📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে অপবিত্রতার জন্য অযু করা

📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে অপবিত্রতার জন্য অযু করা


স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অযু করে নিদ্রা যাবে। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদীস রয়েছে।

প্রথম হাদীস: আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় যদি কিছু খাওয়ার বা ঘুমানোর ইচ্ছা পোষণ করতেন, তাহলে লজ্জাস্থান ধৌত করতেন এবং সালাতের অযুর মতো অযু করে নিতেন।

দ্বিতীয় হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যেতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ যদি সে অযু করে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে তুমি অযু কর এবং তোমার লিঙ্গকে ধৌত কর তারপর নিদ্রা যাও। অন্য বর্ণনায় আছে, হ্যাঁ সে যেন অযু করে নেয়। অতঃপর সে যেন ঘুমায়, আর যখন ইচ্ছা তখন গোসল করে নিবে। অপর এক বর্ণনায় বলেছেন, হ্যাঁ আর সে যদি ইচ্ছা করে অযু করবে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে আসাকীর, ১৩/২২৩/২)

তৃতীয় হাদীস: আম্মার বিন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় রাসূল করীম ﷺ ইরশাদ করেন, ফেরেশতাগণ তিন ব্যক্তির নিকটে গমন করে না। কাফিরের লাশ এবং খালুক জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহারকারী ও অপবিত্র যতক্ষণ না সে অযু করে। (আবু দাউদ, ২/১৯২/১৯৩)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 সহবাসের অযুর বিধান

📄 সহবাসের অযুর বিধান


এটা ওয়াজিব নয়। বরং তা ওমর (রা)-এর হাদীসের আলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
ওমর (রা) রাসূলে করীম ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যেতে পারবে? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে যদি সে চায় অযু করে নিবে। (ইবনু খুযাইমা, ২৩২)

আর এটাকে আয়েশা (রা)-এর হাদীস শক্ত ও দৃঢ় করে। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ কোন পানি স্পর্শ করা ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতেন। এমনকি তিনি পরে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে গোসল করতেন। (ইবনে আবি শায়বাহ, ১/৪৫/১; আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, তিরমিযী, নাসায়ী)

আর তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে- আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় রাত যাপন করতেন, তারপর বেলাল (রা) তাঁর নিকট আসত এবং তাঁকে সালাতের সংবাদ দিত। অতঃপর তিনি উঠতেন এবং গোসল করতেন। আর আমি তাঁর মাথা থেকে নির্গত পানির দিকে লক্ষ করতাম। তারপর তিনি মসজিদের দিকে বের হতেন আর আমি ফজরের সালাতে তাঁর আওয়াজ শ্রবণ করতাম। অতঃপর তিনি রোযা অবস্থায় থাকতেন। বর্ণনাকারী মুতাররাফ বলেছেন, আমি আমিরকে বললাম, রামযান মাসেও কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, রমযান মাসে বা অন্য মাসে একই রকম হতো। (ইবনে আবি শায়বাহ)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 অযুর পরিবর্তে অপবিত্র ব্যক্তির তায়াম্মুম করা

📄 অযুর পরিবর্তে অপবিত্র ব্যক্তির তায়াম্মুম করা


আয়েশা সিদ্দীকা (রা) হাদীসের আলোকে তাঁদের উভয়ের জন্য কখনো অযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম জায়েয রয়েছে। তিনি বলেন- রাসূলে করীম ﷺ যখন অপবিত্র হতেন এবং নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন অযু আদায় করে নিতেন বা তায়াম্মুম করতেন। (বায়হাকী ১/২০০)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করা অতি উত্তম

📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করা অতি উত্তম


আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস-এর হাদীসের আলোকে নিদ্রা যাওয়ার আগে উভয়ের গোসল করা অতি উত্তম কাজ।
আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে প্রশ্ন করলাম, নবী করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় কিরূপ করতেন? তিনি কি নিদ্রা যাওয়ার আগে গোসল করতেন, না গোসলের আগে নিদ্রা যেতেন? আয়েশা (রা) জবাবে বললেন, তিনি উভয়টিই করতেন। কখনো গোসল করতেন তারপর নিদ্রা যেতেন, আবার কখনো অযু করতেন তারপর নিদ্রা যেতেন। আমি বললাম, যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি কর্মে প্রশস্ততা দান করেছেন। (মুসলিম, ১/১৭১)

ফন্ট সাইজ
15px
17px