📄 বিবাহের খুৎবা পাঠ করার হুকুম
আক্বদকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো : আক্বদের পূর্বে খুৎবায়ে হাজাত পাঠ করা। যেমন: খুৎবাতুল জুমু'আয় উল্লেখ হয়েছে। এটি বিবাহ ও অন্যান্য খুৎবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তা হলো "ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতাঈনুহু।...........।” অত:পর খুৎবায় উল্লেখিত আয়াতগুলো পাঠ করবেন। এরপর তাদের মাঝে আক্বদ তথা বন্ধন করে দিবেন এবং দু'জন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ সাক্ষী রাখবেন।
📄 ফাতিমা (রা)-এর বিয়েতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পঠিত খুৎবা
ফাতিমা ও আলী (রা)-এর বিয়েতে প্রদত্ত নবী করীম ﷺ-এর খুতবা।
'যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর দান ও অনুগ্রহের কারণে প্রশংসিত, শক্তি ও ক্ষমতার জোরে উপাস্য, শাস্তির কারণে ভীতিপ্রদ এবং তাঁর নিকট যা কিছু রয়েছে তার জন্য প্রত্যাশিত। আসমান ও যমীনে তিনি স্বীয় বিধান বাস্তবায়নকারী। তিনি তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা দ্বারা এ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তারপর বিধি নিষেধ দ্বারা তাদেরকে পার্থক্য করেছেন, দ্বীনের মাধ্যমে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর দ্বারা তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বিবাহ ব্যবস্থাকে পরবর্তী বংশ রক্ষার পন্থা এবং একটি অবশ্যকরণীয় কাজ করে দিয়েছেন। এর দ্বারা রক্ত সম্পর্ককে একটির সাথে আরেকটি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। এ ব্যবস্থা সৃষ্টি জগতের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। (জামহারাতু খুতাব আল-'আরাব-৩/৩৪৪)
যাঁর নাম অতি বরকতময় এবং যাঁর স্মরণ সুমহান, তিনি বলেছেন: তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষকে, অতঃপর তাকে রক্তগত বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার প্রতিপালক সবকিছু করতে সক্ষম। অতএব আল্লাহর নির্দেশ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। প্রত্যেকটি চূড়ান্ত পরিণতির একটি নির্ধারিত সময় আছে। আর প্রত্যেকটি নির্ধারিত সময়ের একটি শেষ আছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা বিলীন করেন এবং স্থির রাখেন। আর মূল গ্রন্থ তাঁর নিকটই রয়েছে।'
অতঃপর, আমার প্রতিপালক আমাকে আদেশ করেছেন, আমি যেন আলীর সাথে ফাতিমার বিয়ে দিই। আর আমি তাঁকে চার শত মিছকাল রূপার বিনিময়ে তার সাথে বিয়ে দিয়েছি- যদি এতে আলী সন্তুষ্ট থাকে।'
নবী করীম-এর খুতবার পর তৎকালীন আরবের প্রথানুযায়ী বর আলী (রা) ছোট্ট একটি খুতবা দেন। প্রথমে আল্লাহর হামদ ও ছানা এবং রাসূলের প্রতি দুরূদ ও সালাম পেশ করেন। তারপর বলেন-
"আমাদের এ মজলিশ, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর বিয়ে হলো, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন এবং যে বিষয়ে অনুমতি দান করেছেন। এ যে মুহাম্মদ ﷺ তাঁর মেয়ে ফাতিমার সাথে আমাকে চার শত আশি দিরহাম মোহরের বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছেন। আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছি। অতএব আপনারা তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।”
এভাবে অতি সাধারণ ও সাধারণভাবে আলীর সাথে রাসূলের কন্যা ফাতিমাতুয যাহরার বিয়ে সম্পন্ন হয়। অন্য কথায় ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচেয়ে মহান ও গৌরবময় বৈবাহিক সম্পর্কটি স্থাপিত হয়।
📄 স্ত্রী নির্বাচন
যে ব্যক্তি বিবাহ করতে ইচ্ছুক তার জন্য স্নেহময়ী, ঘন ঘন সন্তান দেয় এমন, কুমারী, দ্বীনদার ও সতী-সাধ্বী মহিলাকে বিবাহ করা সুন্নাত।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন: "মহিলাদেরকে চারটি জিনিসের জন্য বিবাহ করা হয়। (এক) সম্পদের জন্য। (দুই) বংশ-বুনিয়াদের জন্য। (তিন) সৌন্দর্যের জন্য। (চার) দ্বীনের জন্য। অতএব, দ্বীনদারকেই প্রাধান্য দাও। তোমার হাত ধূসরিত (কল্যাণজনক) হোক।"
(বুখারী: হাদীস নং ৫০৯০ শব্দ তারই মুসলিম হাদীস নং ১৪৯৯)
📄 বিবাহের শুভেচ্ছা বিনিময়ের হুকুম
বিবাহের শুভেচ্ছা জানানো মুস্তাহাব।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ নবদম্পতিকে দু'আ করার সময় বলতেন: "বারাকাল্লাহু লাকুম, ওয়া বারাকা 'আলাইকুম, ওয়া জামা'আ বাইনাকুমা ফী খাইর।” আল্লাহ তোমাদের জন্য ও তোমাদের প্রতি বরকত দান করুন এবং তোমাদের দু'জনের মাঝে কল্যাণময় সুসম্পর্ক করে দিন।
(হাদীসটি সহীহ, আবু দাউদ: হাদীস নং ২১৩০, ইবনে মাজাহ হাদীস নং ১৯০৫)
* আক্বদের পরে স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সঙ্গে একত্রে এবং নির্জনে হওয়া ও উপভোগ করা জায়েয; কারণ সে এখন তার স্ত্রী। কিন্তু এ সবই প্রস্তাবের পরে ও আক্বদের আগে হারাম।