📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 গাইরে মুহাররামা সাথে মুসাফাহা-করমর্দন করার হুকুম

📄 গাইরে মুহাররামা সাথে মুসাফাহা-করমর্দন করার হুকুম


স্ত্রী ও মুহাররামাত মহিলাদের ছাড়া অন্য কোন অপরিচিত মহিলার সাথে মুসাফাহা-করমর্দন ও একাকি নির্জনে হওয়া হারাম। আর মুহাররামাত হলো যাদের সাথে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম। চাই আত্মীয়তার জন্যে হোক বা স্তন্যপানের কিংবা বৈবাহিক কারণে হোক।

* স্বামীর ভাই, চাচা, মামা এবং চাচাত-মামাত-ফুফাত ভাইদের জন্য ভাবী, চাচী, মামী ও চাচাত-মামাত-ফুফাত ভাবীদের সাথে মুসাফাহা করা না জায়েয; কারণ তারা সকলেই আজনবী মহিলা তথা মুহাররামাত নয় এবং ভাই ও অন্যান্যরা স্ত্রীর জন্য মুহাররাম নেই。

* কোন আজনবী মহিলার সাথে মুসাফাহা করা না জায়েয এবং এর চেয়ে আরো জঘন্য হলো চুমা দেয়া। চাই সে মহিলা যুবতী হোক বা বুড়ি হোক আর মুসাফাহাকারী যুবক হোক বা বয়স্ক ব্যক্তি হোক। আর হাতে কোন পর্দা দ্বারা হোক বা পর্দা ছাড়া হোক। কারণ রাসূলে করীম (সা) বলেন- "আমি কোন মহিলার সাথে মুসাফাহা তথা করমর্দন করি না।" (হাদীসটি সহীহ, নাসাঈ হাদীস নং ৪১৮১, ইবনে মাজাহ হাদীস নং ২৮৭৪)

* মুসলিমা মহিলার জন্য তার কোন অপরিচিত পুরুষের সাথে মুসাফাহা করা হারাম। আরো হারাম হলো কোন আজনবী যেমন ড্রাইভারের সাথে একাকী গাড়িতে আরোহণ করা。

* কারো সামনে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করা হারাম। আরো হারাম নিজেদের মিলনতথ্য কারো নিকট ফাঁস করা; কারণ রাসূল করীম বলেন: "শেষ বিচার দিবসে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে জঘন্য ব্যক্তি হলো ঐ পুরুষ, যে নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মেলামেশা করে। অত:পর স্ত্রীর গোপন রহস্য ফাঁস করে।” (মুসলিম: হাদীস নং ১৪৩৭)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্বামী স্ত্রীকে সহবাসের জন্যে ডাকার পর না আসলে তার হুকুম

📄 স্বামী স্ত্রীকে সহবাসের জন্যে ডাকার পর না আসলে তার হুকুম


যখন স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় ডাকবে তখন তার ডাকে সাড়া দেয়া স্ত্রীর প্রতি আবশ্যক ও বিরত থাকা হারাম।

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন: “যখন স্বামী স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে আর সে আসতে অস্বীকার করে। ফলে স্বামী তার প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি যাপন করে। তখন সকাল হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা সে স্ত্রীর প্রতি লা'নত করতে থাকে।” (বুখারী: হাদীস নং ৩২৩৭, মুসলিম: হাদীস নং ১৪৩৬)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মাহররাম পুরুষ ব্যতীত মহিলার সফরের বিধান

📄 মাহররাম পুরুষ ব্যতীত মহিলার সফরের বিধান


মাহররাম ব্যতীত মহিলার প্রতি একাকী ভ্রমণ করা হারাম। চাই ভ্রমণ গাড়িতে বা বিমানে কিংবা পানি জাহাজ-স্টীমারে অথবা রেলগাড়িতে হোক বা অন্য কিছুতে হোক; কারণ রাসূল করীম বলেন: "মাহররাম পুরুষ ব্যতীত যেন মহিলা ভ্রমণ না করে। আর তার সাথে মাহররাম না থাকা অবস্থায় যেন কোন পুরুষ তার নিকট প্রবেশ না করে।" (বুখারী: হাদীস নং ১৮৬২ মুসলিম: হাদীস নং ১৩৪১)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 শরিয়তী পর্দার পদ্ধতি

📄 শরিয়তী পর্দার পদ্ধতি


১. মহিলার পর্দা যেন তার গোটা দেহ আবৃত করে। এমন কাপড়ের হয় যেন ভেতরের কিছু প্রকাশ না পায়। ঢিলেঢালা হতে হবে যেন আঁটসাঁট না হয়। নকশি করা যেন না হয়, যার ফলে পুরুষদের দৃষ্টিকে আকষর্ণ করবে। বাইরে যাওয়ার সময় কোন প্রকার আতর-সেন্ট ব্যবহার করবে না। আর বস্ত্র যেন খ্যাতির জন্য এবং কোন পুরুষ বা কাফের নারীদের সদৃশ না হয়। আর তাতে কোন প্রকার ক্রশ চিহ্ন ও ছবি যেন না থাকে。

২. প্রতিটি সাবালক মুসলিমা মহিলা প্রতি শরিয়তী পর্দা করা ফরজ। আর তা হচ্ছে মহিলা ঐ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যা দেখলে পুরুষেরা ফেৎনায় পতিত হয়। যেমন: চেহারা, হাতের তালুদ্বয়, চুল, ঘাড়, পা, পায়ের নলা, হাতের বাহু ইত্যাদি। কারণ আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- "তোমরা তাঁর [নবী করীম-এর] স্ত্রীগণের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ।" [সূরা আহযাব: আয়াত-৫৩]

৩. মহিলার জন্য চাকুরি ক্ষেত্রে, স্কুল-মাদরাসা, হাসপাতাল ইত্যাদিতে গাইয়ে মুহাররাম পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা করা হারাম। আরো হারাম হলো বেপর্দায় চলাফেরা করা এবং স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য তার আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ ও সৌন্দর্যপ্রকাশ করা; কারণ এর মধ্যে রয়েছে অনেক ফেৎনা-ফাসাদ。

৪. মহিলার প্রতি ফরজ হলো যারা তার মাহররাম না তাদের নিকট পর্দা করা। যেমন : দুলাভাই, চাচাত ও মামাত এবং খালাত ইত্যাদি ভাইয়েরা। এরা তার মাহররামের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px