📄 যখন স্ত্রী পবিত্র হবে তখন তার সাথে সহবাস করা জায়েয
স্ত্রী যখন হায়েয থেকে পবিত্র হবে এবং রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে তখন কেবল রক্তের স্থানকে ধৌত করার পর অথবা অযু করার পর অথবা গোসল করার পর তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য জায়েয। অর্থাৎ কোন একটি করলেই তার সাথে সহবাস করা জায়েয। (ইবনে হাযম, ১০/৮১)
পূর্বে বর্ণিত আল্লাহর বাণীর আলোকে- তারা যখন পবিত্রতা হাসিল করবে তখন তোমরা তাদের নিকট যাও যেভাবে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীদেরকে ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাকারাহ: ২২২)
📄 আযলের বৈধতা
স্বামীর জন্য জায়েয হলো, সে তার বীর্যকে তার স্ত্রী থেকে দূরে ফেলবে অর্থাৎ আযল করবে। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস রয়েছে।
প্রথম হাদীস: জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কুরআন নাযিল অবস্থায় আমরা আযল করতাম) অর্থাৎ, সহবাসের সময় আমাদের বীর্যকে স্ত্রীদের থেকে দূরে ফেলতাম। অন্য বর্ণনায় আছে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় আযল করতাম, অতঃপর এই সংবাদটি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছল, তিনি আমাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেননি। (বুখারী, ৯/২৫০; মুসলিম, ৪/১৬০)
দ্বিতীয় হাদীস: আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বলল, আমার এক দাসী আছে, আর আমি তার সাথে আযল করি, আর পুরুষ যা ইচ্ছা করে আমি তা করি, আর ইয়াহুদীরা ধারণা করে যে, ছোট জীবজন্তু দাফনকৃত হল আযল। রাসূলুল্লাহ বললেন ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছেন, আল্লাহ যদি কিছু সৃষ্টি করতে চান তাহলে তুমি তাকে তা থেকে বাধা দিতে পারবে না। (নাসাঈ, ৮১/১-২; আবু দাউদ, ১/২৩৮; তিরমিযী, ২/১৯৩)।
তৃতীয় হাদীস: জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট আগমন করে বলল, আমার এক দাসী আছে, যে আমাদের সেবিকা ও আমাদের খেজুর বাগানে পানি দেয়। আর আমি তার সাথে সহবাস করি এবং সে গর্ভবতী হবে এটা আমি পছন্দ করি না। রাসূলে করীম বললেন, (তুমি ইচ্ছা করলে তার সাথে আযল করতে পার। কেননা তার ভাগ্যে যা লেখা হয়েছে তা তার গর্ভে আসবে)। লোকটি কিছুক্ষণ অবস্থান করল। অতঃপর রাসূলে করীম ﷺ এর নিকট এসে বলল, নিশ্চয় দাসীটি গর্ভধারণ করেছে। রাসূলে করীম বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে সংবাদ দিয়েছিলাম যে, শীঘ্রই গর্ভধারণ করবে যা তার ভাগ্যে রয়েছে। (মুসলিম, ৪/১৬০; আবু দাউদ, ১/৩৩৯)
📄 আযল ছেড়ে দেয়া উত্তম কাজ
কিছু কিছু-কারণে আযল ছেড়ে দেয়া উত্তম। প্রথমত, স্ত্রী আনন্দে ঘাটতি আসে, প্রকারান্তে নারীকে কষ্ট দেয়া হয়। আর সে যদি তার উপর মতপোষণ করে তাহলে সে ক্ষেত্রে পরবর্তী কারণটি দ্রষ্টব্য। আর তা হলো,
দ্বিতীয়ত, নিশ্চয় আযল করলে বিবাহের কতিপয় উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়। আর তা হলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের বংশধর বৃদ্ধি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে রাসূলে করীম ﷺ এর বাণী: তোমরা স্নেহপরায়ণা ও অধিক সন্তান দানকারী নারীকে বিবাহ কর। কেননা আমি তোমাদের দ্বারা পূর্ববর্তীদের সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে গর্ববোধ করব। (আবু দাউদ, ১/৩২০; নাসাঈ, ২/৭১)
এ কারণে রাসূলে করীম ﷺ তাকে গোপন হত্যার সাথে গুণ বর্ণনা করেছেন, যখন তারা রাসূলে করীম ﷺ কে আযল প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করল। অতঃপর তিনি বললেন- এটা হলো গোপন জীবজন্তু হত্যা। (মুসলিম, ৪/১৬১; বাইহাকী, ৭/২৩১)
আর এজন্যই রাসূলে করীম ﷺ আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর হাদীসে ইঙ্গিত করেছেন যে তাকে পরিত্যাগ করা উত্তম। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট আযল প্রসঙ্গে আলোচনা করা হল। তিনি বলেন, কেন তা তোমাদের কেউ করে? আর তিনি এ কথা বলেননি তোমাদের কেউ যেন তা না করে। কেননা আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেন না এ জাতীয় কোন সৃষ্ট আত্মা নেই। (অন্য বর্ণনায় আছে) অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি অবশ্যই তা করো? তোমরা কি অবশ্যই করো? তোমরা কি অবশ্যই তা করো? শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত যে সৃষ্টি অস্তিত্ব বিকাশ লাভ করার আছে অবশ্যই তা অস্তিত্ব লাভ করবে। (মুসলিম, ৪/১৫৮ ও ১৫৯; বুখারী, ৯/১৫১-২৫২)
📄 উভয়ে বিবাহের দ্বারা কি ইচ্ছা করবে?
উভয়ের জন্য উচিত যে, তারা বিবাহের মাধ্যমে তাদের আত্মদ্বয়কে পবিত্র রাখা এবং হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা করা। কেননা, তাদের উভয়ের মিলনকে সাদকারূপে লেখা হয়।
আবু যার গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম ﷺ এর কতিপয় সাহাবীদ রাসূল-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সম্পদশালীরা যাবতীয় নেকী নিয়ে গেছে। তারা সালাত আদায় করে আমরা যেমন আদায় করি এবং আমরা যেমন সিয়াম-সাধনা করি তারাও তেমনি সিয়াম সাধনা করে এবং তারা অতিরিক্ত মাল দ্বারা সাদকা করে। নবী বললেন আল্লাহ তা'আলা কি তোমাদের জন্য এমন কিছু করেননি যা দ্বারা তোমরা সাদকা করবে? নিশ্চয় প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ)-তে সাদাকাহ রয়েছে, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এ সাদকা রয়েছে, প্রত্যেক তাহলীলে সাদকা রয়েছে এবং প্রত্যেক হামদে সদকা রয়েছে, সৎকাজের আদেশ সাদকা, অসৎকাজে বাধা দেওয়া সাদকা এবং তোমাদের প্রত্যেকের যৌনাঙ্গে সাদকা রয়েছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ তার মনষ্কামনা পূরণ করবে আর এজন্য কি তার নেকী হবে? নবী বললেন: তোমরা কি লক্ষ্য করনি, যদি সে তা হারাম কাজে ব্যবহার করত তাহলে কি তার পাপ হতো না? তাঁরা বলল: হ্যাঁ। নবী বললেন, অনুরূপ সে যদি তা হালাল কাজে ব্যবহার করে তাহলে তার সওয়াব হবে। তিনি আরও অনেক জিনিসের সাদকার কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর বললেন আর এ সমস্ত থেকে দু'রাক'আত সালাতুয যুহা আদায়ে সওয়াবে অধিক পাওয়া যাবে। (মুসলিম, ৩/৮২)