📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 সহবাস করার নিয়মাবলী

📄 সহবাস করার নিয়মাবলী


স্বামীর জন্য জায়েয হলো, সে তার স্ত্রীর সম্মুখভাগে যে দিক দিয়ে চায় সামনে বা পেছনের দিক দিয়ে সহবাস করবে। আল্লাহ তা'আলার বাণীর আলোকে- "তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের জন্য শষ্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার করো।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৩)

আর এ বিষয়ে অনেক হাদীস রয়েছে। নিম্নে দু'টি উপস্থাপন করা হলো- প্রথম হাদীস: জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহুদীরা বলতো, যদি স্বামী স্ত্রীর পেছন দিক দিয়ে তার সম্মুখভাগে সহবাস করে তাহলে সন্তান ট্যারা হবে। অতঃপর আলোচ্য আয়াতটি নাযিল হয়। নবী করীম ﷺ তারপর বললেন, সম্মুখ ও পেছন উভয় দিক দিয়ে করা যাবে যদি তা লজ্জাস্থান হয়। (বুখারী, ৮/১৫; মুসলিম, ৪/১৫৬; নাসাঈ, ৭৬/১-২)

দ্বিতীয় হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারী মূর্তি পূজকদের এ সম্প্রদায়টি ইয়াহুদী আহলে কিতাবদের এ সম্প্রদায়ের সাথে একত্রে বসবাস করত। আর আনসারগণ জ্ঞানের দিক দিয়ে ইয়াহুদীদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই অনুসরণ করত। আর আহলে কিতাবদের একটি অভ্যাস ছিল যে, তারা শুধুমাত্র তাদের স্ত্রীদের এক দিক দিয়েই সহবাস করত। আর স্ত্রী তার দ্বারা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হতো। কাজেই আনসারদের এ সম্প্রদায়টি ইয়াহুদীদের ঐ কাজটি গ্রহণ করেছিল। আর কুরাইশদের এ সম্প্রদায় তাদের নারীদেরকে নিকৃষ্টভাবে খোলামেলা (সহবাস) করত এবং তাদেরকে সম্মুখ দিয়ে, পেছন দিয়ে, চীৎ করে উপভোগ করত। অতঃপর মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আসলেন, তখন একজন কুরাইশ ব্যক্তি আনসারী এক নারীকে বিবাহ করলেন। সে তার স্ত্রীর নিকট তাদের নিয়মে কাজ করলেন। কিন্তু নারী তা নিকৃষ্ট মনে করলেন এবং বললেন, আমাদেরকে শুধুমাত্র একদিক দিয়েই সহবাস করা হয়। কাজেই তুমি তা-ই কর নতুবা আমার থেকে দূরে থাক। তার এ বিষয়টি এমন আকার ধারণ করল যে, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌঁছাল। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতটি নাযিল করলেন "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ, তোমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পার"। (সূরা আল-বাকারা ১২৩) অর্থাৎ, সম্মুখ করে, পেছনে করে ও চীৎ করে। মূল উদ্দেশ্য তার দ্বারা সন্তান হওয়ার স্থান যেন হয়। (আবু দাউদ, ১/১৩৭; বায়হাকী, ৭/১৯৫)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 স্ত্রীলোকের পেছন দিক দিয়ে সহবাস করা হারাম

📄 স্ত্রীলোকের পেছন দিক দিয়ে সহবাস করা হারাম


এ হাদীসগুলো আর পূর্ব আয়াতের অর্থানুযায়ী স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করা হারাম। "তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ, তোমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারো"। আর এ বিষয়ে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে।

প্রথম হাদীস: উম্মু সালামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন, মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আনসারদের নিকট আসলেন তখন তাদের নারীদেরকে বিবাহ করলেন। আর মুহাজির নারীরা চীৎ হতো। কিন্তু আনসারী নারীগণ চীৎ হতো না। একদা এক মুহাজির ব্যক্তি তার আনসারী স্ত্রীকে এরূপ ইচ্ছা করল, কিন্তু সে আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। উম্মু সালামাহ বলেন, সেই নারী রাসূলে করীম ﷺ-এর নিকট আসল, কিন্তু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করল। তাই উম্মে সালামাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর আয়াতটি নাযিল হয়। তিনি বললেন না, কেবলমাত্র একই রাস্তায় সহবাস করা যাবে। (মুসনাদে আহমদ, ৬/৩০৫/৩১০-৩১৮; মিরমিযী, ৩/৭৫)

