📄 বিবাহের হিকমত
প্রতিটি সৃষ্টিকূলে বিবাহ ও বৈবাহিক সম্পর্ক আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনগুলোর একটি নিদর্শন। এটি জীবজন্তু ও উদ্ভিদের মাঝে সাধারণভাবে উন্মুক্ত। আর মানুষের প্রসঙ্গটি মহান আল্লাহ তার অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় যৌনচর্চা করার পথ খোলা রাখেননি। বরং তার উপযুক্ত সম্মানজনক বিধি-বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যার দ্বারা মানব জাতির মর্যাদার রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্মান হেফাযত হয়। আর তা হলো শরিয়ত সম্মত বিবাহ। এর দ্বারা একজন পুরুষের অপর মহিলার সাথে সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন হয়। এটি উভয়ের সন্তুষ্টি ও ইজাব-কবুল এবং ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রতীক। এর দ্বারা সঠিক পদ্ধতিতে যৌন চাহিদা মেটানো হয়। আর বংশানুক্রম বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং মহিলারা হেফাজতে থাকে প্রত্যেক ক্ষতিকারীর ক্ষতি থেকে।
📄 বিবাহর ফযীলত
বিবাহ হলো সকল নবী-রাসূলের সবচেয়ে গুরুত্ব একটি সুন্নাত। যে সুন্নাত প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা ও নবী করীম উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَمِنْ ابْتِهِ أَنْ خَلَقَ লকুম মিন আনফুসিকুম আজওয়াজান লিতাসকুনু ইলাইহা অজাআলা বাইনাকুম মাওয়াদ্দাতান অরাহমাতান, ইন্না ফী জালিকা লাআয়াতিল লিকাওমিই ইয়াতাফাক্কারুন। "আর এক নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সহধর্মীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নির্দেশনাবলী রয়েছে।” [সূরা রূম: আয়াত-২১]
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন- وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلاً মীন কাবলিকা অজাআলনা লাহুম আজওয়াজান অজুররিয়্যাতান। "আপনার পূর্বে আমি অনেক রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাঁদেরকে পত্নী ও সন্তান- সন্ততি দিয়েছি।” [সূরা রা'দ : আয়াত-৩৮]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী করীম ﷺ-এর সাথে এমন সব যুবক ছিলাম যাদের কিছুই ছিল না। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের জন্য বললেন: "হে যুবকের দল! তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি 'বা'আত' তথা দৈহিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা রাখে সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি চক্ষুকে নিচু রাখে এবং যৌনাঙ্গকে সংরক্ষণ করে। আর যে সক্ষম হবে না তার প্রতি রোযা; কারণ রোযা হল তার যৌন ক্ষমতার জন্য দমনকারী।" (বুখারী: হাদীস নং ৫০৬৬ শব্দ তারই মুসলিম হাদীস নং ১৪০০)
📄 বিবাহ কি?
বিবাহ হচ্ছে শরিয়তের একটি বন্ধন, যার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর আপোষে একে অপরকে সম্ভোগ করা বৈধ হয়ে যায়।
📄 বিবাহের হুকুম
১. যার যৌন ক্ষুধা রয়েছে এবং যেনায় লিপ্ত হওয়ার ভয় নেই তার জন্য বিবাহ করা সুন্নত; কারণ এর মাঝে রয়েছে নর-নারী ও উম্মতের অনেক উপকার।
২. যে ব্যক্তি বিবাহ না করলে যেনায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তার প্রতি বিবাহ করা ওয়াজিব। নবদম্পতি তাদের বিবাহ দ্বারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র এবং আল্লাহর হারামকৃত যেনায় লিপ্ত হওয়া থেকে সংরক্ষণের নিয়ত করবে। এর ফলে তাদের মধুর মিলন সদকায় পরিণত হবে।