📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারসমূহ

📄 স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারসমূহ


১. স্বামীর প্রতি ওয়াজিব হলো স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণ-পোষণ করা এবং নিয়ম অনুযায়ী বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। খোশ মনের থাকা, উত্তম ব্যবহার করা, সুন্দর সঙ্গী হওয়া। স্ত্রীর সাথে বিনয়, দয়া ও প্রফুল্লচিত্তে মেলামেশা করা। যদি রাগ করে তবে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া এবং অসন্তুষ্ট হলে খুশী করার চেষ্টা করা। স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোন ধরনের কষ্ট পেলে সহ্য করা। অসুস্থ হলে চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া। বাড়ির কাজে তাকে সাহায্য করা। ওয়াজিবসমূহ আদায় এবং হারামসমূহ ছেড়ে দিতে নির্দেশ করা। দ্বীন না জানলে অথবা গুরুত্ব না দিলে তাকে শিক্ষা দেয়া। আর সাধ্যের ওপর কোন কাজের বোঝা না চাপানো। হালাল ও জায়েয কোন জিনিস চাইলে এবং সম্ভবপর হলে তা থেকে বঞ্চিত না করা। স্ত্রীর পরিবারের লোকজনের সম্মান রক্ষা করা এবং তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ না করা।

২. স্বামীর জন্য স্ত্রী থেকে জায়েয যে কোন তৃপ্তি অর্জন এবং ভোগ করা, যে কোন সময় ও যে কোন অবস্থায় জায়েয। কিন্তু সম্ভোগে স্ত্রীর কোন ক্ষতি হলে বা কোন ফরজ থেকে বিরত রাখলে জায়েয নয়।

৩. নিজে যখন যা খাবে স্ত্রীকেও তা খাওয়াবে এবং যখন যা পরবে স্ত্রীকেও অনুরূপ মানের পরাবে। আর চেহারায় প্রহার করবে না এবং কুৎসিত বর্ণনা, তিরস্কার ও ঘৃণা করবে না এবং শুধুমাত্র বিছানায় ব্যতীত অন্য কোন ভাবে ত্যাগ করবে না।

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন: "তোমরা মহিলাদেরকে সদুপদেশ দিবে; কারণ তারা পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি। আর পাঁজরের সবচেয়ে বাঁকা হাড় হচ্ছে উপরের হাড়। অতএব, যদি তুমি তাকে সোজা করতে চাও তবে ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি একেবারে ছেড়ে দাও তবে বাঁকা হতেই থাকবে। কাজেই মহিলাদেরকে সদুপদেশ দিবে।" (বুখারী: হাদীস নং ৫১৮৬ মুসলিম: হাদীস নং ১৪৬৮)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকারসমূহ

📄 স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকারসমূহ


স্ত্রীর করণীয় হচ্ছে স্বামীর খিদমত করা, তার ঘর পরিপাটি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাড়ি পরিচালনা করা, সন্তানদের লালন-পালন করা, তার কল্যাণ কামনা করা। নিজের বিষয়ে স্বামীর মর্যাদা সম্পদ ও বাড়ি হেফাজত করা। সর্বদা প্রফুল্ল ও হাসি মুখে সাক্ষাৎ করা। তার জন্য সাজগোজ করা। সম্মান ও শ্রদ্ধা এবং সুন্দরভাবে মেলামেশা করা। স্বামীর জন্য আরাম-বিশ্রামের উপকরণাদি প্রস্তুত করে রাখা। স্বামীর অন্তরে প্রশান্তি দান করা যাতে করে বাড়িতে সুখ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

আল্লাহর নাফরমানি হবে না এমন কাজে তার আনুগত্য করা। আর যা দ্বারা রাগ হয় এমন কাজ ছেড়ে দেয়া। অনুমতি ব্যতীত বাড়ির বাইরে যাবে না। তার কোন গোপন রহস্য প্রকাশ করবে না। অনুমতি ছাড়া তার সম্পদে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। যাকে পছন্দ করে সে ছাড়া আর কাউকে বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। তার পরিবারের মান-সম্মান রক্ষা করা এবং অসুস্থ বা অপারগ অবস্থায় সম্ভবপর তাকে সাহায্য করা。

* এর দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, একজন মহিলা তার স্বামীর বাড়িতে ও তার সমাজে, যেমন গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদির আঞ্জাম দেয়, যা পুরুষের বাড়ির বাইরের কার্যাদির চেয়ে কোন দিক থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অতএব, যারা মহিলাদেরকে বাড়ি থেকে ও তার কর্মস্থল থেকে বের করতে চায় এবং পুরুষদের কাজে অংশগ্রহণ করাতে ও তাদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা করে ভিড় জমাতে চায়, তারা দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ বুঝতে অন্ধকারের গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়েছে তারই প্রমাণ। আর নিজেরাই কেবল গোমরাহ হয়নি বরং অন্যদেরকেও গোমরাহ করছে, যার ফলে তাদের সামাজিক অবকাঠামো বিপর্যয়ের দিকে নিপতিত হয়েছে।

* স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি যা আবশ্যক তা নিয়ে টালবাহনা করা এবং তা আদায়ে অবহেলা ও অপছন্দ করা হারাম। আরো হারাম উপকারের খোঁটা ও কষ্ট দেয়া।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 হায়েয-ঋতু অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসের হুকুম

📄 হায়েয-ঋতু অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসের হুকুম


১. হায়েয বা ঋতু চলাকালীন পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম।
২. স্ত্রীর মলদ্বারে সহবাস করা হারাম। আর যে তার স্ত্রীর মলদ্বারে সহবাস করবে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। মলদ্বার নোংরা ও ময়লার স্থান।
৩. স্ত্রীর হায়েয বা ঋতু বন্ধ হলে এবং গোসলের পরে স্বামীর জন্য সহবাস করা জায়েয আর গোসলের আগে জায়েয নয়।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- "আর তোমার নিকট জিজ্ঞেস করে হায়েয (মাসিক ঋতু) প্রসঙ্গে। বলে দাও, এটা অপবিত্র। কাজেই তোমরা মাসিক ঋতু অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন ভালোভাবে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের নিকট, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।” [সূরা বাকারা: ২২২]

* স্বামীর অধিকার রয়েছে স্ত্রীকে মাসিক শেষে গোসল করতে এবং অপবিত্র বস্তু ধৌত করতে বাধ্য করার। আর শরীরের যে সকল লোম বা পশম ইত্যাদি অপছন্দকর সেগুলো কাটতে বাধ্য করার অধিকারও রয়েছে।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 সদৃশ ও সন্তান জন্মের রহস্য

📄 সদৃশ ও সন্তান জন্মের রহস্য


১. স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় তার বীর্যপাত প্রথমে হলে তার সদৃশ সন্তান হবে। আর যদি স্ত্রীর বীর্যপাত প্রথমে হয় তবে সন্তান স্ত্রীর সদৃশ হবে。
২. আর যদি পুরুষের বীর্য মহিলার ডিম্বের উপরে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তান ছেলে হবে। আর যদি মহিলায় ডিম্ব পুরুষের বীর্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তান মেয়ে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px