📄 বিবাহ ও অন্যান্য সময় ছবি তোলার বিধান
১. প্রতিটি আত্মা বিশিষ্ট জিনিসের ছবি তোলা হারাম ও কবিরা গুনাহ। ছবি আকৃতি বিশিষ্ট হোক বা না হোক, ছায়া থাক বা না থাক, হাত দ্বারা করা হোক বা ফটোগ্রাফি দ্বারা হোক সর্বপ্রকার ছবি দেয়ালে লটকানো-ঝুলানো হারাম। আর অতি প্রয়োজনে যেমন: চিকিৎসা, অপরাধীদের পরিচয়, পাসপোর্ট ও সার্টিফিকেট ইত্যাদি ছাড়া ছবি তোলা জায়েয নয়, তবে অতি প্রয়োজনে জায়েয আছে।
২. বিবাহ অনুষ্ঠানে নারীদের হোক বা পুরুষের কিংবা উভয়ের ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে হারাম। আর তার চেয়ে কঠিনভাবে হারাম ও নিকৃষ্ট যদি ভিডিও ছবি করা হয়। আর এর চেয়েও জঘন্য যদি বাজারে বিক্রি করা হয় এবং মানুষের নিকটে প্রদর্শনী করা হয়। আর যে মানুষের জন্য ছবি তোলা জায়েয করেছে তার প্রতি নিজের পাপ ও যারা কিয়ামত পর্যন্ত এ কাজ করবে তাদের পাপ বর্তাবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) কর্তৃক বর্ণিত, নবী করীম বলেছেন: “নিশ্চয়ই যারা এ সকল ছবি তৈরি করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে: যা তোমরা সৃষ্টি করেছিলে তা জিন্দা কর।” (বুখারী হাদীস নং ৫৯৫১; মুসলিম হাদীস নং ২১০৮)
📄 যা নারীদের জন্য হারাম
মহিলাদের প্রতি হারাম হলো চোখের ভুরু উঠানো, মাথায় কৃত্রিম কেশ পরা, অন্যের চুল মিলানো, শরীরে উলকি চিহ্ন করা, দাঁতের মাঝে কেটে ফাঁক করা, দাঁত কেটে তীক্ষ্ণকরণ, পুরুষের সঙ্গে নাচা, চল্লিশ দিনের বেশি পর্যন্ত আঙ্গুলের নখ না কেটে লম্বা করা, যা প্রকৃতি স্বভাবের বিপরীত কাজ। পুরুষের কাপড়ের ন্যায় যে কোন কাপড় পরিধান করা, অহঙ্কার ও খ্যাতির পোশাক পরা, যার মধ্যে অপচয় রয়েছে, বেপর্দায় ঘুরাফিরা করা, অপ্রয়োজনে উলঙ্গ হওয়া, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরুষদের সাথে অবাধে মেলামেশা করা।
📄 যা পুরুষ ও মহিলার জন্য জায়েয
১. যদি দেহের কোন ক্ষতি এবং মহিলাদের সদৃশ উদ্দেশ্য না হয় তবে পুরুষের জন্য তার দেহের যেমন: পিঠ, বুক, পায়ের নলা ও উরুর লোম উঠানো জায়েয।
২. নারীদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমী পোশাক পরা জায়েয আর পুরুষদের জন্য হারাম। আর পানি পৌঁছতে বাধা দেয় না এমন নখপালিশ ব্যবহার মহিলাদের জন্য জায়েয। যেমন: মেহেদি ইত্যাদি। অনুরূপ চেহারায় যথা স্থানে না এমন লোম গজালে তা উঠান জায়েয। কাফির মহিলাদের সদৃশ অনুসরণ করা হারাম; কারণ যে জাতি যাদের সদৃশ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়।
📄 কাফের মহিলাদের সাথে মহিলাদের সদৃশ করার বিধান
নারীদের জন্য পেন্ট পরা নাজায়েয যদিও মহিলাদের সামনে হোক না কেন; কারণ এর দ্বারা দেহের বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ পায়। আরো কারণ হচ্ছে এর দ্বারা পুরুষ ও কাফির মহিলাদের সাথে সদৃশ হয়। মহিলার প্রতি আরো হারাম হচ্ছে মাথার চুল কৃত্রিম লাল কিংবা হলুদ অথবা নীল রঙ্গ দ্বারা খেজাব-কলপ করা; কারণ এর দ্বারা কাফির মহিলাদের সাথে সদৃশ এবং ফেৎনা সৃষ্টি হয়। আর পাকা চুল মেহেদি ও কাতাম ঘাস দ্বারা খেজাব লাগানো সুন্নাত। আর চুলের আসল রঙ কালো বা হলুদকে সে রঙের রঙ দ্বারা কলপ করা জায়েয। হাইহিল বিশিষ্ট জুতা-সেন্ডেল পরা হারাম; এটি বেপর্দার শামিল যা থেকে আল্লাহ তা'আলা নিষেধ করেছেন। নারীদেরকে চোখ দেখা যায় এমন নেকাব পরতে নিষেধ করতে হবে; কারণ এর দ্বারা বেশি করে চোখ বের করে রাখার দরজা খুলে যাবে। বর্তমানে বাস্তবে যে সব দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণভাবে নাজায়েয।