📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি-পিল ব্যবহারের নিয়ম-কানুন

📄 জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি-পিল ব্যবহারের নিয়ম-কানুন


১. সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার প্রতি এক বড় নে'আমত। ইসলাম এর প্রতি প্রেরণা যুগিয়েছে; তাই স্থায়ীভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা না জায়েয। আর অভাব-অনটনের ভয়ে জন্ম বিরতি করা নাজায়েয। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: "তোমরা খাদ্য অভাবের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তোমাদেরকে ও ওদেরকে রিযিক দান করি। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা এক মহাপাপ।” [সূরা ১৭-বনি ইসরাঈল: আয়াত-৩১]

২. স্বামী-স্ত্রীর সন্তান জন্মের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে খর্ব করে বন্ধ্যাকরণ হারাম। কিন্তু নিশ্চিত কোন ক্ষতির কারণ হলে জায়েয。

৩. নিশ্চিত কোন ক্ষতির কারণ থাকলে স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষ স্ত্রী জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যেমন: অস্বাভাবিকভাবে বাচ্চা প্রসব হওয়া। অথবা অসুস্থ যার ফলে প্রতি বছর বাচ্চা নিলে ক্ষতি হওয়া। এমন অবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বা বিরতি করতে নিষেধ নেই। তবে উভয়ের সন্তুষ্টি ও সম্মতি থাকতে হবে এবং এমন পন্থা অবলম্বন করতে হবে যার দ্বারা স্ত্রীর কোন ধরনের ক্ষতি না হয়। এ ছাড়া বিশ্বস্ত চিকিৎসকের পরামর্শ-অনুযায়ী হতে হবে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 গর্ভ সঞ্চারণের দ্বারা সন্তান নেয়ার হুকুম

📄 গর্ভ সঞ্চারণের দ্বারা সন্তান নেয়ার হুকুম


১. যদি অন্য দু'জন মুহাররাম বা গাইরে মুহাররামের বীর্য ও ডিম্ব দ্বারা বা নিজের ডিম্ব ও অন্য পুরুষের বীর্য দ্বারা স্ত্রীর গর্ভোৎপাদন করা হয়, তবে এটি হারাম ও যেনার গর্ভ সঞ্চারণ বলে বিবেচিত হবে。
২. আর যদি বিবাহ বন্ধন সম্পাদনের পরে এবং স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের পর সে স্বামীর বীর্য দ্বারা স্ত্রী গর্ভ সঞ্চারণ হয় তবুও হারাম。
৩. আর যদি স্বামী-স্ত্রীর বীর্য ও ডিম্ব হয় আর জরায়ু অন্য মহিলার ভাড়া করা হয় তবুও হারাম。
৪. আর যদি উভয়ের বীর্য ও ডিম্ব হয় আর জরায়ু স্বামীর অন্য কোন স্ত্রী হয় এবং গর্ভ সঞ্চারণ ভেতর বা বাহির থেকে হয় তাহলেও হারাম。
৫. আর যদি স্বামীর বীর্য ও স্ত্রীর ডিম্ব তারই জরায়ুর ভেতরে বা বাইরে টিউবে গর্ভ সঞ্চারণ করার পর সে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে স্থানান্তর করা হয় তবে জায়েয; কারণ এর দ্বারা অনেক ধরনের সমস্যা ও বাধা-নিষেধ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এটি নিরুপায়ীদের জন্য জায়েয। আর প্রয়োজনের নির্ধারণ তার পরিমাণ মতই হতে হবে। আর যে এমন অবস্থায় পতিত হবে সে যেন যার দ্বীন ও জ্ঞানে বিশ্বাস রাখে তাঁর নিকট এ বিষয়ে প্রশ্ন করে。

* ছেলে ও মেয়ের যখন অঙ্গরাজির সৃষ্টি পূর্ণতা লাভ করবে তখন তাকে এক প্রকার থেকে অন্য প্রকারে পরিবর্তন করা হারাম। আর পরিবর্তনের চেষ্টা করা অপরাধ, যে করবে সে শাস্তিযোগ্য হবে; কারণ এটি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন যা একেবারেই হারাম。

* যদি কারো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়ের আলামত একাভূত হয়, তবে দেখতে হবে যদি পুরুষীয় আলামত প্রাধান্য পায়, তবে অপারেশন বা হর্মোন দ্বারা চিকিৎসা করে তার নারীয় আলামত দূর করা জায়েয।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রীর গর্ভধারণ

📄 স্ত্রীর গর্ভধারণ


১. আল্লাহর নির্দেশে প্রতি মাসে মহিলার ডিম্ব সৃষ্টি হয়। আর যখন ভাগ্যের সময় চলে আসে এবং শুক্রাণু প্রাণী সে ডিম্বের সাথে পরাগায়ন হয়ে সংমিশ্রণ ঘটে তখন মহিলা গর্ভবতী হয়। আর এটাই হলো মিশ্রিত শুক্রকীট。
২. সাধারণত নারীর প্রতি বছরে একটি করে বাচ্চা প্রসব করে। আর কখনো যমজ দু'জন ছেলে বা দু'জন মেয়ে কিংবা একজন ছেলে ও একজন মেয়ে প্রসব করে। আবার কোন কোন সময় তিনজন বা এর বেশি প্রসব করে।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন: "আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব। অত:পর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।" [সূরা ৭৬-দাহার: আয়াত-২]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- "তিনিই সে আল্লাহ, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন। তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা ৩-আলে-ইমরান: আয়াত-৬]

আল্লাহ তা'আলা আরো ঘোষণা করেন- "নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহর জন্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র-সন্তান দান করেন, অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।” [সূরা ৪২-শূরা: আয়াত-৪৯-৫০]

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 যমজ সন্তান দু'প্রকার

📄 যমজ সন্তান দু'প্রকার


প্রথম: একটি শুক্রাণু প্রাণীর সঙ্গে দু'টি ডিম্বের সংমিশ্রণে যমজ, যারা একে অপরের পূর্ণ সদৃশ হয়।

দ্বিতীয়: অদৃশ যমজ যা আল্লাহর নির্দেশে দু'টি শুক্রাণু প্রাণী দু'টি ডিম্বের সাথে পরাগায়ন হয়। প্রত্যেকটি শুক্রাণু প্রাণী পৃথক পৃথক ডিম্বের সাথে মিলে। নিশ্চয় আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px