📄 স্ত্রীদের মাঝে বণ্টনের বিধান
স্বামীর অনুমতি নিয়ে স্ত্রী তার দিনগুলো সতীন বা স্বামীকে হেবা-দান করতে পারে এবং স্বামী তা অন্য স্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট করলে জায়েয।
* যার একাধিক স্ত্রী আছে তার জন্য অন্যান্য স্ত্রীদের নিকট (যাদের কাছে আজ যাওয়া দিন না) প্রবেশ করা এবং নিকটবর্তী হওয়া ও খোঁজ-খবর নেয়া জায়েয। তবে রাত হলে যার পালা তার নিকটে প্রত্যাবর্তন করতে হবে এবং তার জন্যই রাত্রি নির্দিষ্ট করতে হবে。
* যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়াই স্ত্রী সফর করে বা তার সঙ্গে সফর করতে কিংবা তার নিকট বিছানায় রাত্রি যাপন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তার জন্য না বণ্টন আর না ভরণ-পোষণ রয়েছে; কারণ সে নাফরমান-অবাধ্য।
📄 বণ্টনের সময়
যার উপার্জনের সময় দিনে তার সময় বণ্টন রাত্রে আর যার উপার্জনের সময় রাত্রে তার সময় বণ্টন দিনে। পবিত্র ও ঋতুবতী এবং বয়স্কা ও ছোট সকলের জন্যে বণ্টন করবে। কিন্তু যদি ঋতুবতী ও রুগিণীর জন্য বণ্টন না করা প্রসঙ্গে ঐক্যমত হয় তাহলে জায়েয। আর যে তার অধিকার বিলুপ্ত করবে চাইলে তার জন্য সময় বণ্টন করবে না।
📄 অনুপস্থিত স্বামীর আগমনের পদ্ধতি
অনুপস্থিত স্বামীর জন্য সুন্নাত নিয়ম হলো হঠাৎ করে বাড়িতে না আসা বরং তার আসার সময় আগেই জানিয়ে দেয়া; যাতে করে স্ত্রী সুন্দরভাবে সাজগোজ ও পরিপাটি করে স্বামীকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাতে পারে। আর মাথার এলোমেলো চুল পরিপাটি-সিঁথী ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করতে পারে।
📄 গাইরে মুহাররামা সাথে মুসাফাহা-করমর্দন করার হুকুম
স্ত্রী ও মুহাররামাত মহিলাদের ছাড়া অন্য কোন অপরিচিত মহিলার সাথে মুসাফাহা-করমর্দন ও একাকি নির্জনে হওয়া হারাম। আর মুহাররামাত হলো যাদের সাথে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম। চাই আত্মীয়তার জন্যে হোক বা স্তন্যপানের কিংবা বৈবাহিক কারণে হোক।
* স্বামীর ভাই, চাচা, মামা এবং চাচাত-মামাত-ফুফাত ভাইদের জন্য ভাবী, চাচী, মামী ও চাচাত-মামাত-ফুফাত ভাবীদের সাথে মুসাফাহা করা না জায়েয; কারণ তারা সকলেই আজনবী মহিলা তথা মুহাররামাত নয় এবং ভাই ও অন্যান্যরা স্ত্রীর জন্য মুহাররাম নেই。
* কোন আজনবী মহিলার সাথে মুসাফাহা করা না জায়েয এবং এর চেয়ে আরো জঘন্য হলো চুমা দেয়া। চাই সে মহিলা যুবতী হোক বা বুড়ি হোক আর মুসাফাহাকারী যুবক হোক বা বয়স্ক ব্যক্তি হোক। আর হাতে কোন পর্দা দ্বারা হোক বা পর্দা ছাড়া হোক। কারণ রাসূলে করীম (সা) বলেন- "আমি কোন মহিলার সাথে মুসাফাহা তথা করমর্দন করি না।" (হাদীসটি সহীহ, নাসাঈ হাদীস নং ৪১৮১, ইবনে মাজাহ হাদীস নং ২৮৭৪)
* মুসলিমা মহিলার জন্য তার কোন অপরিচিত পুরুষের সাথে মুসাফাহা করা হারাম। আরো হারাম হলো কোন আজনবী যেমন ড্রাইভারের সাথে একাকী গাড়িতে আরোহণ করা。
* কারো সামনে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করা হারাম। আরো হারাম নিজেদের মিলনতথ্য কারো নিকট ফাঁস করা; কারণ রাসূল করীম বলেন: "শেষ বিচার দিবসে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে জঘন্য ব্যক্তি হলো ঐ পুরুষ, যে নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মেলামেশা করে। অত:পর স্ত্রীর গোপন রহস্য ফাঁস করে।” (মুসলিম: হাদীস নং ১৪৩৭)