📄 রিফ্ ও বানীন এটা জাহিলী যুগের অভিনন্দন
স্বাগত জানানোর জন্য রিফা ও বানীন বলবে না, যেমন যারা না জানে তারা করে থাকে। কেননা এটা জাহিলী যুগের কাজ, এ বিষয়ে অনেক হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।
হাসান থেকে বর্ণিত আছে, আকীল ইবনে আবু তালিব জাশামের এক নারীকে বিবাহ করলেন। তার লোকজন ঘরে প্রবেশ করলেন। তারা বলল: রিফা ওয়াল বানীন। তিনি তখন বললেন, এ কাজ করো না। কেননা, নবী করীম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তারা বলল: তাহলে আমার কি বলব, হে আবু যায়েদ? তিনি বললেন, তোমার বলবে- বারাকাল্লাহু লাকুম, অবারাকা আলাইকুম। অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের উপর বরকত দিন। আমাদেরকে এরূপই আদেশ করা হতো। (ইবনে মাজাহ, ১/৫৮৯; নাসাঈ, ২/৯১; বাইহাকী, ৭/১৪৮)
📄 নববধু অন্যান্য পুরুষদের সেবা করতে পারবে
নববধূ নিজেই দাওয়াতকৃত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের খিদমত করতে পারবে, এতে কোন অসুবিধা নেই। যখন সে পর্দানশীলা ও ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যা সাহাল বিন সা'দ এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
সাহল ইবনে সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবু উসাইদ আস সায়াদী বিবাহ করলেন, তখন তিনি নবী করীম এবং তাঁর সাহাবীদেরকে দাওয়াত দিলেন। তিনি তাদের জন্য কোন খাবার প্রস্তুত করলেন না এবং তাদের নিকট তিনি কিছু এগিয়ে দিলেন না। কিন্তু তাঁর স্ত্রী উম্মু উসাইদ যা কিছু করলেন। তিনি রাতে পাথরের এক পাত্রে খেজুর ভিজিয়ে ছিলেন। যখন নবী করীম খাওয়া সমাপ্ত করলেন তখন অনুষ্ঠানে নিজ হাতে তিনি তাঁকে আপ্যায়ন করেন এবং তিনি তাঁকে পান করান। (তার স্ত্রী উন্মু উসাইদ সেদিন তাদের সেবিকা ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন নববধূ)। (বুখারী, ৯/২০০, ২০৫, ২০৬; মুসলিম, ৬/১০৩; ইবনু মাজাহ, ৫৯০-৫৯১)
📄 বিবাহ অনুষ্ঠানে গান করা ও দফ বাজানো
কেবলমাত্র দফ বা তবলা বাজিয়ে বিবাহের ঘোষণা করার জন্য নারীদেরকে অনুমতি দেয়া জায়েয এবং ঐ সব গান করা জায়েয যাতে সৌন্দর্যের বর্ণনা ও নির্লজ্জকর কোন কথা নেই। এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
প্রথম হাদীস: রুবাই বিনতে মু'আওবিষ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার জন্য যখন বাসর সাজানো হল নবী করীম প্রবেশ করলেন। তিনি আমার বিছানায় উপবিষ্ট হলেন। তুমি যেভাবে আমার নিকট বসেছ (উদ্দেশ্য তার নিকট থেকে বর্ণনাকারীর) আমাদের বাচ্চারা দফ বা তবলা বাজাতে লাগল। আমাদের যে বাপ-দাদারা উহুদে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের শোকগাথা গুণকীর্তন করতে লাগল। এর মধ্যে তাদের একজন বলল: আমাদের মাঝে এমন নবী বিদ্যমান রয়েছেন, যিনি আগামীকাল কি হবে তা জানেন। তখন নবী করীম বললেন, এ কথা বাদ দাও এবং যা প্রথমে বলতে ছিলে তা বল। (বুখারী, ২/৩৫২, ১/১৬৬-১৬৭; বাইহাকী, ৭/২৮৮)
দ্বিতীয় হাদীস: আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি এক নারীকে আনসারী এক ব্যক্তির বাসর ঘরে প্রেরণ করলেন। নবী করীম বললেন, হে আয়েশা! তোমাদের কি বিনোদন করার মতো কিছু নেই, কেননা আমোদ-প্রমোদ বিনোদন আনসারীদেরকে আনন্দিত করে। (বুখারী, ৯/১৮৪-১৮৬; বাইহাকী, ৭/২৮৮)
