📄 মোহরানা দেয়ার হুকুম
মোহরানা মহিলার হক-অধিকার যা পুরুষকে তার গুপ্তাঙ্গ বৈধ করার জন্য প্রদান করা তার প্রতি ফরজ। আর তার সন্তুষ্টি ব্যতীত তা থেকে কোন অংশ নেয়া কারো জন্য বৈধ নয়। তার ক্ষতি না হলে এবং দরকার না থাকলে শুধুমাত্র বাবার জন্য মোহরানা থেকে গ্রহণ করা বৈধ যদিও সে অনুমতি না দেয়।
📄 মোহরানার পরিমাণ
১. মহিলাদের মোহরানা কম ও সহজ হওয়াটাই সুন্নাত। সর্বোত্তম মহর হলো যা আসান ও আদায়ে সহজ। আর অধিক পরিমাণ মহর কখনো স্বামী স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হওয়ার কারণও হতে পারে। মহর অপচয় ও গর্ব-অহঙ্কারের সীমা পর্যন্ত পৌঁছলে এবং ঋণের বোঝায় স্বামীর ঘাড় ভারী হলে হারাম।
আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম-এর স্ত্রী আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করি। আল্লাহর রাসূলের মোহরানা কত ছিল? তিনি বলেন: রাসূলে করীম ﷺ-এর স্ত্রীগণের মোহরানা ছিল সাড়ে বারো উকিয়া। ---- যার পরিমাণ হলো পাঁচশত দিরহাম। আর এটি হলো রাসূলে করীম ﷺ-এর স্ত্রীগণের মোহরানা।" (মুসলিম হাদীস, নং ১৪২৬)
২. রাসূলে করীম ﷺ-এর স্ত্রীগণের মোহরানা ছিল পাঁচশত দিরহাম (১৩১ ভরি-তোলা তথা ১৫২৭.৪৬ গ্রাম রূপা)। আর তাঁর কন্যাদের মোহরানা ছিল চারশত দিরহাম (১০৫ ভরি-তোলা তথা ১২২৪.৩ গ্রাম রূপা)। আমাদের জন্য রাসূল করীম-এর মাঝেই রয়েছে সর্বোত্তম নমুনা ও আদর্শ।
📄 মোহরানার শ্রেণীভেদ
যে সব জিনিসের মূল্য রয়েছে তা মোহরানা ধার্য করা বিশুদ্ধ যদিও পরিমাণে কম হোক না কেন। মহরের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা নেই। যদি স্বামী গরীব হয় তবে স্ত্রীর মহর হিসেবে কোন উপকারী জিনিস করতে পারে। যেমন: কুরআন শিক্ষা অথবা খিদমত ইত্যাদি। পুরুষ তার দাসীকে আযাদ করে তাই মহর নির্ধারণ করতে পারে এবং দাসী স্ত্রীতে পরিণত হবে।
📄 মোহরানা দেয়ার সময়
মোহরানা নগদ করাই ভালো। কিন্তু বাকি করাও বৈধ আছে। অথবা কিছু নগদ আর কিছু বাকি করাও বৈধ। আর যদি আক্বদের সময় মোহরানা পরিশোধ না করে থাকে তবে বিবাহ বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু স্ত্রীর জন্য মহরে মেছাল ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে কমের ওপর ঐক্যমতে সন্তুষ্টি চিত্তে পৌঁছে যায় তবে সহীহ হয়ে যাবে。
* যদি কেউ তার কন্যার বিবাহ মহরে মেছাল বা তার চেয়ে কম কিংবা বেশি দ্বারা দেয় তবে বিবাহ বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। মহিলা বিবাহ বন্ধনের দ্বারা মোহরানার মালিক হয় এবং মহর পূর্ণতা লাভ করে সহবাস ও স্বামীর সঙ্গে নির্জনে হলে।