📄 গোশত ব্যতীত ওলীমাহ করা জায়েয
যে কোন সাধারণ খাবার দ্বারা ওলীমাহ অনুষ্ঠান পালন করা জায়েয আছে। যদিও তাতে গোশতের কোন ব্যবস্থা না থাকে।
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: "মদীনা ও খায়বারের মাঝখানে নবী করীম তিনদিন অবস্থান করলেন, তখন তাঁর জন্য বিবি সফীয়াকে দিয়ে বাসর ঘর নির্মাণ হয়েছিল। আমি মুসলমানদেরকে তার ওলীমাতে (বৌভাতের) দাওয়াত দিলাম। সে ওলীমাতে রুটি এবং গোশত ছিল না। চামড়ার দস্তরখানে যা একত্র করতে বলেছিলেন তা ছাড়া। তা আমি বিছিয়ে ছিলাম। (অপর বর্ণনায় আছে, আমি একটু সমতল স্থান খুঁজলাম, একটি চামড়ার দস্তখান আনা হল আর তা আমি সে সমতল ভূমিতে রাখলাম, জনগণ তাতে খেজুর, ঘি ফেলল (অতঃপর মানুষ তৃপ্তি করে আহার করল)। (বুখারী, ৭/৩৮৭; মুসলিম, ৪/১৪৭)
📄 ধনীদের নিজস্ব মাল দ্বারা ওলীমাতে অংশগ্রহণ করা
ওলীমা অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করার জন্য জনগণ তাদের মাল দ্বারা অংশগ্রহণ করা মুস্তাহাব। সফীয়ার সাথে রাসূলে করীম ﷺ এর বিবাহের ঘটনা সংক্রান্ত আনাস বিন মালেকের হাদীস দ্বারা এটা সাব্যস্ত হয়।
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে নবী করীম-এর স্ত্রী সফীয়াহ এর ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, যখন তিনি রাস্তায় ছিলেন সফীয়াহকে তার জন্য উন্মু সুলাইম প্রস্তুত করলেন অর্থাৎ সাজালেন এবং তাঁকে রাতে তাঁর নিকট প্রেরণ করলেন। নবী করীম বাসর ঘরেই সকাল অতিবাহিত করলেন। এরপর তিনি বললেন, যার নিকট কিছু খাবার আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। অপর এক বর্ণনায় আছে- যার নিকট অতিরিক্ত খাবার মজুদ আছে সে যেন তা আমাদের নিকট নিয়ে আসে। আনাস (রা) বিন মালেক বলেন, তিনি একটি দস্তরখানা বিছালেন। তখন কেউ কেউ পনির নিয়ে আসল, কেউ কেউ খেজুর নিয়ে আসল, আবার কেউ ঘি নিয়ে আসল। সব দিয়ে তারা হাইস (খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত খাবার) বানালো। (তারা সে হাইস আহার করতে লাগল এবং তাদের পাশের বৃষ্টির পানি হাউজ থেকে পান করতে লাগলেন) আর এটাই ছিল রাসূলে করীম-এর ওলীমাহ। (বুখারী, মুসলিম ও আহমদ, ৩/১০৩, ১৯৫)
📄 কেবল ধনীদেরকে ওলীমায় (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া হারাম
গরীব মানুষ বাদ দিয়ে কেবল দেখে দেখে ধনীদেরকে ওলীমায় (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া নাজায়েয। নবী করীম-এর বাণী- "খাবারের মধ্যে নিকৃষ্ট খাবার হচ্ছে ঐ ওলীমার খাবার- যাতে কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত দেয়া হয় এবং তাতে দরিদ্রদেরকে বঞ্চিত করা হয়। আর ওলীমার দাওয়াত যে কবুল করল না সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করল।” (মুসলিম, ৪/১৫৪; বায়হাকী, ৭/২৬২)
📄 ওলীমার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব
যাকে ওলীমাতে (বৌভাতে) দাওয়াত দেয়া হবে তার ওলীমাহ অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে দু'টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। প্রথম হাদীস- তোমরা দাস মুক্ত (আযাদ) করো। আমন্ত্রণকারীর (দাওয়াত দানকারী) আমন্ত্রণে সাড়া দাও এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাও। (বুখারী, ৯/১৯৮)
দ্বিতীয় হাদীস- যদি তোমাদের কাউকে ওলীমাতে দাওয়াত দেয়া হয় সে যেন তাতে হাজির থাকে (চাই বিবাহ অনুষ্ঠান হোক বা অন্য কোন অনুষ্ঠান) যে ব্যক্তি দাওয়াতে হাজির থাকবে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যকারী হল। (বুখারী, ৯/১৯৮; মুসলিম, ৪/১৫২)