📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 আযল ছেড়ে দেয়া উত্তম কাজ

📄 আযল ছেড়ে দেয়া উত্তম কাজ


কিছু কিছু-কারণে আযল ছেড়ে দেয়া উত্তম। প্রথমত, স্ত্রী আনন্দে ঘাটতি আসে, প্রকারান্তে নারীকে কষ্ট দেয়া হয়। আর সে যদি তার উপর মতপোষণ করে তাহলে সে ক্ষেত্রে পরবর্তী কারণটি দ্রষ্টব্য। আর তা হলো,

দ্বিতীয়ত, নিশ্চয় আযল করলে বিবাহের কতিপয় উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়। আর তা হলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের বংশধর বৃদ্ধি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে রাসূলে করীম ﷺ এর বাণী: তোমরা স্নেহপরায়ণা ও অধিক সন্তান দানকারী নারীকে বিবাহ কর। কেননা আমি তোমাদের দ্বারা পূর্ববর্তীদের সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে গর্ববোধ করব। (আবু দাউদ, ১/৩২০; নাসাঈ, ২/৭১)

এ কারণে রাসূলে করীম ﷺ তাকে গোপন হত্যার সাথে গুণ বর্ণনা করেছেন, যখন তারা রাসূলে করীম ﷺ কে আযল প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করল। অতঃপর তিনি বললেন- এটা হলো গোপন জীবজন্তু হত্যা। (মুসলিম, ৪/১৬১; বাইহাকী, ৭/২৩১)

আর এজন্যই রাসূলে করীম ﷺ আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর হাদীসে ইঙ্গিত করেছেন যে তাকে পরিত্যাগ করা উত্তম। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট আযল প্রসঙ্গে আলোচনা করা হল। তিনি বলেন, কেন তা তোমাদের কেউ করে? আর তিনি এ কথা বলেননি তোমাদের কেউ যেন তা না করে। কেননা আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেন না এ জাতীয় কোন সৃষ্ট আত্মা নেই। (অন্য বর্ণনায় আছে) অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি অবশ্যই তা করো? তোমরা কি অবশ্যই করো? তোমরা কি অবশ্যই তা করো? শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত যে সৃষ্টি অস্তিত্ব বিকাশ লাভ করার আছে অবশ্যই তা অস্তিত্ব লাভ করবে। (মুসলিম, ৪/১৫৮ ও ১৫৯; বুখারী, ৯/১৫১-২৫২)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 উভয়ে বিবাহের দ্বারা কি ইচ্ছা করবে?

📄 উভয়ে বিবাহের দ্বারা কি ইচ্ছা করবে?


উভয়ের জন্য উচিত যে, তারা বিবাহের মাধ্যমে তাদের আত্মদ্বয়কে পবিত্র রাখা এবং হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা করা। কেননা, তাদের উভয়ের মিলনকে সাদকারূপে লেখা হয়।

আবু যার গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম ﷺ এর কতিপয় সাহাবীদ রাসূল-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সম্পদশালীরা যাবতীয় নেকী নিয়ে গেছে। তারা সালাত আদায় করে আমরা যেমন আদায় করি এবং আমরা যেমন সিয়াম-সাধনা করি তারাও তেমনি সিয়াম সাধনা করে এবং তারা অতিরিক্ত মাল দ্বারা সাদকা করে। নবী বললেন আল্লাহ তা'আলা কি তোমাদের জন্য এমন কিছু করেননি যা দ্বারা তোমরা সাদকা করবে? নিশ্চয় প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ)-তে সাদাকাহ রয়েছে, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এ সাদকা রয়েছে, প্রত্যেক তাহলীলে সাদকা রয়েছে এবং প্রত্যেক হামদে সদকা রয়েছে, সৎকাজের আদেশ সাদকা, অসৎকাজে বাধা দেওয়া সাদকা এবং তোমাদের প্রত্যেকের যৌনাঙ্গে সাদকা রয়েছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ তার মনষ্কামনা পূরণ করবে আর এজন্য কি তার নেকী হবে? নবী বললেন: তোমরা কি লক্ষ্য করনি, যদি সে তা হারাম কাজে ব্যবহার করত তাহলে কি তার পাপ হতো না? তাঁরা বলল: হ্যাঁ। নবী বললেন, অনুরূপ সে যদি তা হালাল কাজে ব্যবহার করে তাহলে তার সওয়াব হবে। তিনি আরও অনেক জিনিসের সাদকার কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর বললেন আর এ সমস্ত থেকে দু'রাক'আত সালাতুয যুহা আদায়ে সওয়াবে অধিক পাওয়া যাবে। (মুসলিম, ৩/৮২)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বাসর রাতের সকালে কি করবে?

