈপিত্রেয়া, খালা, ফুফু, ভাতিজী এবং ভাগিনী।
খ. দুধপানের দ্বারা মুহাররামাত বংশের রক্তের দ্বারা যেমন মুহাররামাত সাব্যস্ত হয় তেমনি দুধপানের দ্বারাও মুহাররামাত সাব্যস্ত হয়। কাজেই বংশের রক্তের যে সব মহিলা হারাম হয় অনুরূপ দুধপানের দ্বারাও হারাম হয়। কিন্তু দুধ ভাইয়ের মা ও দুধ ছেলের বোন দুধপানের দ্বারা হারাম হবে না। যে দুধ পানের দ্বারা মুহাররামাত সাব্যস্ত হয় তা হলো: শিশু অবস্থায় দু' বছর বয়সের মধ্যে পাঁচ ও ততোধিকবার কোন মহিলার দুধ পান করা।
গ. বৈবাহিকসূত্রে মুহাররামাত এরা হলো: স্ত্রীর আপন মা, মিলন হয়েছে এমন স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঘরের মেয়ে, বাবার স্ত্রীগণ ও ছেলের স্ত্রী। বংশের দ্বারা ৭ জন মুহাররামাত ও দুধপানের দ্বারা অনুরূপ ৭ জন এবং বৈবাহিকসূত্রে ৪ জন। সর্বমোট ১৮ জন মুহাররামাত।

আল্লাহর বাণী: “তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাতিজী, ভাগিনী, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা- যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন পাপ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোন একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” [সূরা-৪ আন নিসা: আয়াত-২৩]

* স্থায়ী মুহাররামাতের কারণ হচ্ছে: বংশ, দুধপান ও বৈবাহিকসূত্র।
* বংশের দ্বারা হারামের মূলনীতি: পুরুষের বংশের সকল আত্মীয় তার প্রতি হারাম কিন্তু চাচার মেয়েরা, ফুফুর মেয়েরা, মামার মেয়েরা এবং খালার মেয়েরা, এরা চার ধরনের সম্পর্ক তার জন্য জায়েয।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 সাময়িক সময়ের জন্য যাদের সাথে বিবাহ হারাম

📄 সাময়িক সময়ের জন্য যাদের সাথে বিবাহ হারাম


ক. দু' বোনকে একত্রে, ফুফু ও তার ভাতিজীকে একত্রে, খালা ও ভাগিনীকে একত্রে। চাই এরা বংশের হোক বা দুধের হোক। যখন একজন মৃত্যুবরণ করবে বা তালাক দিয়ে দিবে তখন অপরজনকে বিবাহ করা জায়েয হয়ে যাবে।
খ. ইদ্দত পালনকারিণী: যতক্ষণ সে তার ইদ্দত থেকে মুক্ত না হবে।
গ. তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা : যতক্ষণ সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে একে অপরের সাথে মিলিত না হবে এবং স্বেচ্ছায় তালাক বা মৃত্যুবরণ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রথম স্বামীর জন্য জায়েয হবে না।
ঘ. হজ্ব বা উমরার ইহরাম অবস্থায়, যতক্ষণ হালাল না হবে।
ঙ. মুসলিম মহিলা কাফের পুরুষের জন্য যতক্ষণ সে ইসলাম গ্রহণ না করবে।
চ. ইহুদি ও খ্রিস্টান মহিলা ব্যতীত অন্য কোন কাফের নারী যতক্ষণ সে ইসলাম গ্রহণ না করে ততক্ষণ কোন মুসলিমের জন্য বিয়ে করা হারাম।
ছ. অন্যের স্ত্রী বা ইদ্দত পালনকারিণী মহিলা। কিন্তু যদি দাসীতে পরিণত হয় তাহলে তখন জায়েয হবে।
জ. ব্যভিচারিণী মহিলা ও ব্যভিচারী পুরুষ একজন অন্যের জন্য হারাম যতক্ষণ সে তওবা না করে এবং ইদ্দত শেষ না হয়। এসব মহিলা নিষিদ্ধতা দূর না হওয়া পর্যন্ত হারাম।
ঝ. উভয় লিঙ্গের খুনছা (হিজড়া)-কে যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিষয় সুস্পষ্ট না হয়।

* যেনার দ্বারা যে কন্যা হয় তাকে বিয়ে করা হারাম। অনুরূপ যেনার দ্বারা যে ছেলে তার সাথে সে মায়ের বিয়েও হারাম。
* কোন দাস তার কর্ত্রীকে বিবাহ করবে না এবং মনিব তার দাসীকে বিয়ে করবে না; কারণ সে তো তার দাসী হিসেবে মালিকানাভুক্ত। বিবাহ দ্বারা যার সাথে সহবাস হারাম সে দাসী হিসেবে মালিকানাভুক্ত হলেও হারাম। কিন্তু ইহুদি-খ্রিস্টান দাসী ব্যতীত, তাকে বিবাহ করা না জায়েয। তবে দাসী হিসেবে মালিকানাভুক্ত হওয়ার জন্য সহবাস করা বৈধ। শরিয়তে কোন মহিলাকে বিবাহ অথবা মালিকানাভুক্ত ব্যতীত সহবাস করা না জায়েয।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 উম্মুল ওয়ালাদের হুকুম

📄 উম্মুল ওয়ালাদের হুকুম


উম্মুল ওয়ালাদ সেই দাসী যে তার মালিকের দ্বারা গর্ভবতী হয়েছে এবং বাচ্চা প্রসব করেছে। তার সঙ্গে মালিকের সহবাস করা এবং তার খিদমত নেয়া ও তাকে দাসীর মতো ভাড়া দেয়া বৈধ। তবে স্বাধীন মহিলার মতোই তাকে বিক্রি, দান ও ওয়াকফ করা না জায়েয। সে এক মাসিক ইদ্দত পালন করবে যার দ্বারা তার জরায়ু পরিষ্কার প্রমাণিত হবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 আকদের বিপরীত এমন শর্তের হুকুম

📄 আকদের বিপরীত এমন শর্তের হুকুম


যদি স্ত্রী বা তার অভিভাবক শর্ত করে যে, স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করবে না অথবা তার ঘর বা শহর স্থানান্তর করবে না কিংবা তার মোহরানা বাড়িয়ে দিবে ইত্যাদি যা আক্বদের পরিপন্থী নয়, তাহলে শর্ত করা বিশুদ্ধ। অতএব, স্বামী সে শর্তের কোন বিপরীত করলে স্ত্রী ইচ্ছা করলে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px