📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করা অতি উত্তম
আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস-এর হাদীসের আলোকে নিদ্রা যাওয়ার আগে উভয়ের গোসল করা অতি উত্তম কাজ।
আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে প্রশ্ন করলাম, নবী করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় কিরূপ করতেন? তিনি কি নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করতেন, না গোসলের আগে নিদ্রা যেতেন? আয়েশা (রা) জবাবে বললেন, তিনি উভয়টিই করতেন। কখনো গোসল করতেন তারপর নিদ্রা যেতেন, আবার কখনো অযু করতেন তারপর নিদ্রা যেতেন। আমি বললাম, যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি কর্মে প্রশস্ততা দান করেছেন। (মুসলিম, ১/১৭১)
📄 হায়েযা স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম
স্ত্রীর হায়েয চলাকালীন তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য হারাম। আল্লাহ তা'আলার বাণীর আলোকে- "আর তারা তোমার নিকট হায়েয বা ঋতু প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে। তাহলে বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট। কাজেই তোমরা হায়েয চলাকালীন সময় স্ত্রী গমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের নিকট যাও যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে তাদেরকে ভালোবাসেন।" (সূরা-আল-বাকারাহ ২২২) আর এ বিষয়ে আরো অনেক হাদীস আছে。
প্রথম হাদীস: রাসূলে করীম ﷺ এর বাণী- যদি কোন ব্যক্তি হায়েযাহ নারীর সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস করে অথবা জ্যোতিষীর নিকট আগমন করে ও সে যা বলে তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তাহলে মুহাম্মদ-এর ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি সে কুফরী করল。
দ্বিতীয় হাদীস: আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় ইয়াহুদীদের কোন এক নারী যখন হায়েযা হতো তারা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিত এবং তার সাথে ভক্ষণ করত না, পানও করত না এবং বাড়িতে তার সাথে মিলামিশা করত না। অতঃপর রাসূলে করীম-কে ঐ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হল। তারপর আয়াতটি নাযিল করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা তাদের সাথে বাড়িতে উঠাবসা করো এবং সহবাস ছাড়া সব কিছু করো। ইয়াহুদীরা বলল, এ ব্যক্তি আমাদের প্রতিটি কাজে শুধু বিরোধিতা করে, অতঃপর উসাইদ বিন হুযাইর ও আব্বাদ বিন বিশর রাসূলুল্লাহ-এর নিকট আগমন করে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! ইয়াহুদীরা এরূপ এরূপ কথা বলছে, আমরা কি হায়েয চলাকালীন তাদের সাথে সহবাস করব না? অতঃপর রাসূলুল্লাহ-এর মুখমণ্ডলের রং পরিবর্তন হয়ে গেল এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন। অতঃপর তারা বের হয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল-এর নিকট যে দুধ উপহার দেয়া হয়েছিল তা তাদের সম্মুখে পেশ করেছিলাম। রাসূলে করীম তাদের পদচিহ্নে প্রেরণ করলেন ও তাদেরকে দুধ পান করালেন। অতঃপর আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হয়নি। (মুসলিম, আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫০)
📄 হায়েয চলাকালীন সহবাস করলে তার কাফফারা
যার মনে চাহিদা অগ্রাধিকার পাবে অতঃপর হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার আগেই ঋতুবর্তীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয় তবে তার ওপর ওয়াজিব যে, সে ইংরেজি প্রায় অর্ধ পাউন্ড অথবা এক-চতুর্থাংশ পাউন্ড স্বর্ণ সাদাকা করবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) কর্তৃক নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি হায়েয অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে রাসূলে করীম ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে বলেন, সে এক দীনার স্বর্ণ মুদ্রা বা অর্ধ দীনার স্বর্ণ মুদ্রা সাদকা আদায় করবে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)
📄 স্বামীর জন্য হায়েযার সাথে যে সব কাজ জায়েয
স্বামীর জন্য ঋতুবতীর গুপ্তাঙ্গ ছাড়া সব কিছুর সাথে আনন্দ উপভোগ করা জায়েয। এ ক্ষেত্রে অনেক হাদীস বিদ্যমান রয়েছে।
প্রথম হাদীস: রাসূলে করীম ﷺ এর বাণী- তোমরা তাদের সাথে সহবাস ছাড়া সব কিছু করো।
দ্বিতীয় হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের কেউ যখন হায়েয চলাকালীন অবস্থায় থাকত রাসূলে করীম ﷺ তাকে তাহবন্দ বা লুঙ্গী পড়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর স্ত্রীর সাথে মিলামিশা করতেন। আয়েশা কখনো বলেছেন, তিনি তাকে স্পর্শ করতেন। (নিহায়াহ)
তৃতীয় হাদীস: নবী করীম ﷺ-এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ﷺ যখন হায়েয গ্রস্তের সাথে কিছু ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন তার লজ্জাস্থানে বস্ত্র দিতেন অতঃপর যা ইচ্ছা করতেন। (আবু দাউদ, ২৬২)