📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মহিলার আক্বদের সময়

📄 মহিলার আক্বদের সময়


পবিত্র ও মাসিক অবস্থায় মহিলার বিবাহের আক্বদ করা বৈধ। কিন্তু মাসিক অবস্থায় তালাক দেয়া হারাম। আর পবিত্র অবস্থায় তালাক দেয়া বৈধ। এর হুকুম পরে আসবে (ইনশাআল্লাহ)।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বিবাহের আক্বদ বিশুদ্ধ হওয়ার রোকন

📄 বিবাহের আক্বদ বিশুদ্ধ হওয়ার রোকন


১. বিবাহ বিশুদ্ধ হওয়ার কোন বাধা ছাড়াই (যেমন: দুধ পান ও ভিন্ন দ্বীন ইত্যাদি) বর-কনের অস্তিত্ব থাকা।
২. ইজাব পাওয়া: মেয়ের অভিভাবক কিংবা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এ বলা যে, আমি তোমার সাথে অমুক কন্যার বিবাহ দিলাম কিংবা তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি শব্দ বলা।
৩. কবুল পাওয়া: স্বামী অথবা তার উকিলের পক্ষ থেকে বলা: আমি এ বিবাহ কবুল করলাম... ইত্যাদি শব্দ বলা। কাজেই, যখন ইজাব ও কবুল পাওয়া যাবে, তখন বিবাহের আক্বদ হয়ে যাবে।

বিবাহ দেয়ার জন্য মহিলাদের অনুমতি নেয়ার হুকুম: মেয়ে কুমারী হোক বা বিবাহিতা হোক তার অভিভাবকের প্রতি ওয়াজিব হলো: বিবাহ দেয়ার আগে তার অনুমতি গ্রহণ করা। মেয়ে যাকে ঘৃণা করে তার সঙ্গে বিয়ের জন্য তাকে বাধ্য করা বৈধ নয়। যদি তার অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীত তার বিবাহ দেয় তবে তার বিয়ের আকদ বাতিল করার অধিকার রয়েছে।
১. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন : "বিবাহিতা মহিলার নির্দেশ তলব ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া চলবে না এবং কুমারী মহিলার অনুমতি ব্যতিরেকে বিবাহ দেয়া যাবে না।" তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন : কুমারীর অনুমতি আবার কীভাবে? তিনি (রা) বললেন : “তার চুপ থাকাই অনুমতি।” (বুখারী: হাদীস নং ৫১৩৬, মুসলিম: হাদীস নং ১৪১৯)
২. খানসা বিনতে খেযাম আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একজন বিবাহিতা মহিলা ছিলেন। তার বাবা তার অনুমতি ব্যতীতই বিবাহ দেন। আর তিনি এ বিবাহকে অপছন্দ করেন। ফলে নবী করীম ﷺ-এর নিকটে আগমন করলে তিনি তার বিবাহকে বাতিল করে দেন।” (বুখারী: হাদীস নং ৫১৩৮)
* নয় বছরের কম বয়সের মেয়ের অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীতই তার জন্য উপযুক্ত ছেলের সাথে বিবাহ দেয়া বাবার জন্য বৈধ।
* বিবাহের প্রস্তাবের আংটির নামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা চলবে না; কারণ এটি শরিয়তে হারাম ও কাফেরদের সাথে সদৃশ।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বিবাহের খুৎবা পাঠ করার হুকুম

📄 বিবাহের খুৎবা পাঠ করার হুকুম


আক্বদকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো : আক্বদের পূর্বে খুৎবায়ে হাজাত পাঠ করা। যেমন: খুৎবাতুল জুমু'আয় উল্লেখ হয়েছে। এটি বিবাহ ও অন্যান্য খুৎবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তা হলো "ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতাঈনুহু।...........।” অত:পর খুৎবায় উল্লেখিত আয়াতগুলো পাঠ করবেন। এরপর তাদের মাঝে আক্বদ তথা বন্ধন করে দিবেন এবং দু'জন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ সাক্ষী রাখবেন।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 ফাতিমা (রা)-এর বিয়েতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পঠিত খুৎবা

📄 ফাতিমা (রা)-এর বিয়েতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পঠিত খুৎবা


ফাতিমা ও আলী (রা)-এর বিয়েতে প্রদত্ত নবী করীম ﷺ-এর খুতবা।
'যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর দান ও অনুগ্রহের কারণে প্রশংসিত, শক্তি ও ক্ষমতার জোরে উপাস্য, শাস্তির কারণে ভীতিপ্রদ এবং তাঁর নিকট যা কিছু রয়েছে তার জন্য প্রত্যাশিত। আসমান ও যমীনে তিনি স্বীয় বিধান বাস্তবায়নকারী। তিনি তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা দ্বারা এ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তারপর বিধি নিষেধ দ্বারা তাদেরকে পার্থক্য করেছেন, দ্বীনের মাধ্যমে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর দ্বারা তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বিবাহ ব্যবস্থাকে পরবর্তী বংশ রক্ষার পন্থা এবং একটি অবশ্যকরণীয় কাজ করে দিয়েছেন। এর দ্বারা রক্ত সম্পর্ককে একটির সাথে আরেকটি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। এ ব্যবস্থা সৃষ্টি জগতের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। (জামহারাতু খুতাব আল-'আরাব-৩/৩৪৪)

যাঁর নাম অতি বরকতময় এবং যাঁর স্মরণ সুমহান, তিনি বলেছেন: তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষকে, অতঃপর তাকে রক্তগত বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার প্রতিপালক সবকিছু করতে সক্ষম। অতএব আল্লাহর নির্দেশ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। প্রত্যেকটি চূড়ান্ত পরিণতির একটি নির্ধারিত সময় আছে। আর প্রত্যেকটি নির্ধারিত সময়ের একটি শেষ আছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা বিলীন করেন এবং স্থির রাখেন। আর মূল গ্রন্থ তাঁর নিকটই রয়েছে।'

অতঃপর, আমার প্রতিপালক আমাকে আদেশ করেছেন, আমি যেন আলীর সাথে ফাতিমার বিয়ে দিই। আর আমি তাঁকে চার শত মিছকাল রূপার বিনিময়ে তার সাথে বিয়ে দিয়েছি- যদি এতে আলী সন্তুষ্ট থাকে।'

নবী করীম-এর খুতবার পর তৎকালীন আরবের প্রথানুযায়ী বর আলী (রা) ছোট্ট একটি খুতবা দেন। প্রথমে আল্লাহর হামদ ও ছানা এবং রাসূলের প্রতি দুরূদ ও সালাম পেশ করেন। তারপর বলেন-
"আমাদের এ মজলিশ, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর বিয়ে হলো, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন এবং যে বিষয়ে অনুমতি দান করেছেন। এ যে মুহাম্মদ ﷺ তাঁর মেয়ে ফাতিমার সাথে আমাকে চার শত আশি দিরহাম মোহরের বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছেন। আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছি। অতএব আপনারা তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।”

এভাবে অতি সাধারণ ও সাধারণভাবে আলীর সাথে রাসূলের কন্যা ফাতিমাতুয যাহরার বিয়ে সম্পন্ন হয়। অন্য কথায় ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচেয়ে মহান ও গৌরবময় বৈবাহিক সম্পর্কটি স্থাপিত হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px