📄 বাসর রাতের সকালে কি করবে?


বাসর রাতের সকালে তার জন্য মুস্তাহাব কাজ হল যে, সে তার ঐ সকল আত্মীয়-স্বজনদের নিকট আগমন করবে যারা তার বাড়িতে মেহমান হয়ে এসেছে এবং তাদেরকে সালাম দিবে এবং তাদের জন্য দোয়া করবে। আর তাদের সাথে আদর্শের সাথে সাক্ষাৎ করবে।

আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যায়নাবের সাথে যেদিন রাসূলে করীম ﷺ বাসর করলেন, সেদিন ওলীমাহ করলেন। মুসলমানদের তিনি রুটি ও গোস্ত পরিতৃপ্ত সহকারে আহার করালেন। অতঃপর উম্মাহাতুল মু'মিনীনদের নিকট গমন করলেন এবং সালাম দিয়ে তাদের জন্য দোয়া করলেন। আর তারাও তাঁকে সালাম দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। তিনি এসব বাসর রাতের সকালে করতেন। (ইবনু সা'দ, ৮/১০৭; নাসাঈ, ৬৬/২)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বাড়িতে গোসলখানা নির্মাণ করা ওয়াজিব

📄 বাড়িতে গোসলখানা নির্মাণ করা ওয়াজিব


স্বামী-স্ত্রীর ওপর ওয়াজিব যে, তারা বাড়িতে গোসলখানা নির্মাণ করবে। আর বাজারের হাম্মামে স্ত্রীকে প্রবেশ করার অনুমতি থেকে বিরত থাকবে। কেননা, এটা হারাম। এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে:

প্রথম হাদীস: জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার স্ত্রীকে হাম্মাম বা গোসলখানা প্রবেশ না করায় এবং যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে তার স্ত্রীকে যেন লুঙ্গী ব্যতীত হাম্মামে প্রবেশ না করায় এবং যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসী সে যেন এমন দস্তরখানায় না বসে যেখানে মদ আপ্যায়ন করা হয়। (হাকিম, ৪/২৮৮; তিরমিযী, আহমদ, ৩/৩৩৯)

দ্বিতীয় হাদীস: উম্মু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাম্মাম বা গোসলখানা থেকে বের হলাম। অতঃপর রাসূলে করীম ﷺ আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি বললেন: হে উম্মে দারদা! কোথা থেকে এসেছ? আমি বললেন: হাম্মাম থেকে। নবী করীম বললেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ। এমন কোন নারী নেই যে আপন ঘর ছাড়া অন্যের বাড়িতে তার কাপড় খুলবে, কিন্তু সে আল্লাহ ও তার মধ্যেকার সমস্ত পর্দাকে বিনষ্ট করে ফেলে। (মুসনাদে আহমদ, ৬/৩৬১-৩৬২)

তৃতীয় হাদীস: আবুল মালীহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শামবাসীদের কতিপয় নারী আয়েশা (রা)-এর নিকট আগমন করল। অতঃপর আয়েশা (রা) বললেন, তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তারা বলল: আমরা শাম অঞ্চল থেকে এসেছি। তিনি বললেন: সম্ভবত তোমরা আল-কুরাহ শহরের, যার নারীরা হাম্মামে প্রবেশ করে? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কিন্তু আমি রাসূলে করীম-কে বলতে শুনেছি এমন কোন নারী যে তার কাপড়কে অন্যের বাড়িতে খুলে সে আল্লাহ ও তার মাঝে যা আছে তাকে ছিঁড়ে ফেলে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাযাহ, দারেমী)

ফন্ট সাইজ
15px
17px