📄 হায়েয চলাকালীন সহবাস করলে তার কাফফারা
যার মনে চাহিদা অগ্রাধিকার পাবে অতঃপর হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আগেই ঋতুবর্তীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয় তবে তার ওপর ওয়াজিব যে, সে ইংরেজি প্রায় অর্ধ পাউন্ড অথবা এক-চতুর্থাংশ পাউন্ড স্বর্ণ সাদাকা করবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) কর্তৃক নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি হায়েয অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে রাসূলে করীম ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে বলেন, সে এক দীনার স্বর্ণ মুদ্রা বা অর্ধ দীনার স্বর্ণ মুদ্রা সাদকা আদায় করবে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)
📄 স্বামীর জন্য হায়েযার সাথে যে সব কাজ জায়েয
স্বামীর জন্য ঋতুবতীর গুপ্তাঙ্গ ছাড়া সব কিছুর সাথে আনন্দ উপভোগ করা জায়েয। এ ক্ষেত্রে অনেক হাদীস বিদ্যমান রয়েছে।
প্রথম হাদীস: রাসূলে করীম ﷺ এর বাণী- তোমরা তাদের সাথে সহবাস ছাড়া সব কিছু করো।
দ্বিতীয় হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের কেউ যখন হায়েয চলাকালীন অবস্থায় থাকত রাসূলে করীম ﷺ তাকে তাহবন্দ বা লুঙ্গী পড়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর স্ত্রীর সাথে মিলামিশা করতেন। আয়েশা কখনো বলেছেন, তিনি তাকে স্পর্শ করতেন। (নিহায়াহ)
তৃতীয় হাদীস: নবী করীম ﷺ-এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ﷺ যখন হায়েয গ্রস্তের সাথে কিছু ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন তার লজ্জাস্থানে বস্ত্র দিতেন অতঃপর যা ইচ্ছা করতেন। (আবু দাউদ, ২৬২)
📄 যখন স্ত্রী পবিত্র হবে তখন তার সাথে সহবাস করা জায়েয
স্ত্রী যখন হায়েয থেকে পবিত্র হবে এবং রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে তখন কেবল রক্তের স্থানকে ধৌত করার পর অথবা অযু করার পর অথবা গোসল করার পর তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য জায়েয। অর্থাৎ কোন একটি করলেই তার সাথে সহবাস করা জায়েয। (ইবনে হাযম, ১০/৮১)
পূর্বে বর্ণিত আল্লাহর বাণীর আলোকে- তারা যখন পবিত্রতা হাসিল করবে তখন তোমরা তাদের নিকট যাও যেভাবে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীদেরকে ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাকারাহ: ২২২)
📄 আযলের বৈধতা
স্বামীর জন্য জায়েয হলো, সে তার বীর্যকে তার স্ত্রী থেকে দূরে ফেলবে অর্থাৎ আযল করবে। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস রয়েছে।
প্রথম হাদীস: জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কুরআন নাযিল অবস্থায় আমরা আযল করতাম) অর্থাৎ, সহবাসের সময় আমাদের বীর্যকে স্ত্রীদের থেকে দূরে ফেলতাম। অন্য বর্ণনায় আছে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় আযল করতাম, অতঃপর এই সংবাদটি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছল, তিনি আমাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেননি। (বুখারী, ৯/২৫০; মুসলিম, ৪/১৬০)
দ্বিতীয় হাদীস: আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বলল, আমার এক দাসী আছে, আর আমি তার সাথে আযল করি, আর পুরুষ যা ইচ্ছা করে আমি তা করি, আর ইয়াহুদীরা ধারণা করে যে, ছোট জীবজন্তু দাফনকৃত হল আযল। রাসূলুল্লাহ বললেন ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছেন, আল্লাহ যদি কিছু সৃষ্টি করতে চান তাহলে তুমি তাকে তা থেকে বাধা দিতে পারবে না। (নাসাঈ, ৮১/১-২; আবু দাউদ, ১/২৩৮; তিরমিযী, ২/১৯৩)।
তৃতীয় হাদীস: জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট আগমন করে বলল, আমার এক দাসী আছে, যে আমাদের সেবিকা ও আমাদের খেজুর বাগানে পানি দেয়। আর আমি তার সাথে সহবাস করি এবং সে গর্ভবতী হবে এটা আমি পছন্দ করি না। রাসূলে করীম বললেন, (তুমি ইচ্ছা করলে তার সাথে আযল করতে পার। কেননা তার ভাগ্যে যা লেখা হয়েছে তা তার গর্ভে আসবে)। লোকটি কিছুক্ষণ অবস্থান করল। অতঃপর রাসূলে করীম ﷺ এর নিকট এসে বলল, নিশ্চয় দাসীটি গর্ভধারণ করেছে। রাসূলে করীম বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে সংবাদ দিয়েছিলাম যে, শীঘ্রই গর্ভধারণ করবে যা তার ভাগ্যে রয়েছে। (মুসলিম, ৪/১৬০; আবু দাউদ, ১/৩৩৯)