📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 একাধিক বিবাহ জায়েয হওয়ার রহস্য

📄 একাধিক বিবাহ জায়েয হওয়ার রহস্য


আল্লাহ তা'আলা একজন পুরুষের জন্যে সর্বোচ্চ চারজন মহিলাকে বিবাহ করা জায়েয করেছেন এর অতিরিক্ত চলবে না। কিন্তু শর্ত হলো তার দৈহিক, অর্থনৈতিক ও তাদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। একাধিক বিবাহের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকার। যেমন: লজ্জাস্থানের হেফাজত, যাদের বিবাহ করবে তাদেরকে পূত-পবিত্র রাখা এবং তাদের প্রতি ইহসান করা। এ ছাড়া বংশের বিস্তার লাভ, যার দ্বারা উম্মতের সংখ্যা এবং আল্লাহর ইবাদতকারীদের সংখ্যা বাড়ে। অতএব, যদি ভয় করে যে, তাদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না তাহলে শুধুমাত্র একজন স্ত্রীকে বিবাহ করবে অথবা দাসী গ্রহণ করবে। আর দাসীর জন্য পৃথক কোন দিন ভাগ করা ওয়াজিব নয়।
১. আল্লাহ তা'আলার বাণী: "আর যদি ইয়াতিম মেয়েদের ব্যাপারে যথাযথভাবে তাদের অধিকার পূরণ করতে পারবে না এ ভয় কর, তবে সেসব নারীদের মধ্য থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ সম্ভাবনা থাকে যে, তাদের মাঝে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে পারবে না তবে একটিই; অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে।” [সূরা নিসা: ৩]
২. প্রজ্ঞাময় মহাজ্ঞানী আল্লাহ একাধিক বিবাহকে যখন হালাল করেছেন তখন অন্য দিকে এটি নিজস্ব আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে হারাম করে দিয়েছেন। যেমন : দু' বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম। অনুরূপ ফুফু ও ভাতিজীকে এবং খালা ও ভাগিনীকে; কারণ এর ফলে সৃষ্টি হবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন ও জন্ম নিবে নানা রকমের আপোষে দুশমনি। নিশ্চয় সতীনদের মাঝে ঈর্ষা বড় কঠিন।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বিবাহের শর্তসমূহ

📄 বিবাহের শর্তসমূহ


বিবাহ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে শর্ত হলো:
* বর-কনের নির্দিষ্টকরণ।
* বর-কনের উভয়ের সন্তুষ্টি।
* অলি ব্যতীত কোন নারীর বিবাহ বৈধ নয়।
* মোহরানা দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হওয়া।
* বর-কনেকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হওয়া যেমন: দু'জনের বা কোন একজনের মাঝে এমন কিছু পাওয়া, যা বিবাহকে বাধা দেয়। চাই তা বংশের জন্য হোক বা অন্য কোন কারণের জন্য হোক যেমন: দুধ পান ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ইত্যাদি।

অভিভাবক হওয়ার জন্য শর্ত : অভিভাবককে পুরুষ, স্বাধীন, সাবালক (প্রাপ্তবয়স্ক), বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। বর-কনের দ্বীন একই হওয়া শর্ত। নও মুসলিমা নারী যার কোন অভিভাবক নেই তার অভিভাবক দেশের বাদশাহ নিজেই বা তাঁর প্রতিনিধি। অভিভাবক মেয়ের বাবা, তিনিই তার বিয়ে দেয়ার সর্বাধিক হকদার। অত:পর বাবা যার অসিয়ত করবেন। এরপর দাদা। এরপর ছেলে অত:পর ভাইয়ের পর চাচা। অতঃপর বংশের সবচেয়ে নিকটের আসাবা (আসাবা বলা হয়: নিকটাত্মীয় না থাকা অবস্থায় দূরবর্তী যেসব আত্মীয়-স্বজন মৃতের উত্তরাধিকার লাভ করে।) এরপর দেশের বাদশাহ।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 বিবাহের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যা করণীয়

📄 বিবাহের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যা করণীয়


যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করতে চায় তার জন্য মুস্তাহাব হলো: একাকী নির্জনতা ছাড়াই মেয়ের এমন কিছু অংশ দেখা যা তাকে বিবাহের জন্য আকৃষ্ট করে। তার সঙ্গে মুসাফাহ করবে না এবং দেহের কোন অংশ স্পর্শ করবে না ও তার যা দেখবে তা কোথাও প্রকাশও করবে না। নারীও তার প্রস্তাবদাতাকে দেখবে। আর যদি নিজে দেখা অসম্ভব হয় তবে বিশ্বস্ত কোন নারীকে দেখার জন্য প্রেরণ করবে, সে দেখে এসে তার বিবরণ দিবে।
* কোন নারী স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিবাহ করলে সর্বশেষ স্বামীই শেষ বিচার দিবসে স্বামী হিসেবে পাবে।

অন্য ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেয়ার বিধান: প্রস্তাব বা অন্য কোন বিষয়ে ছবি দেয়া-নেয়া হারাম। আর পুরুষের প্রতি হারাম হলো অন্য ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেয়া। তবে যদি প্রথমজন ছেড়ে দেয় বা তাকে অনুমতি দেয় কিংবা মেয়ের পক্ষ থেকে প্রথম ব্যক্তিকে না করে দেয়, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। যদি প্রথম ব্যক্তির প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেয় আর বিবাহ হয়ে যায়, তবে আক্বদ বিশুদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু সে পাপী হবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমান বলে বিবেচিত হবে।

কন্যার অভিভাবকের প্রতি ওয়াজিব হলো: একজন সৎ ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে চেষ্টা-তদবির করা। মেয়ের বা বোনের কোন ভাল ও সৎ ছেলের কাছে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তাব করায় কোন অসুবিধা বা দোষের কথা নয়।

ইদ্দত পালনকারিণীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার হুকুম: মৃত স্বামী বা তালাকে বায়েনার ইদ্দত পালনকারী নারীকে সুস্পষ্টভাবে বিবাহের প্রস্তাব দেয়া হারাম। তবে অস্পষ্টভাবে প্রস্তাব দেয়া বৈধ। যেমন: পুরুষ বলবে: আমি তোমার মতকে চাই। জবাবে মহিলা বলবে: তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চাই না ইত্যাদি।
* তিন তালাকের কম তালাকে বায়েনার ইদ্দত পালনকারিণী মহিলাকে স্পষ্ট ও অস্পষ্ট দু'ভাবেই প্রস্তাব দেয়া জায়েয। কিন্তু রাজ'য়ী তালাকের ইদ্দত পালনকারিণীকে স্পষ্ট ও অস্পষ্ট যে কোন ভাবেই প্রস্তাব দেয়া হারাম।

📘 কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিয়ে 📄 মহিলার আক্বদের সময়

📄 মহিলার আক্বদের সময়


পবিত্র ও মাসিক অবস্থায় মহিলার বিবাহের আক্বদ করা বৈধ। কিন্তু মাসিক অবস্থায় তালাক দেয়া হারাম। আর পবিত্র অবস্থায় তালাক দেয়া বৈধ। এর হুকুম পরে আসবে (ইনশাআল্লাহ)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px