📄 নফল রোযা কাযা করা ওয়াজিব নয়
দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ভঙ্গকৃত ঐ দিনের নফল রোযা পরবর্তীতে আদায় করা ওয়াজিব নয়, এ বিষয়ে দু'টি হাদীস নিম্নে পেশ করা হলো।
প্রথম হাদীস: আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্য খাবার প্রস্তুত করলাম। এরপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ আমার নিকট আসলেন। যখন তিনি খাবারে হাত রাখলেন। তখন দলের একজন বলল, আমি রোযাদার। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমাদের ভাই তোমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি তোমাদের জন্য পরিশ্রম করেছেন। এরপর রাসূলে করীম তাকে বললেন, রোযা ভেঙ্গে ফেল এবং পরিবর্তে যদি চাও একদিন রোযা রেখে নিও। (বায়হাকী, ৪/২৭৯; ফাতহুলবারী, ৪/১৭০)
দ্বিতীয় হাদীস : আবূ জুহাইফাহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ একদা সালমান ও আবু দারদার মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দিলেন। তিনি বলেন, সালমান তার নিকট বেড়াতে আসল। তখন উম্মু দারদা ছদ্মবেশে ছিলেন। তখন তিনি বললেন, হে উম্মু দারদা! তোমার এ অবস্থা কেন? সে বলল, আপনার ভাই আবু দারদা রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে এবং দিনে রোযা রাখে। পার্থিব কোন কিছুর প্রতি তার কোন গুরুত্ব নেই। এরপর আবূ দারদা আগমন করল এবং সালমানকে স্বাগত জানাল এবং তার নিকট খাবার নিয়ে আসল। সালমান তাকে বলল, খাও? সে বলল, আমি রোযাদার; সালমান বলল, আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি অবশ্যই তুমি ইফতার করবে। তুমি যতক্ষণ না খাবে আমি খাব না। তখন সে তার সাথে ভক্ষণ করল। এরপর তিনি তাঁর নিকট রাত যাপন করলেন। যখন রাত হল আবূ দারদা নফল আদায় করতে চাইলেন। সালমান তাকে নিষেধ করলেন এবং তাকে বললেন, হে আবূ দারদা! নিশ্চয় তোমার ওপর দেহের হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার পালনকর্তার হক রয়েছে (তোমার মেহমানের তোমার ওপর হক আছে) তোমার স্ত্রীর তোমার ওপর হক আছে। রোযা রাখ, ভাঙ্গ, সালাত পড়, স্ত্রীর নিকট যাও এবং প্রত্যেক হকদারের হক আদায় করে দাও। যখন সে সুবহে সাদিকে উপনীত হল তখন সালমান তাঁকে বললেন, যদি চাও তো এখন সালাত আদায় করতে পার। বর্ণনাকারী বললেন, তাঁরা উভয়ে উঠলেন এবং অযু করলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন। এরপর ফজর সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লেন। সালমান আবু দারদাকে যে আদেশ করেছিল তা সংবাদ দেয়ার জন্য আবু দারদা রাসূলুল্লাহ-এর নিকট আগমন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, হে আবু দারদা! নিশ্চয় তোমার দেহের উপর তোমার হক আছে। যেরূপ সালমান বলেছেন সেরূপ বললেন, অপর বর্ণনাতে আছে সালমান সত্যই বলেছে। (বুখারী, ৪/১৭০/১৭১; তিরমিযী, ৩/২৯০; বাইহাকী, ৪/২৭৬)
📄 যে দাওয়াতে গুনাহের কাজ হয় তাতে হাজির না হওয়া
ঐ দাওয়াতে হাজির হওয়া অবৈধ যা গুনাহের ও অবাধ্যচারিতার সাথে জড়িত। যদি সেটাকে অপছন্দ করে এবং তা প্রতিহত করার ইচ্ছা থেকে থাকে তাহলে যেতে বাধা নেই। যদি সম্ভব হয় সে গুনাহের কাজ বিদূরিত করতে চেষ্টা করবে। যদি না পারো তাহলে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব। এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
