📄 স্ত্রীলোকের পেছন দিক দিয়ে সহবাস করা হারাম
এ হাদীসগুলো আর পূর্ব আয়াতের অর্থানুযায়ী স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করা হারাম। "তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ, তোমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারো"। আর এ বিষয়ে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে।
প্রথম হাদীস: উম্মু সালামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন, মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আনসারদের নিকট আসলেন তখন তাদের নারীদেরকে বিবাহ করলেন। আর মুহাজির নারীরা চীৎ হতো। কিন্তু আনসারী নারীগণ চীৎ হতো না। একদা এক মুহাজির ব্যক্তি তার আনসারী স্ত্রীকে এরূপ ইচ্ছা করল, কিন্তু সে আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। উম্মু সালামাহ বলেন, সেই নারী রাসূলে করীম ﷺ-এর নিকট আসল, কিন্তু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করল। তাই উম্মে সালামাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর আয়াতটি নাযিল হয়। তিনি বললেন না, কেবলমাত্র একই রাস্তায় সহবাস করা যাবে। (মুসনাদে আহমদ, ৬/৩০৫/৩১০-৩১৮; মিরমিযী, ৩/৭৫)
দ্বিতীয় হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন ওমর ইবনে খাত্তাব (রা) রাসূলে করীম-এর নিকট হাজির হলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি! নবী করীম জানতে চাইলেন, তোমাকে কিসে ধ্বংস করল? তিনি বললেন, আমি রাতে আমার সওয়ারী পরিবর্তন করেছি। রাসূলে করীম কোন জবাব দিলেন না। অতঃপর রাসূলে করীম-এর নিকট আলোচ্য আয়াত নাযিল হল। তিনি বললেন, সামনে কর, পেছনে কর, কিন্তু নিতম্ব ও ঋতুস্রাব থেকে বেঁচে থাক। (নাসাঈ আল ইশরাহ, ৭৬/২, তিরমিযী, ২১৬২)
তৃতীয় হাদীস: খুযাইমাহ বিন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় এক ব্যক্তি নবী করীম ﷺ-কে নারীদের নিতম্বে সহবাস করা প্রসঙ্গে বা পুরুষ নারীর নিতম্বে সহবাস করা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করল। নবী করীম জবাব দিলেন যে, জায়েয। অতঃপর যখন সে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করল, নবী করীম তাকে ডাকলেন। বা তাকে ডাকার আদেশ করলেন, সুতরাং তাকে ডাকা হল। নবী করীম বললেন, তুমি কেমন বললে, কোন দুই ছিদ্রতে- পেছন থেকে সম্মুখে হ্যাঁ এটা জায়েয, না পেছনে থেকে পেছনে, না বৈধ না। নিশ্চয় আল্লাহ সত্য-এর ব্যাপার লজ্জাবোধ করেন না। তোমারা নারীদের নিতম্বে সহবাস থেকে বিরত থাক। (ইমাম শাফেয়ী, ২/২৬০; বাইহাকী, ৭/১৯৬; দারেমী, ১/১৪৫ এবং ত্বহাবী, ২/২৫; ইমাম খাত্তাবী গরীবুল হাদীস, ৭৩/২ পৃষ্ঠা)
চতুর্থ হাদীস: যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করবে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। (নাসাঈ আল ইশরাহ, ২/৭৭-৭৮/১; মিরমিযী, ১/২১৮)
পঞ্চম হাদীস: যে ব্যক্তি স্ত্রীদের নিতম্বে সহবাস করবে সে লা'নত প্রাপ্ত। (আবু দাউদ ২১৬২ নং এবং আহমদ, ২/৪৪৪ ও ৪৭৯)
ষষ্ঠ হাদীস: যে ব্যক্তি হায়েযাবস্থায় বা স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করে অথবা কোন জ্যোতিষের নিকট আসে, অতঃপর তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তাহলে মুহাম্মদ ﷺ এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা সে অস্বীকার করল।
📄 দুই সহবাসের মাঝে অযু করা
যদি স্বামী-স্ত্রীর সাথে জায়েযকৃত স্থানে সহবাস করে এবং দ্বিতীয়বার সহবাস করার ইচ্ছা করে, তাহলে নবী করীম ﷺ এর বাণীর আলোকে সে অযু করবে।
তোমাদের মধ্যকার কেউ যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতঃপর পুনরায় তার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে সে উভয় সহবাসের মাঝে যেন অযু করে নেয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সালাতের অযুর ন্যায় অযু করবে। কেননা তা দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক আনন্দদানকারী। (মুসলিম, ১/১৭১; ইবনু আবি শায়বাহ, ১/৫১/২)
📄 দু'সহবাসের মাঝে গোসল অতি উত্তম
রাফের হাদীসের আলোকে অযু থেকে গোসল করা উত্তম।
নিশ্চয় একদা নবী করীম ﷺ তার স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলেন। তিনি এর নিকট গোসল করলেন এবং ওর নিকট গোসল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে একটি গোসলে পরিণত করতে পারলেন না। তিনি বললেন, এটা অধিকতর পরিচ্ছন্ন, অতি উত্তম ও সর্বাধিক পবিত্রতা অর্জনকারী। (আবু দাউদ ও নাসাঈ ইশরাতুন নিসা, ৭৯,১)
📄 একই সাথে স্বামী-স্ত্রীর গোসল
স্বামী-স্ত্রীর জন্য একস্থানে একত্রে গোসল করা জায়েয। যদিও পরষ্পরকে দেখে নেয়। আর এ বিষয়ে অনেক হাদীস আছে।
প্রথম হাদীস: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আল্লাহর রাসূল উভয়েই একই পাত্র থেকে গোসল করতে ছিলাম। আমাদের উভয়ের হাত তার মধ্যে টক্কর খেত। তিনি আমার আগে তাড়াহুড়ো করতেন, এমনকি আমি বলতাম আমার জন্য রাখেন। আয়েশা (রা) বলেন, উভয় পবিত্র অবস্থায় ছিলেন।
দ্বিতীয় হাদীস: মু'আবিয়াহ ইবনে হাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন লজ্জাস্থান আবৃত করব এবং কোনগুলো খোলা রাখব? তিনি বললেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থানকে তোমার স্ত্রী ও দাস ছাড়া সংরক্ষণ কর। সে বলল, আমি বললাম, হে রাসূল! যদি কতিপয় কতিপয়ের মাঝে থাকে তাহলে কিরূপ করবে? তিনি বললেন, যদি কেউ সক্ষম হয় যে, সে লজ্জাস্থানকে দেখবে না তাহলে যেন কেউ না দেখে। সে বলল, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি অনাবৃত থাকে? তিনি বললেন, লজ্জাবোধ করার বিষয়ে আল্লাহই মানুষদের চেয়ে অধিক হকদার। (আবু দাউদ তিরমিযী ইবনে মাজাহ নাসাঈ)