দ্বিতীয় হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন ওমর ইবনে খাত্তাব (রা) রাসূলে করীম-এর নিকট হাজির হলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি! নবী করীম জানতে চাইলেন, তোমাকে কিসে ধ্বংস করল? তিনি বললেন, আমি রাতে আমার সওয়ারী পরিবর্তন করেছি। রাসূলে করীম কোন জবাব দিলেন না। অতঃপর রাসূলে করীম-এর নিকট আলোচ্য আয়াত নাযিল হল। তিনি বললেন, সামনে কর, পেছনে কর, কিন্তু নিতম্ব ও ঋতুস্রাব থেকে বেঁচে থাক। (নাসাঈ আল ইশরাহ, ৭৬/২, তিরমিযী, ২১৬২)

তৃতীয় হাদীস: খুযাইমাহ বিন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় এক ব্যক্তি নবী করীম ﷺ-কে নারীদের নিতম্বে সহবাস করা প্রসঙ্গে বা পুরুষ নারীর নিতম্বে সহবাস করা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করল। নবী করীম জবাব দিলেন যে, জায়েয। অতঃপর যখন সে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করল, নবী করীম তাকে ডাকলেন। বা তাকে ডাকার আদেশ করলেন, সুতরাং তাকে ডাকা হল। নবী করীম বললেন, তুমি কেমন বললে, কোন দুই ছিদ্রতে- পেছন থেকে সম্মুখে হ্যাঁ এটা জায়েয, না পেছনে থেকে পেছনে, না বৈধ না। নিশ্চয় আল্লাহ সত্য-এর ব্যাপার লজ্জাবোধ করেন না। তোমারা নারীদের নিতম্বে সহবাস থেকে বিরত থাক। (ইমাম শাফেয়ী, ২/২৬০; বাইহাকী, ৭/১৯৬; দারেমী, ১/১৪৫ এবং ত্বহাবী, ২/২৫; ইমাম খাত্তাবী গরীবুল হাদীস, ৭৩/২ পৃষ্ঠা)

চতুর্থ হাদীস: যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করবে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। (নাসাঈ আল ইশরাহ, ২/৭৭-৭৮/১; মিরমিযী, ১/২১৮)

পঞ্চম হাদীস: যে ব্যক্তি স্ত্রীদের নিতম্বে সহবাস করবে সে লা'নত প্রাপ্ত। (আবু দাউদ ২১৬২ নং এবং আহমদ, ২/৪৪৪ ও ৪৭৯)

ষষ্ঠ হাদীস: যে ব্যক্তি হায়েযাবস্থায় বা স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করে অথবা কোন জ্যোতিষের নিকট আসে, অতঃপর তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তাহলে মুহাম্মদ ﷺ এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা সে অস্বীকার করল।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 দুই সহবাসের মাঝে অযু করা

📄 দুই সহবাসের মাঝে অযু করা


যদি স্বামী-স্ত্রীর সাথে জায়েযকৃত স্থানে সহবাস করে এবং দ্বিতীয়বার সহবাস করার ইচ্ছা করে, তাহলে নবী করীম ﷺ এর বাণীর আলোকে সে অযু করবে।
তোমাদের মধ্যকার কেউ যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতঃপর পুনরায় তার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে সে উভয় সহবাসের মাঝে যেন অযু করে নেয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সালাতের অযুর ন্যায় অযু করবে। কেননা তা দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক আনন্দদানকারী। (মুসলিম, ১/১৭১; ইবনু আবি শায়বাহ, ১/৫১/২)

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 দু'সহবাসের মাঝে গোসল অতি উত্তম

📄 দু'সহবাসের মাঝে গোসল অতি উত্তম


রাফের হাদীসের আলোকে অযু থেকে গোসল করা উত্তম।
নিশ্চয় একদা নবী করীম ﷺ তার স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলেন। তিনি এর নিকট গোসল করলেন এবং ওর নিকট গোসল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে একটি গোসলে পরিণত করতে পারলেন না। তিনি বললেন, এটা অধিকতর পরিচ্ছন্ন, অতি উত্তম ও সর্বাধিক পবিত্রতা অর্জনকারী। (আবু দাউদ ও নাসাঈ ইশরাতুন নিসা, ৭৯,১)

ফন্ট সাইজ
15px
17px