প্রথম হাদীস: আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি খাবার প্রস্তুত করলাম। অতঃপর রাসূলে করীম-কে দাওয়াত দিলাম। তিনি আসলেন, এসে তিনি বাড়িতে ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি আবার ফিরে গেলেন। আলী (রা) বললেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা-বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক কোন জিনিস আপনাকে ফিরিয়ে দিয়েছে? নবী করীম বললেন, বাড়িতে এমন একটি পর্দা ঝুলানো আছে যাতে ছবি আছে। নিশ্চয় ফেরেশতাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করে না যে ঘরে কোন ছবি থাকে। (ইবনে মাযাহ, ২/৩২৩; মুসনাদে আবু ই'আলা, ৩১/১, ৩৮/১)
দ্বিতীয় হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একটি গদি ক্রয় করেছিলেন, যাতে ছবি ছিল। যখন তা রাসূলে করীম ﷺ দেখলেন, দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন ঘরে প্রবেশ করলেন না। অতএব আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টি ভাব বুঝতে পারলাম, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট তাওবা করছি, আমি কি গুনাহ করেছি? তখন নবী করীম ﷺ বললেন, এ গদিটির কি হল? আমি বললাম, আপনার বসা এবং বালিশ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমি এটা খরিদ করেছি। তখন রাসূলে করীম ﷺ বললেন: নিশ্চয় এ ছবির মালিক, [অপর বর্ণনায় রয়েছে যারা এ ছবি নির্মাণ করে] শেষ বিচার দিবসে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তাদের প্রাণ সঞ্চার করো। নিশ্চয় যে ঘরে (এরূপ) ছবি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আয়েশা (রা) বলেন, আমি ছবি বের না করা পর্যন্ত তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন না।
নবী করীম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন এমন দস্তরখানে না বসে যেখানে মদ আপ্যায়ন করা হয়। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী)
আমরা যা বর্ণনা করলাম এর ওপরই সলফে সালিহীনদের (রা) আমল চলছে। এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।
ওমরের গোলাম আসলাম থেকে বর্ণিত যে, ওমর বিন খাত্তাব (রা) যখন সিরিয়াতে গমন করলেন। তার জন্য এক খ্রিস্টান লোক খাবার প্রস্তুত করল। সে ওমর (রা)-কে বলল, আমি পছন্দ করি আপনি আমার বাড়িতে আগমন করবেন এবং আপনিও আপনার সাথীরা আমাকে সম্মানিত করবেন। এ লোক ছিল সিরিয়ার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের একজন। ওমর (রা) তাকে বললেন, আমরা তোমাদের গীর্জায় ছবি থাকার কারণে প্রবেশ করি না। (বাইহাকী, ۷/২৬৮)
আবু মাসউদ 'উকবাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার জন্য খাবার তৈরি করল। এরপর তাকে দাওয়াত দিল। অতঃপর তিনি বললেন, ঘরে কি কোন ছবি রয়েছে? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তখন তিনি ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকার করলেন, এরপর ছবি ভেঙ্গে ফেলা হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। (ফাতহুল বারী, ৯/২০৪)
ইমাম আওযায়ী বলেছেন, আমরা ঐ ওলীমাতে (বৌভাত) অনুষ্ঠানে গমন করি না যাতে তবলা ও বাদ্যযন্ত্র থাকে। (ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাহ, ৪/৩/১)
📄 যে ব্যক্তি দাওয়াতে হাজির হবে তার জন্য যা করা মুস্তাহাব
যে ব্যক্তি দাওয়াতে হাজির হবে তার জন্য দু'টি কাজ করা মুস্তাহাব। প্রথম কাজ: দাওয়াতকারীর জন্য খাওয়া শেষে দোয়া করা যা নবী করীম থেকে প্রচলন হয়ে এসেছে। তা আবার কয়েক ধরনের।
