📄 বিবাহর ফযীলত
বিবাহ হলো সকল নবী-রাসূলের সবচেয়ে গুরুত্ব একটি সুন্নাত। যে সুন্নাত প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা ও নবী করীম উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَمِنْ ابْتِهِ أَنْ خَلَقَ লকুম মিন আনফুসিকুম আজওয়াজান লিতাসকুনু ইলাইহা অজাআলা বাইনাকুম মাওয়াদ্দাতান অরাহমাতান, ইন্না ফী জালিকা লাআয়াতিল লিকাওমিই ইয়াতাফাক্কারুন। "আর এক নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সহধর্মীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নির্দেশনাবলী রয়েছে।” [সূরা রূম: আয়াত-২১]
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন- وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلاً মীন কাবলিকা অজাআলনা লাহুম আজওয়াজান অজুররিয়্যাতান। "আপনার পূর্বে আমি অনেক রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাঁদেরকে পত্নী ও সন্তান- সন্ততি দিয়েছি।” [সূরা রা'দ : আয়াত-৩৮]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী করীম ﷺ-এর সাথে এমন সব যুবক ছিলাম যাদের কিছুই ছিল না। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের জন্য বললেন: "হে যুবকের দল! তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি 'বা'আত' তথা দৈহিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা রাখে সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি চক্ষুকে নিচু রাখে এবং যৌনাঙ্গকে সংরক্ষণ করে। আর যে সক্ষম হবে না তার প্রতি রোযা; কারণ রোযা হল তার যৌন ক্ষমতার জন্য দমনকারী।" (বুখারী: হাদীস নং ৫০৬৬ শব্দ তারই মুসলিম হাদীস নং ১৪০০)
📄 বিবাহ কি?
বিবাহ হচ্ছে শরিয়তের একটি বন্ধন, যার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর আপোষে একে অপরকে সম্ভোগ করা বৈধ হয়ে যায়।
📄 বিবাহের হুকুম
১. যার যৌন ক্ষুধা রয়েছে এবং যেনায় লিপ্ত হওয়ার ভয় নেই তার জন্য বিবাহ করা সুন্নত; কারণ এর মাঝে রয়েছে নর-নারী ও উম্মতের অনেক উপকার।
২. যে ব্যক্তি বিবাহ না করলে যেনায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তার প্রতি বিবাহ করা ওয়াজিব। নবদম্পতি তাদের বিবাহ দ্বারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র এবং আল্লাহর হারামকৃত যেনায় লিপ্ত হওয়া থেকে সংরক্ষণের নিয়ত করবে। এর ফলে তাদের মধুর মিলন সদকায় পরিণত হবে।
📄 বিবাহ জায়েয হওয়ার রহস্য
১. বিবাহ এমন একটি কাজ যা দ্বারা সৎ পরিবেশ ও সুন্দর সমাজ গঠন এবং পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে সাহায্য করে। আর জীবনকে পূত-পবিত্র রাখে ও হারামে পতিত হওয়া থেকে সংরক্ষণ করে। এটি এক বাসস্থান ও প্রশান্তি। এর দ্বারা সৃষ্টি হয় ভালোবাসা, প্রণয়, মিল-মহব্বত ও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রসারিত হয় প্রফুল্লতা।
২. বিবাহ হচ্ছে: সন্তান জন্মের সর্বোত্তম পন্থা এবং বংশকুল সংরক্ষণের পাশাপাশি বংশ বিস্তার করার জায়েয পদ্ধতি। এর দ্বারা জন্ম নেয় আপোষের মাঝে পরিচিতি, সাহায্য-সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব।
৩. বিবাহ হচ্ছে- যৌন চাহিদা মেটানোর এক উত্তমপন্থা এবং হরেক করমের রোগ-বালা থেকে নিরাপদে থেকে যৌন চাহিদা পূরণ করার একমাত্র হালাল পন্থা।
৪. বিবাহের দ্বারা সৎ পরিবার গঠন হয়, যা সুন্দর সমাজের জন্য একটি ভাল বীজ স্বরূপ। স্বামী কষ্ট করে আয় উপার্জন করে, খরচ ও ভরণ পোষণ করে আর স্ত্রী সন্তানদের লালন-পালন করে এবং সংসার পরিচালনা ও জীবিকা নিয়ন্ত্রণ করে। এর দ্বারা সুসংগঠিত হয় সমাজের অবস্থা।
৫. বিবাহ দ্বারা পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব স্বভাব পরিতৃপ্তি হয় যা সন্তানদের উপস্থিতিতে বেড়ে যায়।