📄 শরীয়ত পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকা
শরীয়ত পরিপন্থী সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে মানুষ সীমালঙ্ঘন করে তা থেকে। আলেমদের চুপ থাকার কারণে অনেকেই ধারণা করে এতে কোন অসুবিধা নেই। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে যেমন-
১. ছবি ঝুলানো: প্রথম : দেয়ালে ছবি ঝুলানো: দেহ বিশিষ্ট (মূর্তির ন্যায়) বা দেহ বিহীন যার ছায়া আছে অথবা ছায়া নেই। অথবা সেটা আর্ট করা হোক বা ফটোগ্রাফীর মাধ্যমে করা হোক সকলই সমান এবং কেননা এগুলো সবই নাজায়েয। যে সক্ষম তার কর্তব্য হলো ছবিগুলো অপসারণ করা। যদি সক্ষম না হয় তাহলে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করা ওয়াজিব। এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
১. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার সাহ্ওয়াহ বা ছোট বাড়িতে ছবিওয়ালা একটি পাতলা পর্দার দ্বারা পর্দা করলাম। অপর বর্ণনায় আছে, এতে পাখা বিশিষ্ট ঘোড়ার ছবি ছিল। রাসূলে করীম আমার নিকট প্রবেশ করলেন। আর যখন তিনি তা দেখলেন তখন সেটা ছিঁড়ে ফেললেন এবং তার মুখমণ্ডল রঙিন হয়ে গেল। আর তিনি বললেন, হে আয়েশা! শেষ বিচার দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে ঐ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের যারা আল্লাহ সৃষ্টির সাদৃশ্য নির্মাণ করে। অপর বর্ণনায় আছে, নিশ্চয় এর ছবির মালিকদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তা জীবিত করো। এরপর বললেন, যে বাড়িতে ছবি ঝুলানো থাকে সে বাড়িতে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আয়েশা (রা) বলেন, আমি তা কেটে ফেললাম। আর সেটা দিয়ে একটি অথবা দু'টি বালিশ প্রস্তুত করলাম। (আমি তার একটিতে হেলানরত অবস্থায় নবী করীম-কে দেখেছি আর তাতে ছবি ছিল)। (বুখারী, ১০/৩১৭-৩১৮; মুসলিম, ৬/১৫৮-১৬০; বাইহাকী)
২. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম-এর জন্য একটি বালিশ প্রস্তুত করলাম তাতে ছবি ছিল। সেটা গদির মতো মনে হতো, তিনি দু' দরজার মাঝে দাঁড়ালেন এবং তার চেহারা পরিবর্তন হতে লাগল। আমি বললাম, আমাদের কি হল হে আল্লাহর রাসূল! আমি যে পাপ করেছি তার জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করছি, তিনি বললেন: এ বালিশটির কি হল? আয়েশা (রা) বলেন, আমি বললাম, আমি আপনার জন্য বালিশটি নির্মাণ করেছি যাতে আপনি এর উপর হেলান দিতে পারেন। তিনি বললেন, তুমি কি জান না যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আর যে ছবি নির্মাণ করে তাকে শেষ বিচার দিবসে শাস্তি দেয়া হবে। এ ছবি মালিকদেরকে শেষ বিচার দিবসে শাস্তি দেয়া হবে। আয়েশা (রা) বললেন, আমি তা বাহির না করা পর্যন্ত তিনি প্রবেশ করলেন না। (বুখারী, ২/১১, ৪/১০৫)
নবী করীম ﷺ এর বাণী: আমার নিকট জিবরাঈল (আ) আসলেন। এসে আমাকে বললেন, আমি গতরাতে আপনার নিকট এসেছিলাম। দরজায় ঝুলানো ছবি ছাড়া অন্য কোন কিছু যাতে ছবি ছিল এবং ঘরের ভিতর কুকুর ছিল। তাই ঘরের মধ্যে যে ছবি আছে তার মাথা নষ্ট করতে বলুন। অতঃপর তা বৃক্ষের ন্যায় হয়ে যাবে এবং পর্দাটিকে কেটে টুকরা করতে আদেশ করুন এর দ্বারা দু'টি গদি বানাতে বলুন এবং কুকুরটি বাহির করতে বলুন। (যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে তাতে আমরা প্রবেশ করি না) যখন দেখা গেল কুকুরটি হাসান ও হোসাইনের। যা তাদের নিচের সারিতে ছিল (অন্য বর্ণনায় খাটের নিচে) তখন নবী করীম বললেন, হে আয়েশা! এ কুকুর কখন প্রবেশ করল। আয়েশা বললেন, আল্লাহর কসম! আমি জানি না। নবী করীম সেটা বের করার নির্দেশ দিলে বের করা হল। (এরপর হাতে পানি নিলেন কুকুরের স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। (আবু দাউদ, ২/১৮৯, নাসাঈ, ২/৩০২, তিরমিযী, ৪/২১)