📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 শায়েখ বা পীরের আনুগত্য

📄 শায়েখ বা পীরের আনুগত্য


সুফীবাদের কথা হচ্ছে, চোখ বন্ধ করে এবং বিনা শর্তে সুফী তরীকার পীর বা শায়েখের আনুগত্য করতে হবে এবং পাপ করে থাকলে মুরীদদেরকে তাদের সামনে তা স্বীকার করতে হবে। ভক্তরা পীরের হাতে সেরকম আটকা থাকবে যেমন গোসল দাতার হাতে মৃত ব্যক্তি।

📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 পীরের আত্মার সাথে মুরীদদের আত্মার সম্পর্ক তৈরী করা

📄 পীরের আত্মার সাথে মুরীদদের আত্মার সম্পর্ক তৈরী করা


সুফীদের কথা হচ্ছে শত শত বই-পুস্তক পাঠ করে কোন মুমিন সঠিক পথে চলতে পারবে না। পীর বা শায়েখের অন্তরের সাথে মুরীদের অন্তর যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীনী ইলম ও আমলে পরিপক্ক হওয়া যাবে না।

📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 ইলমে লাদুন্নী নামে কল্পিত এক বিশ্বাস

📄 ইলমে লাদুন্নী নামে কল্পিত এক বিশ্বাস


সুফীরা বেশী বেশী ইলমে লাদুন্নীর কথা বলে থাকে। ইলমে লাদুন্নী বলতে তারা বুঝাতে চায় যে, এটি এমন একটি ইলম যা আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে সুফীরা পেয়ে থাকে। সাধনা ও চেষ্টার মাধ্যমে এটি অর্জন করা যায় না। তাদের কল্পিত কথা হচ্ছে অলী- আওলীয়ারা আল্লাহর পক্ষ হতে ইলমে লাদুন্নী অর্জন করে থাকে। তাদের বানোয়াট কথার মধ্যে এটিও একটি বানোয়াট ও কল্পিত কথা এবং আল্লাহর নামে চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। এই উম্মতের প্রথম কাতারের সৎ লোক তথা সাহাবীদের মাঝে এ ধরণের কথা শুনা যায় নি। তারা ঈমান, আমল ও তাকওয়ায় এত বেশী অগ্রগামী ছিলেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের প্রশংসায় কুরআনে একাধিক আয়াত নাযিল করেছেন এবং রাসূল তাদের অনেককেই জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 কারামাতে আওলীয়ার ক্ষেত্রে সুফীদের বাড়াবাড়ি

📄 কারামাতে আওলীয়ার ক্ষেত্রে সুফীদের বাড়াবাড়ি


কারামাতে আওলীয়ার ব্যাপারে আহলুস্ সুন্নাতের বিশ্বাস হচ্ছে আউলীয়াদের কারামত এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের হাতে অলৌকিক ও সাধারণ অভ্যাসের বিপরীত যে সমস্ত ঘটনা প্রকাশ করে থাকেন আমরা তাতে বিশ্বাস করি। তবে অলী হওয়ার জন্য কারামত প্রকাশিত হওয়া জরুরী নয়। আওলীয়াদের কারামত সত্য। আল্লাহ তা'আলা তাদের হাতে অলৌকিক ও সাধারণ নিয়মের বিপরীত এমন ঘটনা প্রকাশ করে থাকেন যাতে তাদের কোন হাত নেই। তবে কারামত চ্যালেঞ্জ আকারে প্রকাশিত হয় না; বরং আল্লাহই তাদের হাতে কারামত প্রকাশ করেন। এমনকি অলীগণ তা জানতেও পারেন না। পূর্ববর্তী যুগের অনেক সৎ লোক, সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী যুগের অনেক সৎ লোকের হাতে আল্লাহ্ কারামত প্রকাশ করেছেন। যেমন মারইয়াম, আসহাবে কাহাফ, জুরাইজ, আব্বাদ বিন বিশর, উমার বিন খাত্তাব, উসায়েদ ইবনে হুযায়ের এমনি আরও অনেক সাহাবীর হাতে আল্লাহ তা'আলা কারামত প্রকাশ করেছেন। যারা কুরআন ও হাদীসের অনুসরণ করেন, তাদের হাতেই কারামত প্রকাশ হতে পারে। যে ব্যক্তি কুরআন ও হাদীসের অনুসরণ করে না, তার হাতে যদি সাধারণ অভ্যাসের বিপরীতে কোন কিছু বের হয়, যেমন আগুনে প্রবেশ করা, শুন্যে উড়াল দেয়া, সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া ইত্যাদি তাহলে বুঝতে হবে যে এগুলো ধান্দাবাজি, শয়তানি ও ভণ্ডামি। তা কখনও কারামত হতে পারে না। কারামত ও ভণ্ডামির মধ্যে পার্থক্য করার জন্য কুরআন ও হাদীস হচ্ছে একমাত্র মাপকাঠি।

সুফীরা তাদের জীবিত ও মৃত কল্পিত পীর ও অলীদের মর্যাদা বাড়ানোর জন্য তাদের কারামত বর্ণনায় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে থাকে। এখানে বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, যে সমস্ত কাজ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ করার ক্ষমতা রাখে না কিংবা যেগুলো আল্লাহর সিফাত, তা কখনও অলীদের কারামত হতে পারে না। যেমন মৃতকে জীবিত করা, অলীদের আদেশে নদ-নদী ও আসমান-যমিনের কাজ পরিচালিত হওয়া, ইলমে গায়েবের দাবী করা ইত্যাদি। আমরা সুফীদের ধারণায় অলীদের কয়েকটি বানোয়াট কারামতের উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করবো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px