📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 কেবল ধনীদেরকে ওলীমায় (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া হারাম

📄 কেবল ধনীদেরকে ওলীমায় (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া হারাম


গরীব মানুষ বাদ দিয়ে কেবল দেখে দেখে ধনীদেরকে ওলীমায় (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া নাজায়েয। নবী করীম-এর বাণী- "খাবারের মধ্যে নিকৃষ্ট খাবার হচ্ছে ঐ ওলীমার খাবার- যাতে কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত দেয়া হয় এবং তাতে দরিদ্রদেরকে বঞ্চিত করা হয়। আর ওলীমার দাওয়াত যে কবুল করল না সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করল।” (মুসলিম, ৪/১৫৪; বায়হাকী, ৭/২৬২)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 ওলীমার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব

📄 ওলীমার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব


যাকে ওলীমাতে (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া হবে তার ওলীমাহ অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে দু'টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। প্রথম হাদীস- তোমরা দাস মুক্ত (আযাদ) করো। আমন্ত্রণকারীর (দাওয়াত দানকারী) আমন্ত্রণে সাড়া দাও এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাও। (বুখারী, ৯/১৯৮)

দ্বিতীয় হাদীস- যদি তোমাদের কাউকে ওলীমাতে দাওয়াত দেয়া হয় সে যেন তাতে হাজির থাকে (চাই বিবাহ অনুষ্ঠান হোক বা অন্য কোন অনুষ্ঠান) যে ব্যক্তি দাওয়াতে হাজির থাকবে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যকারী হল। (বুখারী, ৯/১৯৮; মুসলিম, ৪/১৫২)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 রোযাদার হলেও দাওয়াতে অংশগ্রহণ করতে হবে

📄 রোযাদার হলেও দাওয়াতে অংশগ্রহণ করতে হবে


রোযাদার হলেও দাওয়াতে যাওয়া আবশ্যক। নবী করীম বলেছেন- "যখন তোমাদের কাউকে কোন খাবারের জন্য দাওয়াত দেয়া হয়, তখন সে যেন তাতে হাজির হয়। যদি রোযাদার না হয় তাহলে যেন আহার করে। আর যদি রোযাদার হয় তাহলে যেন দোয়া করে। (মুসলিম, ৪/১৫৩; নাসাঈ, ৬৩/২; আহমদ, ২/৫০৭; বায়হাকী, ৭/২৬৩)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মেহমানের জন্য ইফতারের আয়োজন করা

📄 মেহমানের জন্য ইফতারের আয়োজন করা


দাওয়াতকৃত ব্যক্তি যে কোন নফল রোযা রাখলে ইফতার করতে পারে। বিশেষ করে যখন মেযবান পীড়াপীড়ি বা অনুনয় করে তখন রোযা ভাঙ্গা জায়েয। এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে।

প্রথম হাদীস- যদি তোমাদের কাউকে কোন খাবারের দাওয়াত দেয়া হয় তাহলে সে যেন তাতে উপস্থিত হয়। যদি ইচ্ছা হয় ভক্ষণ করবে, আর যদি ইচ্ছা না হয় খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। (মুসলিম, আহমদ, ৩/৩৯২)

দ্বিতীয় হাদীস- নফল রোযাদার নিজের প্রতিনিধি। ইচ্ছা করলে রোযা রাখবে আর ইচ্ছা করলে রোযা ভেঙে ফেলবে। (নাসাঈ, ৬৪/৪; হাকিম, ১/৪৩৯; বায়হাকী, ৪/২৭৬)

তৃতীয় হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "একদিন রাসূলে করীম আমার নিকট এসে বললেন, তোমাদের নিকট কিছু খাবার আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে আমি রোযা রাখলাম। পুনরায় ঐ দিনের পর আমার নিকট দিয়ে তিনি গেলেন। আর আমাকে হাইস (খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত খাবার) হাদিয়া দেয়া হয়েছে। তা থেকে কিছু তার জন্য উঠায়ে রাখলাম। আর তিনি হাইস খুবই পছন্দ করতেন। আয়েশা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে হাইস হাদিয়া দেয়া হয়েছে। তা থেকে আপনার জন্য কিছু রেখে দিয়েছি। তিনি বললেন, আমার নিকটে নিয়ে আস, আমি কিন্তু রোযা অবস্থায় সকাল অতিবাহিত করেছি। অতঃপর তিনি তা থেকে ভক্ষণ করলেন, এরপর বললেন, নফল রোযাদারের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে ব্যক্তি তার মাল থেকে সাদকা আদায় করে দেয়। যদি ইচ্ছা হয় তা সম্পাদন করবে (দান করবে) আর যদি ইচ্ছা হয় তার নিকটেই রেখে দিবে তাহলে রাখতে পারবে। (নাসাঈ)

ফন্ট সাইজ
15px
17px