📄 বিবাহের মধ্যে দোষ-ত্রুটির প্রকারভেদ
বিবাহের মধ্যের দোষ-ত্রুটি দু' প্রকার:
১. এমন দোষ যার ফলে মিলনে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন: পুরুষের লিঙ্গ কাটা, অণ্ডকোষ কাটা ও যৌন অক্ষমতা এবং মহিলার যোনী পথ বন্ধ, আঁট ও গর্ভাশয় ভ্রংশ (Prolapse) হওয়া।
২. এমন দোষ-ত্রুটি যা সহবাসের তৃপ্তিতে বাধা দেয় না, কিন্তু ঘৃণা সৃষ্টি করে কিংবা পুরুষ বা মহিলার মাঝে সংক্রমণ করে। যেমন: শ্বেতকুষ্ঠ ও কুষ্ঠরোগ, পাগলামি, গোদরোগ, অর্শরোগ (Piles) ভগন্দর রোগ (Fistula) ও যোনিতে প্রমেহ রোগ ইত্যাদি。
* যদি স্ত্রী স্বামীকে পূর্ণ লিঙ্গ কাটা পায় অথবা এতটুকু লিঙ্গ অবশিষ্ট থাকে যা দ্বারা সহবাস অসম্ভব তবে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবে। আর যদি বিবাহ বন্ধনের আগেই জানে এবং মেনে নেয় অথবা সহবাসের পরে মেনে নেয়, তাহলে স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার রহিত হয়ে যাবে。
* এমন প্রতিটি দোষ-ত্রুটি যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘৃণা জন্মায়। যেমন: কুষ্ঠরোগ, বোবা, যোনিতে ত্রুটি, প্রমেহ, পাগলামি, গোদরোগ, পেশাব ঝরা, অণ্ডকোষ কাটা, যক্ষ্মারোগ, দুর্গন্ধপূর্ণ মুখ, খারাপ গন্ধ ইত্যাদি। এসব পেলে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের জন্য ইচ্ছা করলে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবে। আর যে দোষ মেনে নিবে এবং আব্দ করবে তার জন্য বিচ্ছেদের ইচ্ছাধীন থাকবে না। কিন্তু যদি দোষ বিবাহ বন্ধনের পরে ঘটে তবে প্রত্যেকের বিবাহ বিচ্ছেদের এখতিয়ার থাকবে。
* পূর্বে উল্লেখিত ও এরূপ কোন দোষের জন্য সহবাসের পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ত্রী মোহরানা পাবে না। কিন্তু যদি বিচ্ছেদ সহবাসের পরে হয় তাহলে নিকাহ নামায উল্লেখিত মোহরানা পাবে। আর স্বামী যে তাকে ধোঁকা দিয়েছে তার থেকে মোহরানা গ্রহণ করবে。
* অস্পষ্ট নপুংসক-হিজড়া প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বিশুদ্ধ হবে না。
* স্বামী যদি বন্ধ্যা প্রমাণিত হয় তবে স্ত্রীর জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ করা বা না করার সুযোগ আছে; কারণ তার সন্তানের অধিকার রয়েছে。
* যৌন অক্ষম : যে স্ত্রীর যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করাতে অক্ষম। যে নারী তার স্বামীকে যৌন অক্ষম পাবে তার বিচার ফয়সালার পর এক বছর সময় দেয়া হবে। যদি এর মধ্যে সহবাস করতে পারে তো উত্তম আর যদি না পারে তবে স্ত্রীর জন্য বিচ্ছেদ করা জায়েয। আর যদি বাসর ঘরের আগে বা পরে স্ত্রী যৌন অক্ষম স্বামীকে মেনে নেয় তবে তার এখতিয়ার রহিত হয়ে যাবে।