📄 সুরাগুলো আলাদা আলাদাভাবে আয়ত্ব করা
হিফজের সুবিধার্থে বড় সুরাগুলো আমরা ভাগ ভাগ করে মুখস্থ করব। যেমন: আজ দু-আয়াত, কাল দু-আয়াত—এভাবে সপ্তাহে এক রুবু হিফজ পূর্ণ করে ফেলা যাবে। আর এই রীতিতে এক মাসে, দু-মাসে অথবা এরচেয়ে কম বা বেশি সময়ে আপনার একটা পূর্ণ সুরা মুখস্থ হয়ে যাবে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় হচ্ছে, যেকোনো একটি সুরার হিফজ পূর্ণ হওয়ার পর শুরুর আয়াত থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত মস্তিষ্কে গেঁথে নেওয়া চাই, তাহলে কুরআনের সমস্ত সুরা আলাদা আলাদাভাবে আমাদের স্মৃতিতে বসে যাবে। এর জন্য আমাদের প্রত্যেকটি সুরা শেষ হওয়ার পর পুরো সুরাটি বারবার তিলাওয়াত করা জরুরি।
অনেক হাফেজের ক্ষেত্রে এমন হয়, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি অনুসরণ না-করার ফলে যে অংশ নিয়ে বর্তমান চর্চা অব্যাহত রাখে, তা ভালোভাবে শোনাতে পারলেও যখন একই সুরার পরের অংশে এগিয়ে যায়, তখন পূর্ববর্তী সেই অংশ শোনাতে গেলে আটকে যায়—আর স্মরণ করতে পারে না। তবে কেউ যদি তখন সেই অংশের শুরুটা বলে দেয়, তখন আবার সে নির্বিঘ্নে পুরো আয়াত বলে ফেলতে পারে, কিন্তু পরবর্তী অংশের শুরুতে গিয়ে আবারও বাঁধে একই বিপত্তি...! অতএব, শক্তিশালী হিফজ ও সাবলীল তিলাওয়াতের জন্য আমরা কোনোমতেই এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারি না—বিশেষত যে-সকল হাফেজ নামাজের ইমামতি করেন; তদুপরি যারা লম্বা কিরাআতের নামাজ, যেমন: ফজর, তারাবিহ এবং তাহাজ্জুদের ইমামতি করেন।
📄 হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
হিফজকে সুদৃঢ় করার অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হলো হিফজুল কুরআনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। কারণ, মানুষের সামনে কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় থাকলে স্বভাবতই সে সেখানে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রচেষ্টা ব্যয়ে উদ্যোগী হয়ে থাকে। ঠিক তদ্রূপ হিফজের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার ভাবনা থাকলে, ব্যক্তি দ্রুততম সময়ে এবং সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে তা আয়ত্ত করতে উৎসাহী হবে। দেখুন, আল্লাহ তাআলা বলছেন,
﴿وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ ﴾
“এ বিষয়ে (আল্লাহর আনুগত্য) প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।” [সুরা মুতাফফিফিন: ২৬]
তবে আপনি আপনার নিয়তের প্রতি খেয়াল রাখুন! সর্বদা তাকে ইখলাসমুখী রাখার প্রতি সচেষ্ট থাকুন! পুরস্কার অর্জন বা বিজয়ী হওয়ার কাছে তা বিকিয়ে দেবেন না! বরং নিয়তকে রাখুন পরিষ্কার ও একনিষ্ঠ...।
এভাবে ভাবুন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমি কেবল আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যেই হিফজকে শক্তিশালী করছি।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা যদি না-ও থাকে, তবু সমস্যা নেই। সে ক্ষেত্রে আপনি মসজিদ, কর্মক্ষেত্র, কলেজ- ভার্সিটি, সংস্থা-সংগঠন, এমনকি এলাকাভিত্তিকভাবেও এর আয়োজন করতে পারেন। বিশেষত সে-সব বাচ্চাদের জন্য, যারা পুরস্কার পেলে উৎসাহ বোধ করে...।
সংঘবদ্ধভাবে কয়েকজন মিলে হিফজ করলে পর্যায়ক্রমিকভাবে একে অপরের হিফজ শোনার জন্য সময় নির্ধারণ করে নিতে পারেন। আর যার তত্ত্বাবধানে হিফজের আসর অনুষ্ঠিত হয়, হিফজকারীদের উৎসাহ প্রদান আর হতোদ্যমদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনার জন্য তার উচিত তাদের জন্য হালকা ধরনের কিছু আয়োজন-উপহারের ব্যবস্থা করা।
📄 সহায়ক নিয়মগুলোর সংক্ষিপ্ত ‘স্মরণিকা’
১. পাঁচ বছরমেয়াদি একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করুন।
২. সংঘবদ্ধ হয়ে শুরু করুন।
৩. একটি ছোট কুরআন সাথে রাখুন।
৪. জাহরি নামাজে ইমামের কিরাআত মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
৫. সহজ অংশ দিয়ে শুরু করুন।
৬. নির্দিষ্ট অনুলিপি ব্যবহার করুন।
৭. হিফজ পোক্ত না-করে সামনে এগোনো থেকে বিরত থাকুন।
৮. নতুন সুরা শুরু করার পূর্বে মুখস্থ সুরাগুলো আলাদা আলাদাভাবে স্মৃতিতে বসিয়ে নিন।
৯. মুতাশাবিহাত (সাদৃশ্যপূর্ণ) আয়াতগুলোর প্রতি মনোযোগ দান করুন।
১০. হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিন।