📄 বিবাহের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যা করণীয়
যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করতে চায় তার জন্য মুস্তাহাব হলো: একাকী নির্জনতা ছাড়াই মেয়ের এমন কিছু অংশ দেখা যা তাকে বিবাহের জন্য আকৃষ্ট করে। তার সঙ্গে মুসাফাহ করবে না এবং দেহের কোন অংশ স্পর্শ করবে না ও তার যা দেখবে তা কোথাও প্রকাশও করবে না। নারীও তার প্রস্তাবদাতাকে দেখবে। আর যদি নিজে দেখা অসম্ভব হয় তবে বিশ্বস্ত কোন নারীকে দেখার জন্য প্রেরণ করবে, সে দেখে এসে তার বিবরণ দিবে।
* কোন নারী স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিবাহ করলে সর্বশেষ স্বামীই শেষ বিচার দিবসে স্বামী হিসেবে পাবে।
অন্য ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেয়ার বিধান: প্রস্তাব বা অন্য কোন বিষয়ে ছবি দেয়া-নেয়া হারাম। আর পুরুষের প্রতি হারাম হলো অন্য ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেয়া। তবে যদি প্রথমজন ছেড়ে দেয় বা তাকে অনুমতি দেয় কিংবা মেয়ের পক্ষ থেকে প্রথম ব্যক্তিকে না করে দেয়, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। যদি প্রথম ব্যক্তির প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেয় আর বিবাহ হয়ে যায়, তবে আক্বদ বিশুদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু সে পাপী হবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমান বলে বিবেচিত হবে।
কন্যার অভিভাবকের প্রতি ওয়াজিব হলো: একজন সৎ ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে চেষ্টা-তদবির করা। মেয়ের বা বোনের কোন ভাল ও সৎ ছেলের কাছে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তাব করায় কোন অসুবিধা বা দোষের কথা নয়।
ইদ্দত পালনকারিণীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার হুকুম: মৃত স্বামী বা তালাকে বায়েনার ইদ্দত পালনকারী নারীকে সুস্পষ্টভাবে বিবাহের প্রস্তাব দেয়া হারাম। তবে অস্পষ্টভাবে প্রস্তাব দেয়া বৈধ। যেমন: পুরুষ বলবে: আমি তোমার মতকে চাই। জবাবে মহিলা বলবে: তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চাই না ইত্যাদি।
* তিন তালাকের কম তালাকে বায়েনার ইদ্দত পালনকারিণী মহিলাকে স্পষ্ট ও অস্পষ্ট দু'ভাবেই প্রস্তাব দেয়া জায়েয। কিন্তু রাজ'য়ী তালাকের ইদ্দত পালনকারিণীকে স্পষ্ট ও অস্পষ্ট যে কোন ভাবেই প্রস্তাব দেয়া হারাম।
📄 মহিলার আক্বদের সময়
পবিত্র ও মাসিক অবস্থায় মহিলার বিবাহের আক্বদ করা বৈধ। কিন্তু মাসিক অবস্থায় তালাক দেয়া হারাম। আর পবিত্র অবস্থায় তালাক দেয়া বৈধ। এর হুকুম পরে আসবে (ইনশাআল্লাহ)।
📄 বিবাহের আক্বদ বিশুদ্ধ হওয়ার রোকন
১. বিবাহ বিশুদ্ধ হওয়ার কোন বাধা ছাড়াই (যেমন: দুধ পান ও ভিন্ন দ্বীন ইত্যাদি) বর-কনের অস্তিত্ব থাকা।
২. ইজাব পাওয়া: মেয়ের অভিভাবক কিংবা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এ বলা যে, আমি তোমার সাথে অমুক কন্যার বিবাহ দিলাম কিংবা তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি শব্দ বলা।
৩. কবুল পাওয়া: স্বামী অথবা তার উকিলের পক্ষ থেকে বলা: আমি এ বিবাহ কবুল করলাম... ইত্যাদি শব্দ বলা। কাজেই, যখন ইজাব ও কবুল পাওয়া যাবে, তখন বিবাহের আক্বদ হয়ে যাবে।
বিবাহ দেয়ার জন্য মহিলাদের অনুমতি নেয়ার হুকুম: মেয়ে কুমারী হোক বা বিবাহিতা হোক তার অভিভাবকের প্রতি ওয়াজিব হলো: বিবাহ দেয়ার আগে তার অনুমতি গ্রহণ করা। মেয়ে যাকে ঘৃণা করে তার সঙ্গে বিয়ের জন্য তাকে বাধ্য করা বৈধ নয়। যদি তার অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীত তার বিবাহ দেয় তবে তার বিয়ের আকদ বাতিল করার অধিকার রয়েছে।
১. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন : "বিবাহিতা মহিলার নির্দেশ তলব ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া চলবে না এবং কুমারী মহিলার অনুমতি ব্যতিরেকে বিবাহ দেয়া যাবে না।" তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন : কুমারীর অনুমতি আবার কীভাবে? তিনি (রা) বললেন : “তার চুপ থাকাই অনুমতি।” (বুখারী: হাদীস নং ৫১৩৬, মুসলিম: হাদীস নং ১৪১৯)
২. খানসা বিনতে খেযাম আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একজন বিবাহিতা মহিলা ছিলেন। তার বাবা তার অনুমতি ব্যতীতই বিবাহ দেন। আর তিনি এ বিবাহকে অপছন্দ করেন। ফলে নবী করীম ﷺ-এর নিকটে আগমন করলে তিনি তার বিবাহকে বাতিল করে দেন।” (বুখারী: হাদীস নং ৫১৩৮)
* নয় বছরের কম বয়সের মেয়ের অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীতই তার জন্য উপযুক্ত ছেলের সাথে বিবাহ দেয়া বাবার জন্য বৈধ।
* বিবাহের প্রস্তাবের আংটির নামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা চলবে না; কারণ এটি শরিয়তে হারাম ও কাফেরদের সাথে সদৃশ।
📄 বিবাহের খুৎবা পাঠ করার হুকুম
আক্বদকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো : আক্বদের পূর্বে খুৎবায়ে হাজাত পাঠ করা। যেমন: খুৎবাতুল জুমু'আয় উল্লেখ হয়েছে। এটি বিবাহ ও অন্যান্য খুৎবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তা হলো "ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতাঈনুহু।...........।” অত:পর খুৎবায় উল্লেখিত আয়াতগুলো পাঠ করবেন। এরপর তাদের মাঝে আক্বদ তথা বন্ধন করে দিবেন এবং দু'জন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ সাক্ষী রাখবেন।