📄 একই সাথে স্বামী-স্ত্রীর গোসল
স্বামী-স্ত্রীর জন্য একস্থানে একত্রে গোসল করা জায়েয। যদিও পরষ্পরকে দেখে নেয়। আর এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
প্রথম হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আল্লাহর রাসূল উভয়েই একই পাত্র থেকে গোসল করতে ছিলাম। আমাদের উভয়ের হাত তার মধ্যে টক্কর খেত। তিনি আমার আগে তাড়াহুড়ো করতেন, এমনকি আমি বলতাম আমার জন্য রাখেন। আয়েশা (রা) বলেন, উভয় পবিত্র অবস্থায় ছিলেন।
দ্বিতীয় হাদীস: মু'আবিয়াহ ইবনে হাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন লজ্জাস্থান আবৃত করব এবং কোনগুলো খোলা রাখব? তিনি বললেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থানকে তোমার স্ত্রী ও দাস ছাড়া সংরক্ষণ কর। সে বলল, আমি বললাম, হে রাসূল! যদি কতিপয় কতিপয়ের মাঝে থাকে তাহলে কিরূপ করবে? তিনি বললেন, যদি কেউ সক্ষম হয় যে, সে লজ্জাস্থানকে দেখবে না তাহলে যেন কেউ না দেখে। সে বলল, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি অনাবৃত থাকে? তিনি বললেন, লজ্জাবোধ করার বিষয়ে আল্লাহই মানুষদের চেয়ে অধিক হকদার। (আবু দাউদ তিরমিযী ইবনে মাজাহ নাসাঈ)
📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে অপবিত্রতার জন্য অযু করা
স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অযু করে নিদ্রা যাবে। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদীস রয়েছে।
প্রথম হাদীস: আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় যদি কিছু খাওয়ার বা ঘুমানোর ইচ্ছা পোষণ করতেন, তাহলে লজ্জাস্থান ধৌত করতেন এবং সালাতের অযুর মতো অযু করে নিতেন।
দ্বিতীয় হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যেতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ যদি সে অযু করে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে তুমি অযু কর এবং তোমার লিঙ্গকে ধৌত কর তারপর নিদ্রা যাও। অন্য বর্ণনায় আছে, হ্যাঁ সে যেন অযু করে নেয়। অতঃপর সে যেন ঘুমায়, আর যখন ইচ্ছা তখন গোসল করে নিবে। অপর এক বর্ণনায় বলেছেন, হ্যাঁ আর সে যদি ইচ্ছা করে অযু করবে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে আসাকীর, ১৩/২২৩/২)
তৃতীয় হাদীস: আম্মার বিন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় রাসূল করীম ﷺ ইরশাদ করেন, ফেরেশতাগণ তিন ব্যক্তির নিকটে গমন করে না। কাফিরের লাশ এবং খালুক জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহারকারী ও অপবিত্র যতক্ষণ না সে অযু করে। (আবু দাউদ, ২/১৯২/১৯৩)
📄 সহবাসের অযুর বিধান
এটা ওয়াজিব নয়। বরং তা ওমর (রা)-এর হাদীসের আলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
ওমর (রা) রাসূলে করীম ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যেতে পারবে? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে যদি সে চায় অযু করে নিবে। (ইবনু খুযাইমা, ২৩২)
আর এটাকে আয়েশা (রা)-এর হাদীস শক্ত ও দৃঢ় করে। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ কোন পানি স্পর্শ করা ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতেন। এমনকি তিনি পরে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে গোসল করতেন। (ইবনে আবি শায়বাহ, ১/৪৫/১; আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, তিরমিযী, নাসায়ী)
আর তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে- আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় রাত যাপন করতেন, তারপর বেলাল (রা) তাঁর নিকট আসত এবং তাঁকে সালাতের সংবাদ দিত। অতঃপর তিনি উঠতেন এবং গোসল করতেন। আর আমি তাঁর মাথা থেকে নির্গত পানির দিকে লক্ষ করতাম। তারপর তিনি মসজিদের দিকে বের হতেন আর আমি ফজরের সালাতে তাঁর আওয়াজ শ্রবণ করতাম। অতঃপর তিনি রোযা অবস্থায় থাকতেন। বর্ণনাকারী মুতাররাফ বলেছেন, আমি আমিরকে বললাম, রামযান মাসেও কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, রমযান মাসে বা অন্য মাসে একই রকম হতো। (ইবনে আবি শায়বাহ)
📄 অযুর পরিবর্তে অপবিত্র ব্যক্তির তায়াম্মুম করা
আয়েশা সিদ্দীকা (রা) হাদীসের আলোকে তাঁদের উভয়ের জন্য কখনো অযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম জায়েয রয়েছে। তিনি বলেন- রাসূলে করীম ﷺ যখন অপবিত্র হতেন এবং নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন অযু আদায় করে নিতেন বা তায়াম্মুম করতেন। (বায়হাকী ১/২০০)