আব্দুল্লাহ ইবনে বিসর থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা নবী করীম ﷺ এর জন্য খাবার প্রস্তুত করলেন এবং তাকে দাওয়াত দিলেন। তিনি দাওয়াত গ্রহণ করলেন। অতঃপর খাওয়া শেষ করে বললেন- আল্লাহুম্মাগফির লাহুম, ওয়ারহামহুম, অবারিক লাহুম ফীমা রজাক্বতাহুম। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তাদেরকে মাফ কর, তাদেরকে রহম কর। তাদের যে রিযিক দিয়েছ তাতে বরকত দান কর। (মুসলিম, ৬/১২২; আবু দাউদ, ২/১৩৫; নাসাঈ, ৬৬/৩; তিরমিযী, ৪/২৮১; বাইহাকী, ৭/২৭৪)
আনাস বিন মালেক অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আনসারদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। যখন তিনি আনসারদের বাড়ির নিকটে আসলেন তখন আনসারদের বালকেরা এসে তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। তিনি তাদের জন্য দোয়া করলেন। আর তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তি কামনা করলেন। তিনি সা'দ বিন ওবাদার ঘরের নিকট আসলেন (তিনি সা'দের নিকট ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলেন।) আর বললেন, আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সা'দ বললেন, ওয়া' আলাইকুমুস্সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ তিনবার সালাম না দেয়া পর্যন্ত সা'দ সালামের জবাব নবীকে শুনালেন না। সা'দ তিনবার জবাব দিলেন কিন্তু তাকে শুনালেন না। আর নবী তিন সালামের অধিক সালাম দিতেন না। যদি তাকে অনুমতি দেয়া হতো প্রবেশ করতেন, তা না হলে ফিরে যেতেন। অতএব নবী প্রত্যাবর্তন করছিলেন, সা'দ তাঁর পিছু নিলেন। অতঃপর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার মা, বাবা কুরবান হোক। আপনি যে কয়বার সালাম দিয়েছেন তা আমার নিকট পৌঁছেছে আর আমিও তার জবাব দিয়েছি কিন্তু আপনাকে শুনাইনি। আমি চেয়েছিলাম আপনার সালাম ও বরকতের আধিক্য। (হে আল্লাহর রাসূল! আপনি প্রবেশ করুন)। এরপর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর কাছে কিসমিস নিয়ে এলেন, আল্লাহর নবী খেলেন। যখন খাওয়া সমাপ্ত করলেন তখন বললেন, তোমাদের সৎ ব্যক্তিবর্গ খাবার খেয়েছে, তোমাদের জন্য ফেরেশতা দোয়া করেছে, আর তোমাদের নিকট রোযাদাররা ইফতার করেছে। (আহমদ, ৩/১৩৮; বাইহাকী, ৭/২৮৭; আবু দাউদ, ২/১৫০)
দ্বিতীয় কাজ: মেযবান ও তার স্ত্রীর জন্য মঙ্গল ও বরকতের দোয়া করা। এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে:
প্রথম হাদীস : জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার পিতা সাতজন বা নয়জন কন্যা রেখে মৃত্যুবরণ করলেন। আমি একজন বিধবা নারী বিবাহ করলাম। আমাকে রাসূলে করীম বললেন, হে জাবের! তুমি বিয়ে করেছ? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম বিধবা। তিনি বললেন, যদি তুমি কুমারী বিবাহ করতে তুমি তার সাথে আনন্দ-ফুর্তি করতে সেও তোমার সাথে তদ্রূপ করত। তুমি তাকে হাসাতে সেও তোমাকে হাসাতো তাহলে কি উত্তম হত না? আমি তাঁকে বললাম, নিশ্চয় আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং (নয় বা সাতজন কন্যা রেখে গেছেন) আমি অপছন্দ করলাম তাদের মতো কাউকে ঘরে আনতে। সেজন্য এমন একজন নারীকে বিবাহ করেছি যে তাদের দেখাশুনা করার সক্ষম রাখে। তখন নবী করীম বললেন, বারা-কাল্লাহু লাকা। অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন। অথবা আমাকে তিনি বললেন, তোমার মঙ্গল হোক। (বুখারী, ৯/৪২৩, মুসলিম, ৪/১৭৬)
