📄 অলিমার সময়
বিবাহ বন্ধনে হওয়ার সময় বা পরে কিংবা বাসর ঘরের সময় অথবা পরে। এটি মানুষের প্রথা ও রীতি অনুযায়ী রাত্রে বা দিনে হবে।
📄 অলিমার হুকুম
১. স্বামীর প্রতি বৌভাত করা ওয়াজিব। ধনী-গরিবের অবস্থা বুঝে একটি বা তার বেশি গরু ও ছাগল দ্বারা বৌভাত করা সুন্নাত। বৌভাত ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে অপব্যয় করা হারাম।
২. বৌভাতের অনুষ্ঠানে গরীব হোক বা ধনী হোক সৎ ব্যক্তিদের দাওয়াত করতে হবে। বৌভাত যে কোন হালাল খাবার দ্বারা করা জায়েয। গরীব-মিসকীনদের দাওয়াত না করে শুধুমাত্র ধনীদের দাওয়াত করা হারাম।
৩. ধনবান ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিজেদের সম্পদ দ্বারা বিবাহের অলিমায় অংশগ্রহণ করা মুস্তাহাব।
📄 বৌভাতের দাওয়াত গ্রহণ করার হুকুম
বৌভাতের দাওয়াতকারী যদি মুসলিম হয়, দাওয়াত নির্দিষ্ট করে দেয়, প্রথম দিনে হয় এবং কোন তার ওজর না থাকে ও এমন কোন শরিয়ত বিরোধী কাজ-কর্ম না হয় যা পরিবর্তন করতে অক্ষম, তবে দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলে করীম বলেছেন: "যদি তোমাদের কেউ (অলিমার) দাওয়াতে আমন্ত্রিত হয়, তবে সে যেন তা গ্রহণ করে। আর যদি রোযাদার হয় তবে যেন তার জন্য দোয়া করে। আর রোযাদার না হলে খাবার খাবে।" (মুসলিম: হাদীস নং ১৪৩১)
📄 বৌভাতের আমন্ত্রণে উপস্থিত ব্যক্তি কি বলবে
যে ব্যক্তি বৌভাতের দাওয়াত গ্রহণ করবে এবং দাওয়াতে হাজির হবে তার জন্য মুস্তাহাব হলো, পানাহার শেষে রাসূলে করীম হতে প্রমাণিত দু'আসমূহ দ্বারা মেজবানের জন্য দোয়া করা। যেমন-
১. "আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফীমা রজাক্তাহুম, ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম।” (তিরমিযী: হাদীস নং ৩৫০০)
২. "আল্লাহুম্মা আত'ইম মান আত'আমানী ওয়াস্কি মান সাক্বানী।” (মুসলিম: হাদীস নং ২০৫৫)
৩. "আফতারা 'ইন্দাকুমুস স-ইমূন, ওয়া আকালা ত্ব'আমাকুমুল আবরার, ওয়া সল্লাত 'আলাইকুমুল মালাইকাহ।" (হাদীসটি সহীহ, আবু দাউদ: হাদীস নং ৩৮৫৪, ইবনে মাযাহ হাদীস নং ১৭৪৭)
* বাসর ঘরের রাত্রির সকালে বরের বাড়িতে যে সব আত্মীয়-স্বজন আসবে তাদের সাথে বরের সাক্ষাৎ করা, তাদের প্রতি সালাম দেয়া এবং তাদের জন্য দোয়া করা মুস্তাহাব। আর আত্মীয়-স্বজনও তার প্রতি সালাম দিবে এবং তার জন্য দোয়া করবে।