📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 সহবাসের অযুর বিধান

📄 সহবাসের অযুর বিধান


এটা ওয়াজিব নয়। বরং তা ওমর (রা)-এর হাদীসের আলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
ওমর (রা) রাসূলে করীম ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যেতে পারবে? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে যদি সে চায় অযু করে নিবে। (ইবনু খুযাইমা, ২৩২)

আর এটাকে আয়েশা (রা)-এর হাদীস শক্ত ও দৃঢ় করে। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ কোন পানি স্পর্শ করা ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতেন। এমনকি তিনি পরে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে গোসল করতেন। (ইবনে আবি শায়বাহ, ১/৪৫/১; আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, তিরমিযী, নাসায়ী)

আর তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে- আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় রাত যাপন করতেন, তারপর বেলাল (রা) তাঁর নিকট আসত এবং তাঁকে সালাতের সংবাদ দিত। অতঃপর তিনি উঠতেন এবং গোসল করতেন। আর আমি তাঁর মাথা থেকে নির্গত পানির দিকে লক্ষ করতাম। তারপর তিনি মসজিদের দিকে বের হতেন আর আমি ফজরের সালাতে তাঁর আওয়াজ শ্রবণ করতাম। অতঃপর তিনি রোযা অবস্থায় থাকতেন। বর্ণনাকারী মুতাররাফ বলেছেন, আমি আমিরকে বললাম, রামযান মাসেও কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, রমযান মাসে বা অন্য মাসে একই রকম হতো। (ইবনে আবি শায়বাহ)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 অযুর পরিবর্তে অপবিত্র ব্যক্তির তায়াম্মুম করা

📄 অযুর পরিবর্তে অপবিত্র ব্যক্তির তায়াম্মুম করা


আয়েশা সিদ্দীকা (রা) হাদীসের আলোকে তাঁদের উভয়ের জন্য কখনো অযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম জায়েয রয়েছে। তিনি বলেন- রাসূলে করীম ﷺ যখন অপবিত্র হতেন এবং নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন অযু আদায় করে নিতেন বা তায়াম্মুম করতেন। (বায়হাকী ১/২০০)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করা অতি উত্তম

📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করা অতি উত্তম


আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস-এর হাদীসের আলোকে নিদ্রা যাওয়ার আগে উভয়ের গোসল করা অতি উত্তম কাজ।
আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে প্রশ্ন করলাম, নবী করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় কিরূপ করতেন? তিনি কি নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করতেন, না গোসলের আগে নিদ্রা যেতেন? আয়েশা (রা) জবাবে বললেন, তিনি উভয়টিই করতেন। কখনো গোসল করতেন তারপর নিদ্রা যেতেন, আবার কখনো অযু করতেন তারপর নিদ্রা যেতেন। আমি বললাম, যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি কর্মে প্রশস্ততা দান করেছেন। (মুসলিম, ১/১৭১)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 হায়েযা স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম

📄 হায়েযা স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম


স্ত্রীর হায়েয চলাকালীন তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য হারাম। আল্লাহ তা'আলার বাণীর আলোকে- "আর তারা তোমার নিকট হায়েয বা ঋতু প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে। তাহলে বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট। কাজেই তোমরা হায়েয চলাকালীন সময় স্ত্রী গমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের নিকট যাও যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে তাদেরকে ভালোবাসেন।" (সূরা-আল-বাকারাহ ২২২) আর এ বিষয়ে আরো অনেক হাদীস আছে。

প্রথম হাদীস: রাসূলে করীম ﷺ এর বাণী- যদি কোন ব্যক্তি হায়েযাহ নারীর সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস করে অথবা জ্যোতিষীর নিকট আগমন করে ও সে যা বলে তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তাহলে মুহাম্মদ-এর ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি সে কুফরী করল。

দ্বিতীয় হাদীস: আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় ইয়াহুদীদের কোন এক নারী যখন হায়েযা হতো তারা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিত এবং তার সাথে ভক্ষণ করত না, পানও করত না এবং বাড়িতে তার সাথে মিলামিশা করত না। অতঃপর রাসূলে করীম-কে ঐ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হল। তারপর আয়াতটি নাযিল করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা তাদের সাথে বাড়িতে উঠাবসা করো এবং সহবাস ছাড়া সব কিছু করো। ইয়াহুদীরা বলল, এ ব্যক্তি আমাদের প্রতিটি কাজে শুধু বিরোধিতা করে, অতঃপর উসাইদ বিন হুযাইর ও আব্বাদ বিন বিশর রাসূলুল্লাহ-এর নিকট আগমন করে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! ইয়াহুদীরা এরূপ এরূপ কথা বলছে, আমরা কি হায়েয চলাকালীন তাদের সাথে সহবাস করব না? অতঃপর রাসূলুল্লাহ-এর মুখমণ্ডলের রং পরিবর্তন হয়ে গেল এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন। অতঃপর তারা বের হয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল-এর নিকট যে দুধ উপহার দেয়া হয়েছিল তা তাদের সম্মুখে পেশ করেছিলাম। রাসূলে করীম তাদের পদচিহ্নে প্রেরণ করলেন ও তাদেরকে দুধ পান করালেন। অতঃপর আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হয়নি। (মুসলিম, আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px