দ্বিতীয় হাদীস : বুরাইদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আনসারদের একটি দল আলী (রা)-কে বলল : ফাতিমাকে তোমার নিকট বিবাহ দিবেন। তখন আলী (রা) রাসূলে করীম-এর নিকট এসে সালাম প্রদান করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন: আবূ তালিবের ছেলের আবার কি প্রয়োজন দেখা দিল? তিনি বললেন, ফাতিমাহ বিনতে রাসূলুল্লাহ-এর কথা স্মরণ করেছি। রাসূলুল্লাহ বললেন, ধন্যবাদ স্বাগতম! এর চেয়ে বেশি কিছু বললেন না। এরপর আলী (রা) অপেক্ষমান সেই আনসার দলের নিকট গমন করলেন, তাঁরা বললেন, তোমার খবর কি? তিনি বললেন, আমি এ কথা ছাড়া আর কিছু জানি না। তিনি বলেছেন, 'মারহাবা আহ্লান' ধন্যবাদ স্বাগতম। তারা বলল, দু'টির একটিই রাসূলের পক্ষ থেকে তোমার জন্য সম্মতি প্রকাশের জন্য যথেষ্ট। আর তোমাকে ধন্যবাদ ও স্বাগতম উভয় দিয়েছেন। এরপরের ঘটনা, যখন নবী করীম তাঁর বিবাহ দিলেন, তিনি বললেন, হে আলী! বাসর করতে হলে তো ওলীমার আয়োজন করা প্রয়োজন। তখন সা'দ বললেন, আমার নিকট মেষ আছে। তার জন্য আনসারী একদল লোক কয়েক সা ভুট্টা জোগাড় করে আনলেন। যেদিন বাসর রাত্রি ছিল। রাসূলুল্লাহ আমার সাথে সাক্ষাৎ না করে কিছু করো না। রাসূলুল্লাহ পানি আনতে বললে, তা দ্বারা অযু করলেন। এরপর অবশিষ্ট পানি আলীর উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং বললেন : আল্লাহুম্মা বারিক ফীহিমা, অবারিক লাহুম ফী বিনায়িহিমা। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তাদের উভয়েরই মাঝে বরকত দাও এবং তাদের জন্য বাসর রাতকে বরকতময় করে দাও। (ইবনু সা'দ, ৮/২০-২১; ত্ববরানী কাবীর, ১/১২১/১)
তৃতীয় হাদীস : আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমাকে নবী করীম বিবাহ করলেন, আমার নিকট আমার মা আগমন করলেন এবং আমাকে ঘরে প্রবেশ করালেন, তখন ঘরের মধ্যে আনসারী কিছু সংখ্যক নারী ছিল। তারা বলল, 'আলাল খাইরি অলবারাকাহ, অআলা খাইরি তায়ির। অর্থাৎ- তোমার বিবাহ কল্যাণ ও বরকতময় হোক এবং ভাগ্য হোক মঙ্গলময়। (বুখারী, ৯/১৮২; মুসলিম, ৪/১৪১; বাইহাকী, ৭/১৪৯)
第四 হাদীস : আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, যখন কোন ব্যক্তি বিবাহ করত তখন নবী করীম তার জন্য দোয়া করে বলতেন- বারাকাল্লাহু লাকা, অবারাকা আলাইকা, অজামাআ বাইনাকুমা ফী খাইর। অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাকে ও তোমার উপর বরকত দিন আর তোমাদের মাঝে আরও উত্তম সম্পর্ক গড়ে উঠুক। (আবু দাউদ, ১/৩৩২; তিরমিযী, ২/১৭১; ইবনু মাজাহ, ১/২৮৯)
📄 রিফ্ ও বানীন এটা জাহিলী যুগের অভিনন্দন
স্বাগত জানানোর জন্য রিফা ও বানীন বলবে না, যেমন যারা না জানে তারা করে থাকে। কেননা এটা জাহিলী যুগের কাজ, এ বিষয়ে অনেক হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।
হাসান থেকে বর্ণিত আছে, আকীল ইবনে আবু তালিব জাশামের এক নারীকে বিবাহ করলেন। তার লোকজন ঘরে প্রবেশ করলেন। তারা বলল: রিফা ওয়াল বানীন। তিনি তখন বললেন, এ কাজ করো না। কেননা, নবী করীম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তারা বলল: তাহলে আমার কি বলব, হে আবু যায়েদ? তিনি বললেন, তোমার বলবে- বারাকাল্লাহু লাকুম, অবারাকা আলাইকুম। অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের উপর বরকত দিন। আমাদেরকে এরূপই আদেশ করা হতো। (ইবনে মাজাহ, ১/৫৮৯; নাসাঈ, ২/৯১; বাইহাকী, ৭/১৪৮)