📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 আল্লাহ তা'আলা আকাশের উপরে সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহ

📄 আল্লাহ তা'আলা আকাশের উপরে সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহ


আল্লাহ তা'আলা যে আকাশের উপরে আছেন, কুরআনে এর অনেক দলীল রয়েছে।

১) আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "তোমরা কি নিরাপত্তা পেয়ে গেছো যে, আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদেরকেসহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দিবেন না? (সূরা মুল্কঃ ১৬)

২) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেনঃ "তারা তাদের প্রতিপ্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে আছেন"। (সূরা নাহ্লঃ ৫০)

৩) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেনঃ "তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে”। (সূরা ফাতিরঃ ১০)

৪) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেনঃ "ফেরেশতা এবং রূহ (জিবরীল) তাঁর দিকে উর্ধ্বগামী হয়"। (সূরা মাআরেজঃ ৪)

৫) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "আল্লাহ্ তা'আলা আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন”। (সূরা সিজদাহঃ ৫)

৬) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেনঃ "যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা!, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব। অতঃপর তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নিবো"। (সূরা আল-ইমরানঃ ৫৫) আল্লাহ্ তা'আলা উপরে আছেন- এ মর্মে আরো অনেক দলীল রয়েছে।

📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 আল্লাহ আসমানে সমুন্নত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ

📄 আল্লাহ আসমানে সমুন্নত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ


আল্লাহ্ তা'আলা উপরে আছেন- হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে অগণিত দলীল রয়েছে।

১) আওআলের হাদীসে নবী বলেনঃ "তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন"।

আওআলের হাদীসের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব বলেনঃ আমরা একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খোলা ময়দানে বসা ছিলাম। তখন আমাদের মাথার উপর দিয়ে একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করার সময় তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কী? আমরা বললামঃ এটি একটি মেঘের খণ্ড। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের দূরত্ব কতটুকু? আমরা বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ উভয়ের মধ্যে রয়েছে পাঁচশত বছরের দূরত্ব। এমনি প্রত্যেক আকাশ ও তার পরবর্তী আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশত বছরের পথ। এভাবে সপ্তম আকাশের উপর রয়েছে একটি সাগর। সাগরের গভীরতা হচ্ছে আকাশ ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। সাগরের উপরে রয়েছে আটটি জংলী পাঁঠা। তাদের হাঁটু থেকে পায়ের খুর পর্যন্ত দূরত্ব আকাশ ও যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান। তারা আল্লাহর আরশ পিঠে বহন করে আছে। আরশ এত বিশাল যে, তার উপরের অংশ থেকে নীচের অংশের দূরত্ব হচ্ছে আকাশ ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। আর আল্লাহ্ তা'আলা হচ্ছেন আরশের উপরে।

২) সা'দ বিন মুআয যখন বনী কুরায়যার ব্যাপারে ফয়সালা দান করলেন, তখন নবী তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তুমি তাদের ব্যাপারে সেই ফয়সালা করেছো, যা সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ্ তা'আলা করেছেন"।

৩) নবী একদা জনৈক দাসীকে বললেনঃ আল্লাহ্ কোথায়? দাসী বললঃ আকাশে। নবী তখন দাসীর মালিককে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও। কারণ সে মু'মিন"।

৪) আল্লাহ্ তা'আলা আকাশের উপরে। মি'রাজের ঘটনায় বর্ণিত হাদীসগুলো তার সুস্পষ্ট দলীল।

৫) পালাক্রমে ফেরেশতাদের দুনিয়াতে আগমণের হাদীসেও আল্লাহ্ তা'আলা আকাশের উপরে সমুন্নত হওয়ার দলীল রয়েছে। হাদীসের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, নবী বলেনঃ "তোমাদের নিকট রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পালাক্রমে আগমণ করে থাকে। তারা ফজর ও আসরের নামাযের সময় একসাথে একত্রিত হয়। অতঃপর তোমাদের কাছে যে দলটি ছিল, তারা উপরে উঠে যায়। মহান আল্লাহ জানা সত্ত্বেও তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? তাঁরা বলেনঃ আমরা তাদেরকে নামায অবস্থায় ছেড়ে এসেছি এবং যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখন তারা নামাযেই ছিল।

