📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মুসলিম মহিলার সাথে বিধর্মীর বিবাহের হুকুম

📄 মুসলিম মহিলার সাথে বিধর্মীর বিবাহের হুকুম


বিধর্মীর সাথে মুসলিমা মহিলার বিবাহ হারাম। চাই সে আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) হোক বা অন্য কেউ হোক; কারণ মুসলিমা মহিলা তাওহীদ, ঈমান এবং পবিত্রতার দিক থেকে তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদাশীলা। আর যদি এরূপ বিয়ে হয়ে যায়, তবে তা বাতিল এবং হারাম এটি বিচ্ছেদ করা ওয়াজিব; কারণ কোন মুসলিম পুরুষ বা মুসলিমা মহিলার ওপর কোন কাফেরের কর্তৃত্ব আসা চলবে না।

আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন: “আর তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরিক মহিলা অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের নিকট ভালো লাগে। আর তোমরা (মুসলিমা মহিলাকে) কোন মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ কর না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরিকের তুলনায় অনেক উত্তম, যদিও তোমরা তাদেরকে দেখে মোহিত হও।” [সূরা বাকারা: ২২১]

এমন বাতিল শর্তাবলী যার দ্বারা বিবাহের আকুদ বাতিল হয় না। যেমন- ১. যদি স্বামী বিবাহ বন্ধনের ক্ষেত্রে মহিলার কোন অধিকার রহিত করে। যেমন : শর্ত করে যে, তার কোন মোহরানা নেই অথবা তার ভরণ-পোষণ নেই কিংবা তার জন্য সতীনের চেয়ে কম বা বেশি বণ্টন করবে। অথবা স্ত্রী শর্ত করে তার সতীনের তালাকের এমন অবস্থায় বিবাহ বিশুদ্ধ হবে তবে শর্ত বাতিল হয়ে যাবে। ২. যদি স্বামী শর্ত করে স্ত্রীকে মুসলিমা মহিলা হতে হবে। কিন্তু জানা গেল যে সে কিতাবিয়া তথা ইহুদি বা খ্রিস্টান। অথবা শর্ত করেছিল যে কুমারী হতে হবে কিন্তু বিবাহিতা প্রমাণিত হলো, কিংবা শর্ত করেছিল দোষ-ত্রুটি মুক্ত হবে কিন্তু দোষ ধরা পড়ল। যেমন: অন্ধ বা বোবা ইত্যাদি যা উল্লেখ করেছিল তার বিপরীত, তবে বিবাহ বিশুদ্ধ কিন্তু স্বামী চাইলে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবে। ৩. যদি স্বাধীন বলে বিয়ে করে আর প্রমাণিত হয় যে দাসী, তবে স্বামীর জন্য ইচ্ছাধীন রয়েছে, যদি দাসী তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যে তার জন্য হালাল। আর যদি কোন মহিলা স্বাধীন পুরুষকে বিয়ে করে আর প্রমাণিত হয় যে, সে দাস, তাহলে মহিলার জন্য ইচ্ছাধীন রয়েছে তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে থাকা অথবা বিচ্ছেদ ঘটানো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px