📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 অবাধ্যতার হুকুম

📄 অবাধ্যতার হুকুম


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর জন্য যা ওয়াজিব সে বিষয়ে অবাধ্যতা প্রদর্শনকে ‘নুশূজ’ বলে। অবাধ্যতা করা গুনাহ কাজ যা শরিয়তে হারাম; কারণ এতে জুলুম ও অধিকারকে বারণ করা। স্ত্রীর প্রতি যা ওয়াজিব তা আদায় না করলে নাফরমানি এবং স্বামীর প্রতি যা ওয়াজিব তা আদায় না করলেও নাফরমানি। স্ত্রী যদি স্বামীর পক্ষ থেকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা অনুভব করে এবং তাকে তালাক দেয়ার আশঙ্কা করে, তাহলে তার পূর্ণ বা আংশিক অধিকার দূর করতে পারে। যেমন: রাত্রি যাপন বা ভরণ-পোষণ কিংবা পোশাক ইত্যাদি। আর স্বামীর জন্য তা কবুল করা উচিত তাতে দু'জনের প্রতি কোন গুনাহ হবে না। এটি তালাক ও প্রতিদিন আপোষে ঝগড়া-বিবাদ করার চেয়ে উত্তম।

"যদি কোন মহিলা স্বীয় স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে পরস্পর কোন মীমাংসা করে নিলে তাদের উভয়ের কোন গুনাহ হবে না। বরং মীমাংসাই উত্তম। মানুষ লোভ হেতু স্বভাবত কৃপণ। যদি তোমরা ভাল কাজ কর এবং মুত্তাকী হও, তবে আল্লাহ তোমাদের সব কাজের খবর রাখেন।" [সূরা ৪-নিসা : আয়াত-১২৮]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 অবাধ্য স্ত্রীর চিকিৎসার পদ্ধতি

📄 অবাধ্য স্ত্রীর চিকিৎসার পদ্ধতি


১. যখন স্ত্রীর অবাধ্যতার নিদর্শন প্রকাশ পাবে। যেমন: স্বামীর আহ্বানে বিছানায় বা আনন্দ গ্রহণে সাড়া না দেয়া। অথবা বিরক্তিকর কিংবা ঘৃণা অবস্থায় সাড়া দেয়া। তখন তাকে উপদেশ দিবে এবং আল্লাহর ভয় দেখাবে ও সহজ পন্থায় আদব দিবে। যদি তার পরেও পূর্বের অবস্থার ওপর অটল থাকে তবে প্রয়োজন মতো বিছানায় ত্যাগ করবে। আর তিন দিন পর্যন্ত কথা বলা বিরত রাখবে। যদি তার পরেও পূর্বে অবস্থায় স্থির থাকে তবে দশ বা তার চেয়ে কম হালকা করে রক্ত বের না হয় এমন বেত্রাঘাত করবে। আর মুখমণ্ডলে মারধর এবং কোন প্রকার কুৎসিত বর্ণনা ও তিরস্কার করবে না। যদি এসব দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জন হয়ে যায় এবং আনুগত্য আরম্ভ করে তবে আগে যা ঘটেছে সে বিষয়ে তাকে কোন ধরনের ভর্ৎসনা করবে না।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন: "পুরুষেরা মহিলাদের ওপর কর্তৃত্বশীল। এ জন্য যে, আল্লাহ একের ওপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ খরচ করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় আনুগত্য এবং আল্লাহ যা সংরক্ষণযোগ্য করে দিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেও তারা তার সংরক্ষণ করে। আর যাদের মধ্যে আবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদপুদেশ দাও, তাদের বিছানা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ খোঁজ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকলের ওপর শ্রেষ্ঠ।" [সূরা ৪-নিসা: আয়াত-৩৪]

২. যদি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে একে পরস্পরের প্রতি জুলুমের দাবি করে। স্ত্রী তার অবাধ্যতা ও অহঙ্কার এবং খারাপ আচরণের ওপর অটল থাকে। আর দু'জনের মাঝে সংশোধন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তবে স্বামীর পরিবারের একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবারের অপরজন বিচারক পাঠাবে। তারা দু'জনে যা কল্যাণকর তাই সিদ্ধান্ত নিবে। হয় একত্রকরণ বা কোন বিনিময় অথবা বিনিময় ছাড়াই বিচ্ছেদকরণ。

৩. যদি বিচারক মহোদয়গণ ঐক্যমতে না পৌঁছে অথবা দু'জন বিচারক না পাওয়া যায় এবং দু'জনের মাঝে ভালো আচরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে; তাহলে কোর্টের বিচারক সাহেব তাদের বিষয়টা ভালো করে দেখবেন। আর কোন বিনিময় বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই যেমনটি তিনি ভালো মনে করবেন এবং শরিয়তের বিধি-বিধান অনুযায়ী দু'জনের মাঝে বিচ্ছেদ করে দিবেন। আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- "যদি তাদের মাঝে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মতো পরিস্থিতিরই সম্ভাবনা হয়, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক নিযুক্ত করবে তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু জানেন।” [সূরা নিসা : ৩৫]

৪. যদি স্ত্রী স্বামীর পক্ষ থেকে অপছন্দভাব বা উপেক্ষা উপলদ্ধি করে এবং তাকে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করে, তবে স্ত্রীর জন্য স্বামীর প্রতি তার যে অধিকার তা রহিত করে দেয়া জায়েয আছে। অথবা কিছু অধিকার যেমন: রাত্রি যাপন বা ভরণ-পোষণ ইত্যাদি হক বিলুপ্ত করা। আর স্বামীর জন্য জায়েয তা গ্রহণ করা। এতে করে তাদের কোন পাপ হবে না। আর এটি প্রতিদিন ঝগড়া-বিপদ করা ও বিচ্ছেদের চেয়ে উত্তম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px