৬) নবী আরও বলেনঃ “যে ব্যক্তি বৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ হতে একটি খেজুর পরিমাণ সম্পদ দান করে, আর আল্লাহর নিকট তো পবিত্র ব্যতীত কোন কিছুই উর্ধ্বমুখী হয় না, আল্লাহ্ ঐ দান স্বীয় ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা দানকারীর জন্য প্রতিপালন করতে থাকেন। যেভাবে তোমাদের কেউ নিজের ঘোড়ার বাচ্চাকে প্রতিপালন করে থাকে। শেষ পর্যন্ত ঐ দান পাহাড় সমতুল্য হয়ে যায়”।

৭) নবী আরও বলেনঃ "আল্লাহ তা'আলা যখন আকাশে কোন বিষয়ে ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতাগণ আল্লাহর উক্ত ফয়সালার প্রতি অনুগত হয়ে তাদের পাখাসমূহ এমনভাবে নাড়াতে থাকেন যার ফলে শক্ত পাথরে শিকল দিয়ে প্রহার করলে যে ধরণের আওয়াজ হয় সে রকম আওয়াজ হতে থাকে”। আল্লাহ তাআ'লা আকাশের উপরে আছেন বাতিল ফির্কা ব্যতীত কেউ তা অস্বীকার করেনি।

টিকাঃ
১- তিরমিজী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তাফসীর, মুসনাদে আহমাদ, (১/২০৬)। আলেমগণ হাদীছটি সহীহ ও যঈফ হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম ইবনে তাইমীয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যেম হাদীছটি সহীহ বলেছেন। ইমাম তিরমিজী বলেনঃ হাদীছটি হাসান গরীব। ইমাম আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে যঈফা, হাদীছ নং- ১২৪৭।
১ - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মাগাযী।
২ - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মাসাজিদ।
৩- বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তাওহীদ।
১ - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তাওহীদ, মুসলিম, অধ্যায়ঃ যাকাত।
২ - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তাফসীর।

📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 আরশের উপর সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহ

📄 আরশের উপর সমুন্নত হওয়ার দলীলসমূহ


কুরআন মজীদের সাতটি আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আরশের উপর সমুন্নত।

১) আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ "দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন"। (সূরা তোহাঃ ৫)

২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি আসমান-যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। (সূরা আ'রাফঃ ৫৪)

৩) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমণ্ডলী স্থাপন করেছেন বিনা স্তম্ভে। তোমরা এটা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন”। (সূরা রা'দঃ ২)

৪) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন"। তিনি পরম দয়াময়। (সূরা ফুরকানঃ ৫৯)

৫) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "আল্লাহই আসমান-যমীন এবং এ দু'য়ের মধ্যবর্তী সকল বস্তু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন”। (সূরা সাজদাহঃ ৫৪)

৬) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ “আল্লাহই আকাশ-যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন”। (সূরা হাদীদঃ ৪)

📘 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে সূফীবাদ 📄 অলী-আওলিয়াদের আহবান

📄 অলী-আওলিয়াদের আহবান


সুফীদের বিরাট একটি অংশ নবী-রাসূল এবং জীবিত ও মৃত অলী- আওলীয়াদের কাছে দু'আ করে থাকে। তারা বলে থাকেঃ ইয়া জিলানী, ইয়া রিফাঈ, ইয়া রাসূলুল্লাহ ইত্যাদি। অথচ আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ছাড়া অন্যেকে আহবান করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু'আ করবে, সে মুশরিক হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "তুমি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে ডাকবে না যে তোমার উপকার কিংবা ক্ষতি কোনটিই করতে পারে না। যদি তুমি তাই কর তবে তুমি নিশ্চিত ভাবেই জালেমদের মধ্যে গণ্য হবে। (সূরা ইউনুসঃ ১০৬)

আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "এবং ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কে বেশী পথভ্রষ্ট যে আল্লাহ ব্যতীত এমন ব্যক্তিদেরকে আহবান করে যারা কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা তাদের ঐ আহবান থেকে সম্পূর্ণ বেখবর রয়েছে? (সূরা আহকাফঃ ৫)

ফন্ট সাইজ
15px
17px