📄 মুত‘আ (সম ভোগের) বিয়ে
এটি হচ্ছে এক দিন বা সপ্তাহ কিংবা মাস অথবা বছর বা এর বেশি বা কম সময়ের জন্য কোন নারীর সাথে মোহরানা দিয়ে এ শর্তে আক্বদ করা যে, সময় শেষ হলেই তাকে ছেড়ে দিবে। এ জাতীয় বিয়ে বাতিল; কারণ এর দ্বারা মহিলার ক্ষতি সাধন হবে এবং তাকে ব্যবসা সামগ্রীতে পরিণত করা হবে, যার ফলে এক হাত থেকে অন্য হাতে হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া সন্তানরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে; কারণ তারা না পাবে একটি স্থায়ী বাসস্থান যেখানে তারা বসবাস করবে ও লালিত পালিত হবে। এর দ্বারা কেবল যৌন চাহিদা পূরণ করাই উদ্দেশ্য, না হবে বংশ বৃদ্ধি আর না সন্তানদের লালন পালন। মুত'আ বিবাহ ইসলামের প্রথম যুগে কিছু সময় জায়েয ছিল এরপর চিরতরে হারাম করে দেয়া হয়েছে。
সাবরা আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম বলেন: “হে মানুষ সকল! আমি তোমাদেরকে মুত'আ বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলাম। স্মরণ রাখ! নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এটি চিরতরে শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন। কাজেই মুত'আর বিয়ের এমন কেউ কারো নিকটে থাকলে তার পথ যেন খুলে দেয়। আর যা তাদেরকে দিয়েছ তার কোন অংশগ্রহণ না করে।" (মুসলিম: হাদীস নং ১৪০৬)
* যে ব্যক্তির বন্ধনে চার জন স্ত্রী রয়েছে। তার জন্য পঞ্চম স্ত্রীর আক্বদ বিশুদ্ধ হবে না এবং করলেও বিবাহ বাতিল বলে প্রমাণিত হবে ও তা শেষ করা ওয়াজিব।
📄 মুসলিম মহিলার সাথে বিধর্মীর বিবাহের হুকুম
বিধর্মীর সাথে মুসলিমা মহিলার বিবাহ হারাম। চাই সে আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) হোক বা অন্য কেউ হোক; কারণ মুসলিমা মহিলা তাওহীদ, ঈমান এবং পবিত্রতার দিক থেকে তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদাশীলা। আর যদি এরূপ বিয়ে হয়ে যায়, তবে তা বাতিল এবং হারাম এটি বিচ্ছেদ করা ওয়াজিব; কারণ কোন মুসলিম পুরুষ বা মুসলিমা মহিলার ওপর কোন কাফেরের কর্তৃত্ব আসা চলবে না।
আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন: “আর তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরিক মহিলা অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের নিকট ভালো লাগে। আর তোমরা (মুসলিমা মহিলাকে) কোন মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ কর না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরিকের তুলনায় অনেক উত্তম, যদিও তোমরা তাদেরকে দেখে মোহিত হও।” [সূরা বাকারা: ২২১]
এমন বাতিল শর্তাবলী যার দ্বারা বিবাহের আকুদ বাতিল হয় না। যেমন- ১. যদি স্বামী বিবাহ বন্ধনের ক্ষেত্রে মহিলার কোন অধিকার রহিত করে। যেমন : শর্ত করে যে, তার কোন মোহরানা নেই অথবা তার ভরণ-পোষণ নেই কিংবা তার জন্য সতীনের চেয়ে কম বা বেশি বণ্টন করবে। অথবা স্ত্রী শর্ত করে তার সতীনের তালাকের এমন অবস্থায় বিবাহ বিশুদ্ধ হবে তবে শর্ত বাতিল হয়ে যাবে। ২. যদি স্বামী শর্ত করে স্ত্রীকে মুসলিমা মহিলা হতে হবে। কিন্তু জানা গেল যে সে কিতাবিয়া তথা ইহুদি বা খ্রিস্টান। অথবা শর্ত করেছিল যে কুমারী হতে হবে কিন্তু বিবাহিতা প্রমাণিত হলো, কিংবা শর্ত করেছিল দোষ-ত্রুটি মুক্ত হবে কিন্তু দোষ ধরা পড়ল। যেমন: অন্ধ বা বোবা ইত্যাদি যা উল্লেখ করেছিল তার বিপরীত, তবে বিবাহ বিশুদ্ধ কিন্তু স্বামী চাইলে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবে। ৩. যদি স্বাধীন বলে বিয়ে করে আর প্রমাণিত হয় যে দাসী, তবে স্বামীর জন্য ইচ্ছাধীন রয়েছে, যদি দাসী তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যে তার জন্য হালাল। আর যদি কোন মহিলা স্বাধীন পুরুষকে বিয়ে করে আর প্রমাণিত হয় যে, সে দাস, তাহলে মহিলার জন্য ইচ্ছাধীন রয়েছে তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে থাকা অথবা বিচ্ছেদ ঘটানো।