📄 দুই সহবাসের মাঝে অযু করা
যদি স্বামী-স্ত্রীর সাথে জায়েযকৃত স্থানে সহবাস করে এবং দ্বিতীয়বার সহবাস করার ইচ্ছা করে, তাহলে নবী করীম ﷺ এর বাণীর আলোকে সে অযু করবে।
তোমাদের মধ্যকার কেউ যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতঃপর পুনরায় তার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে সে উভয় সহবাসের মাঝে যেন অযু করে নেয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সালাতের অযুর ন্যায় অযু করবে। কেননা তা দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক আনন্দদানকারী। (মুসলিম, ১/১৭১; ইবনু আবি শায়বাহ, ১/৫১/২)
📄 দু'সহবাসের মাঝে গোসল অতি উত্তম
রাফের হাদীসের আলোকে অযু থেকে গোসল করা উত্তম।
নিশ্চয় একদা নবী করীম ﷺ তার স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলেন। তিনি এর নিকট গোসল করলেন এবং ওর নিকট গোসল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে একটি গোসলে পরিণত করতে পারলেন না। তিনি বললেন, এটা অধিকতর পরিচ্ছন্ন, অতি উত্তম ও সর্বাধিক পবিত্রতা অর্জনকারী। (আবু দাউদ ও নাসাঈ ইশরাতুন নিসা, ৭৯,১)
📄 একই সাথে স্বামী-স্ত্রীর গোসল
স্বামী-স্ত্রীর জন্য একস্থানে একত্রে গোসল করা জায়েয। যদিও পরষ্পরকে দেখে নেয়। আর এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
প্রথম হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আল্লাহর রাসূল উভয়েই একই পাত্র থেকে গোসল করতে ছিলাম। আমাদের উভয়ের হাত তার মধ্যে টক্কর খেত। তিনি আমার আগে তাড়াহুড়ো করতেন, এমনকি আমি বলতাম আমার জন্য রাখেন। আয়েশা (রা) বলেন, উভয় পবিত্র অবস্থায় ছিলেন।
দ্বিতীয় হাদীস: মু'আবিয়াহ ইবনে হাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন লজ্জাস্থান আবৃত করব এবং কোনগুলো খোলা রাখব? তিনি বললেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থানকে তোমার স্ত্রী ও দাস ছাড়া সংরক্ষণ কর। সে বলল, আমি বললাম, হে রাসূল! যদি কতিপয় কতিপয়ের মাঝে থাকে তাহলে কিরূপ করবে? তিনি বললেন, যদি কেউ সক্ষম হয় যে, সে লজ্জাস্থানকে দেখবে না তাহলে যেন কেউ না দেখে। সে বলল, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি অনাবৃত থাকে? তিনি বললেন, লজ্জাবোধ করার বিষয়ে আল্লাহই মানুষদের চেয়ে অধিক হকদার। (আবু দাউদ তিরমিযী ইবনে মাজাহ নাসাঈ)
📄 নিদ্রা যাওয়ার আগে অপবিত্রতার জন্য অযু করা
স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অযু করে নিদ্রা যাবে। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদীস রয়েছে।
প্রথম হাদীস: আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম ﷺ অপবিত্র অবস্থায় যদি কিছু খাওয়ার বা ঘুমানোর ইচ্ছা পোষণ করতেন, তাহলে লজ্জাস্থান ধৌত করতেন এবং সালাতের অযুর মতো অযু করে নিতেন।
দ্বিতীয় হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যেতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ যদি সে অযু করে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে তুমি অযু কর এবং তোমার লিঙ্গকে ধৌত কর তারপর নিদ্রা যাও। অন্য বর্ণনায় আছে, হ্যাঁ সে যেন অযু করে নেয়। অতঃপর সে যেন ঘুমায়, আর যখন ইচ্ছা তখন গোসল করে নিবে। অপর এক বর্ণনায় বলেছেন, হ্যাঁ আর সে যদি ইচ্ছা করে অযু করবে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে আসাকীর, ১৩/২২৩/২)
তৃতীয় হাদীস: আম্মার বিন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় রাসূল করীম ﷺ ইরশাদ করেন, ফেরেশতাগণ তিন ব্যক্তির নিকটে গমন করে না। কাফিরের লাশ এবং খালুক জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহারকারী ও অপবিত্র যতক্ষণ না সে অযু করে। (আবু দাউদ, ২/১৯২/১৯৩)