অন্য এক বর্ণনায় আছে এ শব্দে: "তখন তিনি বললেন, তুমি কি তার সাথে বালিকা প্রেরণ করেছ যারা দফ বাজাবে ও গান করবে? আমি বললাম, সে কি বলবে? তিনি বললেন, সে বলবে: আমরা তোমাদের নিকট এসেছি, আমরা তোমাদের নিকট এসেছি, অতএব আমরা স্বাগতম জানাচ্ছি, আমরা তোমাদেরকে স্বাগতম জানাচ্ছি। যদি লাল স্বর্ণ না হতো তাহলে তোমাদের নিকট বেদুঈন নারীগণ আসত না। আর যদি পিঙ্গল বর্ণ গম না হতো তোমাদের নিকট কুমারী নারীগণ মোটা হতো না। (ত্ববরানী যাওয়ায়িদাহ ১/১৬৭/১)
অন্য এক বর্ণনায় আছে- আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে আরো বর্ণিত যে, নবী করীম লোকজনকে বিবাহ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতে শুনলেন তারা বলছিল : তাকে বহু সংখ্যক ভেড়া উপহার দেয়া হয়েছে যে সব ভেড়া প্রশস্ত বাগানে বাস করে। তোমার প্রেমিক মজলিসে যিনি আগামীকালের সংবাদ রাখেন। অপর বর্ণনায় রয়েছে : তোমার স্বামী মজলিসে যিনি আগামীকালের সংবাদ রাখেন। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলে করীম বললেন, আগামীকাল কি হবে তা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানে না। (হাকিম, ২/১৮৪-৪৮৫; বাইহাকী, ৭/২৮৯)
চতুর্থ হাদীস: আমের ইবনে সা'দ বাজালী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি কুরযাহ ইবনে কা'ব ও আবূ মাসউদের কাছে গেলাম এবং তিনি তৃতীয় ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। আলী (রা) চলে গেল এবং বালিকারা গেল দফ বাজানো এবং গান করার উদ্দেশ্যে। আমি বললাম, আপনারা মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও এগুলোকে সমর্থন করেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, নিশ্চয় তিনি বিবাহ অনুষ্ঠানে এবং বিপদের সময় কান্নাকাটি করার অনুমতি দিয়েছেন। অপর বর্ণনায় আছে: "মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ না করে 'কান্নাকাটি করা অনুমতি দিয়েছেন'।” (নাসাঈ, ২/৯৩; আবু দাউদ, ১২২১ নং)
পঞ্চম হাদীস: আবূ বালজ ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন হাতিবকে বললাম, আমি দু'জন নারীকে বিবাহ করেছি তাদের কোন একটিতে কোন শব্দ ছিল না। অতঃপর মুহাম্মদ বিন হাতিব (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: দফ বা তবলা বাজানোর শব্দ হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য করে। (নাসাঈ, ২/৯১; তিরমিযী, ২/১৭০)
ষষ্ঠ হাদীস: তোমরা বিবাহ অনুষ্ঠান প্রচার করো। (তাবরানী, ৬৯/১/১)
📄 শরীয়ত পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকা
শরীয়ত পরিপন্থী সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে মানুষ সীমালঙ্ঘন করে তা থেকে। আলেমদের চুপ থাকার কারণে অনেকেই ধারণা করে এতে কোন অসুবিধা নেই। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে যেমন-
১. ছবি ঝুলানো: প্রথম : দেয়ালে ছবি ঝুলানো: দেহ বিশিষ্ট (মূর্তির ন্যায়) বা দেহ বিহীন যার ছায়া আছে অথবা ছায়া নেই। অথবা সেটা আর্ট করা হোক বা ফটোগ্রাফীর মাধ্যমে করা হোক সকলই সমান এবং কেননা এগুলো সবই নাজায়েয। যে সক্ষম তার কর্তব্য হলো ছবিগুলো অপসারণ করা। যদি সক্ষম না হয় তাহলে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করা ওয়াজিব। এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
১. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার সাহ্ওয়াহ বা ছোট বাড়িতে ছবিওয়ালা একটি পাতলা পর্দার দ্বারা পর্দা করলাম। অপর বর্ণনায় আছে, এতে পাখা বিশিষ্ট ঘোড়ার ছবি ছিল। রাসূলে করীম আমার নিকট প্রবেশ করলেন। আর যখন তিনি তা দেখলেন তখন সেটা ছিঁড়ে ফেললেন এবং তার মুখমণ্ডল রঙিন হয়ে গেল। আর তিনি বললেন, হে আয়েশা! শেষ বিচার দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে ঐ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের যারা আল্লাহ সৃষ্টির সাদৃশ্য নির্মাণ করে। অপর বর্ণনায় আছে, নিশ্চয় এর ছবির মালিকদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তা জীবিত করো। এরপর বললেন, যে বাড়িতে ছবি ঝুলানো থাকে সে বাড়িতে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আয়েশা (রা) বলেন, আমি তা কেটে ফেললাম। আর সেটা দিয়ে একটি অথবা দু'টি বালিশ প্রস্তুত করলাম। (আমি তার একটিতে হেলানরত অবস্থায় নবী করীম-কে দেখেছি আর তাতে ছবি ছিল)। (বুখারী, ১০/৩১৭-৩১৮; মুসলিম, ৬/১৫৮-১৬০; বাইহাকী)
২. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম-এর জন্য একটি বালিশ প্রস্তুত করলাম তাতে ছবি ছিল। সেটা গদির মতো মনে হতো, তিনি দু' দরজার মাঝে দাঁড়ালেন এবং তার চেহারা পরিবর্তন হতে লাগল। আমি বললাম, আমাদের কি হল হে আল্লাহর রাসূল! আমি যে পাপ করেছি তার জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করছি, তিনি বললেন: এ বালিশটির কি হল? আয়েশা (রা) বলেন, আমি বললাম, আমি আপনার জন্য বালিশটি নির্মাণ করেছি যাতে আপনি এর উপর হেলান দিতে পারেন। তিনি বললেন, তুমি কি জান না যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আর যে ছবি নির্মাণ করে তাকে শেষ বিচার দিবসে শাস্তি দেয়া হবে। এ ছবি মালিকদেরকে শেষ বিচার দিবসে শাস্তি দেয়া হবে। আয়েশা (রা) বললেন, আমি তা বাহির না করা পর্যন্ত তিনি প্রবেশ করলেন না। (বুখারী, ২/১১, ৪/১০৫)
নবী করীম ﷺ এর বাণী: আমার নিকট জিবরাঈল (আ) আসলেন। এসে আমাকে বললেন, আমি গতরাতে আপনার নিকট এসেছিলাম। দরজায় ঝুলানো ছবি ছাড়া অন্য কোন কিছু যাতে ছবি ছিল এবং ঘরের ভিতর কুকুর ছিল। তাই ঘরের মধ্যে যে ছবি আছে তার মাথা নষ্ট করতে বলুন। অতঃপর তা বৃক্ষের ন্যায় হয়ে যাবে এবং পর্দাটিকে কেটে টুকরা করতে আদেশ করুন এর দ্বারা দু'টি গদি বানাতে বলুন এবং কুকুরটি বাহির করতে বলুন। (যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে তাতে আমরা প্রবেশ করি না) যখন দেখা গেল কুকুরটি হাসান ও হোসাইনের। যা তাদের নিচের সারিতে ছিল (অন্য বর্ণনায় খাটের নিচে) তখন নবী করীম বললেন, হে আয়েশা! এ কুকুর কখন প্রবেশ করল। আয়েশা বললেন, আল্লাহর কসম! আমি জানি না। নবী করীম সেটা বের করার নির্দেশ দিলে বের করা হল। (এরপর হাতে পানি নিলেন কুকুরের স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। (আবু দাউদ, ২/১৮৯, নাসাঈ, ২/৩০২, তিরমিযী, ৪/২১)